‘কোনও কথা দেওয়া হয়নি’, ট্রাম্পের শুল্ক কমানোর দাবি কার্যত খারিজ করে দিল ভারত
কিছুদিন আগেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প উল্লেখ করেছিলেন, তাঁর কথাতেই নাকি ভারত আমদানি শুল্ক কমাতে রাজি হয়েছে। ট্রাম্পের হুঁশিয়ারিতেই নাকি ভারত পিছু হটেছে। কিছুদিন আগে এমনটা দাবি করেছিলেন খোদ ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর এবার সেই দাবিকে কার্যত নস্যাৎ করল ভারত।
মার্কিন রাষ্ট্রপতি ডোনাল্ড ট্রাম্পের দাবি সত্ত্বেও, ভারত মার্কিন পণ্যের উপর আমদানি শুল্ক কমানোর কোনও প্রতিশ্রুতি দেয়নি, এমনটাই জানিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। মঙ্গলবার একটি সংসদীয় প্যানেলকে কেন্দ্র জানিয়েছে, "এই বিষয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কাছে আমরা কোনও প্রতিশ্রুতি দিইনি"।

সরকার স্পষ্ট করেছে যে তারা আমেরিকার রাষ্ট্রপতির উত্থাপিত সমস্যাগুলোর সমাধানের জন্য সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময় চেয়েছে। বাণিজ্য সচিব সুনীল বার্থওয়াল জানিয়েছেন যে ভারত ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র একটি দীর্ঘমেয়াদী বাণিজ্য চুক্তির দিকে কাজ করছে, তাৎক্ষণিক শুল্ক সমন্বয় নয়। তাই খানিকটা সময় দিতে হবে তাদেরকেও।
গত শুক্রবার ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছিলেন যে ভারত শুল্ক কমাতে সম্মত হয়েছে। তিনি বলেছিলেন - "ভারত আমাদের পণ্যের উপর বিশাল শুল্ক আরোপ করে। ভারতে কিছু বিক্রি করাও কঠিন। তবে তারা এখন তাদের শুল্ক কমাতে সম্মত হয়েছে কারণ কেউ অবশেষে তাদের মুখোশ খুলে দিয়েছে"।
- মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিক্রিয়া
মার্কিন বাণিজ্য সচিব হাওয়ার্ড লুটনিক অভিযোগ করেছেন যে ভারতের শুল্ক বিশ্বব্যাপী সর্বোচ্চ। তিনি ভারতকে তার অবস্থান পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়ে বলেছেন যে দুই দেশের মধ্যে 'বিশেষ' বাণিজ্যিক সম্পর্ক রয়েছে। তাই ভারতের সেই দিকটা বিবেচনা করে দেখা উচিত। কিন্তু এদিন এতকিছুর পরও, ভারতের প্রতিক্রিয়া খানিকটা হটকে বলেই মনে করছেন কূটনীতিকরা।
সোমবার মার্কিন শেয়ারবাজারে পতন দেখা গেছে, কারণ বিনিয়োগকারীরা ট্রাম্পের শুল্ক নীতির ফলে অর্থনৈতিক প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। আপাতত, ভারত স্পষ্ট করে দিয়েছে যে তারা শুল্ক কমানোর কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিশ্রুতি দেয়নি। তবে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদী বাণিজ্যিক চুক্তির সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা চলছে। এখন দেখার বিষয়, এই কূটনৈতিক টানাপোড়েন কীভাবে প্রভাব ফেলবে ভারত-মার্কিন বাণিজ্য সম্পর্কে।












Click it and Unblock the Notifications