ইউপিএস ব্যবস্থার মাধ্যমে কর্মচারী ও সরকার, দুই পক্ষের স্বার্থই সুরক্ষিত করেছে মোদী সরকার
পেনশন সিস্টেম নিয়ে ভারতে যে অসন্তোষ তৈরি হচ্ছিল, নরেন্দ্র মোদী সরকারের আনা ইউনিফায়েড পেনশন স্কিম (ইউপিএস) সেই ক্ষতে অনেকটাই প্রলেপ দিল। কেন্দ্র সরকারের এই নতুন স্কিম আদতে পূর্ববর্তী স্কিমগুলির ত্রুটি এড়িয়ে একটি সমাধান সূত্র বের করে, সরকারি কর্মচারীদের দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতাকে নিশ্চিত করার চেষ্টা করেছে। আসুন এবার জেনে নেওয়া যাক- এই ইউপিএসের পিছনে কোন যুক্তি রয়েছে এবং পুরনো পেনশন স্কিমের থেকে এটি কত আলাদা।
ভারতের সুবিশাল পেনশন সিস্টেমের নানা আঙ্গিক এবং চাহিদাকে মাথায় রেখে অত্যন্ত কুশলতার সঙ্গে ইউনিফায়েড পেনশন স্কিম বা ইউপিএস ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। পুরনো পেনশন স্কিম বা ওপিএস-এর থেকে এটি আলাদা। কংগ্রেস দল ওপিএসকে সমর্থন করে আসছিল। অন্যদিকে ইউপিএস রাজ্য সরকারগুলি যাতে অর্থনৈতিক বিপর্যয় এড়াতে পারে তা মাথায় রেখে ডিজাইন করা হয়েছে। অতীতে বিভিন্ন রাজ্য সরকারের দ্বারা বাস্তবায়িত ওপিএস- দিনের শেষে সেরাজ্যের সরকারকে বারবার আর্থিক অস্বস্তিতে ফেলেছে। ওপিএসের মাধ্যমে যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল তা সরকারের ঘাড়ে এক বিরাট আর্থিক বোঝা চাপিয়ে দেয়। ফলে আশি-নব্বই এবং তার পরের দশকে কালক্রমে এমন পরিস্থিতি দাঁড়ায় যখন রাজ্য সরকারগুলি বেতন দিতেও বহুমুখী সমস্যার মধ্যে পড়ে, সামাজিক উন্নয়নমূলক কাজে অর্থ বরাদ্দ সমস্যা হয়ে যায়, এমনকী পরিকাঠামোগত উন্নয়নের ক্ষেত্রেও অর্থনৈতিক বাধার সম্মুখীন হতে হয় রাজ্য সরকারগুলিকে।

এর উল্টোদিকে ইউপিএস সঠিক আর্থিক নীতির উপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়েছে। এটি একটি ভারসাম্যপূর্ণ পদ্ধতি মাথায় রেখে সরকার তৈরি করেছে। যার ফলে নিশ্চিত পেনশন দেওয়ার পরেও দেউলিয়া হওয়ার সম্ভাবনা এড়ানো সম্ভব হয়েছে। এই ইউপিএস সিস্টেমে আগের ওপিএস-এর মত ওপেন এন্ডেড আর্থিক প্রতিশ্রুতি নেই। যার ফলে সরকারের ওপর অত্যধিক আর্থিক চাপ কম আসবে এবং অন্যান্য যে ক্ষেত্রগুলি যেমন সমাজ কল্যাণ এবং পরিকাঠামো উন্নয়নের ক্ষেত্র- তা অবহেলিত হবে না।
তবে এই ইউপিএস সিস্টেমও সমালোচনার মুখে পড়েছে। বিশেষ করে কংগ্রেস দল এই ইউপিএস সিস্টেম নিয়ে কেন্দ্রের নরেন্দ্র মোদী সরকারকে কটাক্ষ করতে ছাড়েনি। যদিও কংগ্রেসের প্রত্যেকটি অভিযোগ ফুৎকারে উড়িয়ে দিয়েছেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমন। তিনি বলেছেন, এই ইউপিএস পুরনো পেনশন সিস্টেমের রোল ব্যাক নয়, বা ঘুরিয়ে ওপিএসকেই ফিরিয়ে আনা নয়। বরং কর্মচারীদের প্রয়োজন এবং ফিডব্যাককে মাথায় রেখে নীতিতে এক বিরাট ইতিবাচক পরিবর্তন করা হয়েছে।
কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমন আরও বিশ্লেষণ করে বলেছেন, নতুন স্কিমে পুরনো ওপিএস এবং নতুন এনপিএস উভয়ের ত্রুটিগুলিকেই যাতে মোকাবিলা করা যায়- তা মাথায় রেখেই এটি ডিজাইন করা হয়েছে। এবং সবচেয়ে বড় কথা, যাতে কর্মচারীদের স্বার্থ বজায় থাকে এবং সরকার আর্থিক ভারসাম্য বজায় রেখে উন্নয়নমূলক প্রকল্পগুলিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারে, এটা এই দুটি বিষয়কেই সর্বোচ্চ প্রাধান্য দিয়ে তৈরি করা হয়েছে। ইউপিএস তার পরিকাঠামো এবং উদ্দেশ্যের দিক থেকে আলাদা আর সেজন্যই এটির নতুন নামকরণ করা হয়েছে। পাশাপাশি শুধু জোর করে নয়, ভাবনা এবং পদ্ধতিগত দিক থেকেও এটি স্বতন্ত্র, আর সেজন্যই এটি একটি নতুন নীতি- এমনটাই দাবি করেছেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমন।
এই ইউপিএস ব্যবস্থাটি ভারতের মতো সুবিশাল এবং বৈচিত্রপূর্ণ দেশের সেবা করার জন্য তৈরি করা হয়েছে। এটির মূল লক্ষ্য, অবসরের পরেও যাতে সরকারি কর্মচারীরা একটি নিরাপদ জীবন অতিবাহিত করতে পারেন। এবং পাশাপাশি সরকার আর্থিক দায়িত্বগুলি সঠিকভাবে পালন করার মতো অবস্থায় থাকে। ওপিএস যেখানে দীর্ঘমেয়াদি সুরক্ষার কথা বিবেচনা না করেই একটি নির্দিষ্ট পেনশনের গ্যারান্টি দেয় এবং অন্যদিকে এনপিএস কর্মচারীদের ঘাড়ে মাত্রাতিরিক্ত ঝুঁকির বোঝা চাপায়, সেখানে ইউপিএস দুটির মাঝে একটি সমতা রক্ষাকারী অবস্থা- যা দুই পক্ষের জন্যই অত্যন্ত সুরক্ষিত এবং নির্ভরযোগ্য।
ইউপিএস-এর মাধ্যমে সরকারি কর্মচারী এবং সরকার- উভয়ই পেনশন তহবিলে অবদান রাখবে, যা ভালো কোনও রিটার্ন পাওয়ার জন্য বিনিয়োগ করা হবে। এই পদ্ধতির মাধ্যমে নিশ্চিত করা হয় যাতে সরকারি কর্মচারীরা অবসরের পরে একটি ভালো পেনশন পান এবং সরকারও আর্থিক বোঝার ভারে নুইয়ে না পড়ে। অর্থনৈতিক স্বনির্ভরতার কথা ভেবে যে সামগ্রিক আর্থিক নীতিকে সামনে রেখে মোদী সরকার এগিয়ে চলছে এই ইউপিএস পদ্ধতি তারই অংশ।
ভারতের মতো বৃহৎ দেশে এমন এক পেনশন সিস্টেম প্রয়োজন ছিল যা নমনীয় অথচ ভরসাযোগ্য। ফলে এই ইউপিএস সিস্টেম সরকারের অর্থনৈতিক দিকটি যেমন সুনিশ্চিত করেছে তেমনই অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারীদের স্বার্থকেও সুরক্ষিত করেছে।
