রাশিয়া-ইউক্রেন দ্বন্দ্বের মাঝেও সারে ভর্তুকি দিয়ে ভবিষ্যতকে সুনিশ্চিত করার পরিকল্পনায় ব্রতী মোদী সরকার
রাশিয়া এবং ইউক্রেন যুদ্ধের ফলে বিশ্ব বাজারে সারের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। যা ভারতকে সমস্যায় ফেলেছে। কারণ, ভারত সার আমদানিতে বেশি মাত্রায় নির্ভরশীল।
নাইট্রোজেন, পটাশিয়াম এবং ফসফরাস সমৃদ্ধ সার রপ্তানিতে রাশিয়া বিশ্বের অন্যতম বড় দেশ। সেখানে সমস্যা হওয়ায় ভারত তা আমদানি করতে গিয়ে সমস্যায় পড়েছে।

আর এই সমস্যার সমাধানে অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে উদ্যোগ নিয়েছে কেন্দ্রের নরেন্দ্র মোদী সরকার। যাতে কৃষকদের গায়ে আঁচ না লাগে।
- কৃষক স্বার্থ রক্ষা এবং ভর্তুকি
নানা কারণে বেড়ে যাওয়া সারের দাম যাতে কৃষকের গায়ে ছ্যাঁকা দিতে না পারে, সেজন্য ভারত সরকার ২০২২-২৩ সালে সারের ভর্তুকিতে ২.২৫ লক্ষ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে। আন্তর্জাতিক বাজারে যেভাবে সারের দাম বেড়েছে, তা যাতে ভারতের কৃষকদের দুশ্চিন্তায় না ফেলে সেটা মাথায় রেখেই সরকারের এই পদক্ষেপ।
২০২৩-২৪ অর্থবর্ষে সারে ভর্তুকি দেওয়া হয়েছে ১.৮৯ লক্ষ কোটি টাকা। তার আগের বছরের থেকে তা কিছুটা কম হলেও ভারত সরকার সারের দামে ভর্তুকি দিয়ে কৃষকদের স্বস্তি দিতে পিছপা হয়নি।
- আর্থিক এবং অন্যান্য প্রভাব
সারে ভর্তুকি দিয়ে কৃষকদের স্বার্থ সুরক্ষিত করা গেলেও তার প্রভাব পড়েছে অন্য ক্ষেত্রগুলিতে। বিশেষ করে কর্মসংস্থান তৈরি, পরিকাঠামো উন্নয়ন এবং সামাজিক উন্নয়নমূলক বিভিন্ন কাজের টাকা থেকে অনুদান কেটে সারে ভর্তুকি দেওয়া হয়েছে।
কোথায় কোথায় সমস্যা হয়েছে?
- চাকরির সুযোগ তৈরি এবং পরিকাঠামো
সারের দামে যে ভর্তুকি দেওয়া হয়েছে তা দিয়ে নতুন কর্মসংস্থান তৈরির সুযোগ ছিল। এমনকী বিভিন্ন পরিকাঠামগত উন্নয়ন করা যেত, তা করা যায়নি। বদলে কৃষকদের স্বার্থ সুরক্ষিত রাখতে সরকার তৎপরতা দেখিয়েছে।
- সামাজিক উন্নয়নমূলক প্রকল্প
আন্তর্জাতিক বাজারে কৃষিক্ষেত্রে যে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে তা আটকাতেই সরকার চূড়ান্ত উদ্যোগী হয়েছে। সমাজের পিছিয়ে পড়া শ্রেণির মানুষের জন্য যে সমস্ত উন্নয়নমূলক প্রকল্পে ব্যয়বরাদ্দ করা ছিল, সেখান থেকে কিছুটা বাজেট কেটে নিয়ে কৃষকদের স্বার্থের দিকটি সুরক্ষিত করা হয়েছে।
- কূটনীতি এবং সরবরাহ ঠিক রাখা
ভারত শুধু যে কৃষকদের ভর্তুকি দিয়ে পরিস্থিতি মোকাবিলা করেছে, তা নয়। রাশিয়ার সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করেছে। বৈশ্বিক স্তরে দ্বন্দ্বের আবহাওয়া থাকলেও রাশিয়া থেকে ভারত সারের আমদানি বজায় রেখেছে। শুধু তাই নয়, আগের থেকে সারের আমদানি অনেকটাই বৃদ্ধি করেছে।
- দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা
সারের দামে ভর্তুকি দিয়ে তৎকাল স্বস্তি দেওয়ার পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদী সমাধানের পথ কী হতে পারে, তা নিয়েও পরিকল্পনা করেছে নরেন্দ্র মোদী সরকার। আমদানি কমিয়ে দেশে সারের উৎপাদন বাড়ানো, টেকসই কৃষি ব্যবস্থার অনুশীলন চালানো এবং তাতে কম সারের প্রয়োগের মতো পরিকল্পনা করা হয়েছে। পাশাপাশি পরিকাঠামোয় বিনিয়োগ করে সরবরাহ ব্যবস্থাকে আরও উন্নত করে তোলার চেষ্টা হচ্ছে।
অবশেষে বলা যায়, প্রধানমন্ত্রীর নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে কেন্দ্র সরকার এক অসাধারণ সমতা বজায় রেখে কৃষকদের যেমন আগলে রেখেছে, ঠিক তেমনই, সাধারণ মানুষের গায়েও আঁচ পড়তে দেয়নি। মূল ফোকাস রেখেছে খাদ্য সুরক্ষাকে নিশ্চিত করা এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতাকে বজায় রাখার ক্ষেত্রে। এবং একইসঙ্গে বিদেশ থেকে আমদানি কমিয়ে স্বয়ংসম্পূর্ণ হয়ে এক দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনাকে যাতে বাস্তব রূপ দেওয়া যায়, মোদী সরকার সেই প্রচেষ্টাই করে চলেছে।












Click it and Unblock the Notifications