Get Updates
Get notified of breaking news, exclusive insights, and must-see stories!

গঙ্গা ও যমুনার জলে মারাত্মক ব্যাকটেরিয়ার সন্ধান! মহা কুম্ভে গেলে রোগ এড়াতে কী করণীয়?

Maha Kumbh: মহা কুম্ভে পুণ্য অর্জনের জন্য যাচ্ছেন কোটি কোটি পুণ্যার্থী। পুণ্য স্নানও সারছেন। শাহী স্নানের দিনে ব্যাপক ভিড় হচ্ছে। কিন্তু জানেন কি, যে জলে স্নান করছেন সকলে তা কতটা নিরাপদ?

কেন্দ্রীয় দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদের একটি রিপোর্টের প্রেক্ষিতে প্রয়াগরাজে গঙ্গা ও যমুনার জলের গুণমান নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করল ন্যাশনাল গ্রিন ট্রাইব্যুনাল। কেন না, নদীর জলে মিলেছে উচ্চ মাত্রার ফেকাল কলিফর্ম ব্যাকটেরিয়া!

Maha Kumbh

এই ধরনের ব্যাকটেরিয়া আসে মানুষ ও প্রাণীদের মল থেকে। শাহী স্নানের দিনগুলিতে বিভিন্ন পয়েন্টে জলের মধ্যে এই ধরনের ব্যাকটেরিয়া বিপজ্জনক মাত্রায় রয়েছে বলে রিপোর্টে উল্লেখ। এগুলি যেমন জলে অক্সিজেনের পরিমাণ কমিয়ে দিয়ে বাস্তুতন্ত্রে আঘাত হানে, তেমনই ক্ষতিকর মানুষের জন্যেও।

সিপিসিবির রিপোর্ট অনুযায়ী, জৈব রাসায়নিক অক্সিজেনের চাহিদার কথা মাথায় রেখে এই ব্যাকটেরিয়া বেশি থাকলে সেই জল স্নান করার অনুপযুক্ত। জলের যে প্রাথমিক গুণমান, তাতে প্রয়াগরাজে গঙ্গা ও যমুনার জলে ফেকাল কলিফর্ম খুব বেশি পরিমাণে মেলায় স্নান করা একেবারেই ঠিক নয় বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

এই ধরনের ব্যাকটেরিয়া থেকে টাইফয়েড, গ্যাসট্রোএন্টারিটিস, আমাশয়-সহ নানাবিধ রোগ হতে পারে। এমনকী শ্বাসকষ্টের সমস্যাও দেখা দিতে পারে। উল্লেখ্য, জলের গুণমান পরীক্ষা করা হয়েছিল ১২ ও ১৩ জানুয়ারি এবং তখন পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা চালু ছিল।

২০০৪ সালে কেন্দ্রীয় নগরোন্নয়ন মন্ত্রক জানিয়েছিল, ফেকাল কলিফর্মের মাত্রা প্রতি ১০০ মিলিলিটারে ৫০০ এমপিএন রাখা বাঞ্ছনীয়। নদীতে ছাড়ার জন্য সর্বাধিক মাত্রা ধার্য করা হয়েছিল প্রতি ১০০ মিলিলিটারে ২৫০০ এমপিএন। মহা কুম্ভ আয়োজন সংক্রান্ত নির্দেশিকাতেও বলা ছিল গঙ্গা ও যমুনায় জলে ফেকাল কলিফর্মের মাত্রা যেন সর্বাধিক মাত্রাকে লঙ্ঘিত না করে।

কিন্তু কোথায় কী? সিপিসিবি-র রিপোর্টে দেখা যাচ্ছে শাস্ত্রী ব্রিজের আগে ও সঙ্গমে গঙ্গার জলে ফেকাল কলিফর্মের মাত্রা ছিল প্রতি মিলিলিটারে যথাক্রমে ১১ হাজার এমপিএন ও ৭৯০০ এমপিএন। উল্লেখ্য, এই দুটি স্থানের দূরত্ব ২ কিলোমিটার। গঙ্গায় মিলিত হওয়ার আগে পুরানো নৈনী ব্রিজের কাছে যমুনায় এই মাত্রা ধরা পড়েছে প্রতি ১০০ মিলিলিটারে ৪৯০০ এমপিএন।

বসন্ত পঞ্চমীতে শাহী স্নান ছিল। তার পরের দিন ৪ ফেব্রুয়ারি জলের এই গুণমান যাচাই হয়েছিল। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের মতে, পান করা দূরের কথা, এমন জলে স্নান করাই অনুচিত।

কিছু চিকিৎসক জানিয়েছেন যে, মহা কুম্ভে যাওয়া লোকজনদের মধ্যে অনেক কম শতাংশ হলেও কিছু মানুষ নানা রোগ নিয়ে আসছেন। বমি বমি ভাব, পাতলা পায়খানা, অজানা জ্বল, চামড়ার রোগ তার মধ্যে থাকছে। ভোর তিনটে স্নান করলে ঠান্ডা লাগার সমূহ সম্ভাবনা থাকে। ফলে অনেকের সর্দি-কাশি, নাক বন্ধ, শ্বাসকষ্টের মতো সমস্যাও দেখা যাচ্ছে।

কলিফর্ম ব্যাকটেরিয়ার জলে উপস্থিতির সন্ধান মেলায় ভাইরাস, সালমোনেলা, ই, কলির দ্বারা রোগাক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনাও থাকছে। এই রিপোর্ট অস্বস্তিতে ফেলছে উত্তরপ্রদেশ সরকারকে এবং বিশেষ করে যারা গঙ্গার জলের মান ঠিক রাখার দায়িত্বে তাদের।

বিশেষজ্ঞরা তাই পরামর্শ দিচ্ছেন, মহা কুম্ভে গেলে প্রয়োজনে বাড়ি থেকে পর্যাপ্ত জল নিয়ে যান। ভালো জায়গা থেকে অথবা নিজেদের বোতল থেকে জল পান করা উচিত। ভালো, স্বাস্থ্যকর জায়গা থেকে রান্না করা খাবার খান। খোলা জায়গায় রাখা বা কাঁচা কোনও খাবার খাওয়া থেকে বিরত থাকুন। মাস্ক পরুন। শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখুন। স্নানের সময় খেয়াল রাখুন জল যেন মুখের ভিতর না যায়।

More From
Prev
Next
Notifications
Settings
Clear Notifications
Notifications
Use the toggle to switch on notifications
  • Block for 8 hours
  • Block for 12 hours
  • Block for 24 hours
  • Don't block
Gender
Select your Gender
  • Male
  • Female
  • Others
Age
Select your Age Range
  • Under 18
  • 18 to 25
  • 26 to 35
  • 36 to 45
  • 45 to 55
  • 55+