জনকল্যাণের পরিপূরক: অন্য আর্থিক নীতিগুলি
গত কয়েক বছরে জনস্বার্থের কথা মাথায় রেখে উন্নয়নমূলক যে ভাবনা নিয়ে মোদী সরকার এগিয়েছে এই ইউপিএস সিস্টেম তারই অংশ। প্রধানমন্ত্রী জনধন যোজনা, প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা, অথবা স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পের মতোই এই ইউপিএস প্রকল্প বিরাট জনসংখ্যার সুবিধার কথা মাথায় রেখেই তৈরি করা হয়েছে।
এই প্রত্যেকটি সামাজিক উদ্যোগ ইউপিএস-এর মতোই কেন্দ্রের মোদী সরকারের সামাজিক নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে এগিয়ে চলার যে দৃষ্টিভঙ্গি, এবং জনগণকে তার ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত করতে দেওয়ার যে প্রয়াস - তাকেই নিশ্চিত করে। ইউপিএস নিশ্চিত করে যাতে একজন সরকারি কর্মচারী নিজের সম্মান এবং যোগ্যতার সঙ্গে অবসর নেন এবং তাঁর ভবিষ্যতও সুরক্ষিত থাকে। একইসঙ্গে সরকারও যাতে আর্থিক অসুবিধার মধ্যে না পড়ে জনকল্যাণমূলক প্রকল্পগুলিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারে।
-
বাংলায় বিজেপি নাকি তৃণমূল, কারা গড়বে সরকার? কী বলছে সাম্প্রতিক জনমত সমীক্ষা -
ভোটের ময়দানে প্রস্তুত বিজেপি! আরও ১৩টি কেন্দ্রে প্রার্থীদের নাম ঘোষণা পদ্ম-শিবিরের, কোথায় কে? জেনে নিন -
ষষ্ঠ সাপ্লিমেন্টারি ভোটার লিস্ট প্রকাশ করল নির্বাচন কমিশন! কতজনের নাম রয়েছে? বাদের খাতায় কত জন? -
বনগাঁ দক্ষিণ কেন্দ্রে ভোটের আগে বিতর্ক, তৃণমূল প্রার্থীর শংসাপত্র নিয়ে হাই কোর্টে বিজেপি প্রার্থীর চ্যালেঞ্জ -
শোকস্তব্ধ বিজয়গড়! ছেলের শোকে ভেঙে পড়েছেন রাহুলের মা, কেমন আছেন পরিবারের বাকিরা? -
মমতা আইনের ঊর্ধ্বে নন, কড়া পদক্ষেপের দাবি জানিয়ে মন্তব্য শুভেন্দুর, তুললেন গুরুতর অভিযোগ -
তৃণমূলের ধাক্কা! মুখ্যসচিব-সহ আধিকারিক অপসারণের বিরুদ্ধে মামলা খারিজ করল হাই কোর্ট, কমিশনের সিদ্ধান্ত বহাল -
আজও বাংলায় ঝড়-বৃষ্টির সম্ভাবনা, কোন জেলাগুলি ভিজবে? কী বলছে হাওয়া অফিস? জানুন আবহাওয়ার লেটেস্ট আপডেট -
সকালেই বিজ্ঞপ্তি, রাতের মধ্যেই মনোনয়ন জমা, রাজ্যে ভোটের আবহে তৎপর প্রার্থীরা -
নজরে পুরসভাগুলি, ভবিষ্যৎ মনে করিয়ে তৃণমূল নেতৃত্বের কড়া নির্দেশিকা কাউন্সিলরদের জন্য -
ইরানের হুমকি! এপ্রিলের শুরু থেকেই হামলা হতে চলেছে গুগল-অ্যাপল সহ ১৮টি মার্কিন কোম্পানিতে -
ইডেনে প্রথম জয়ের সন্ধানে কেকেআর-সানরাইজার্স, দুই দলের একাদশ কেমন হতে পারে?












Click it and Unblock the Notifications