Get Updates
Get notified of breaking news, exclusive insights, and must-see stories!

তুষারের দাপটে অচল মানালি, ১৫ কিমি জ্যাম, বিদ্যুৎ ও জল সঙ্কট

পশ্চিম হিমালয়ের বরফাচ্ছাদিত সৌন্দর্য গত ৪৮ ঘণ্টায় পরিণত হয়েছে শীতের কঠোর পরীক্ষায়। হিমাচল প্রদেশ, উত্তরাখণ্ড ও কাশ্মীর জুড়ে টানা তুষারপাত যেমন ফিরিয়ে এনেছে পর্যটকদের উন্মাদনা, তেমনই সৃষ্টি করেছে নজিরবিহীন বিপর্যয়, রাস্তায় থমকে থাকা শত শত গাড়ি, অচলাবস্থা, বিদ্যুৎ ও জল সরবরাহে বিপর্যয় ও রাতভর আটকে পড়া অসংখ্য মানুষ।

সবচেয়ে বড় ধাক্কা লেগেছে মানালি ও শিমলার মতো জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে। প্রজাতন্ত্র দিবসের লম্বা ছুটিতে পর্যটকের স্রোত তুষারের সাথে মিশে তৈরি করেছে লম্বা যানজট। মনালির পথে তৈরি হয়েছে প্রায় ১৫ কিমি দীর্ঘ ট্রাফিক লাইন। অনেক পর্যটক রাত কাটিয়েছেন গাড়ির ভেতরেই, হিটার ও খাবার বলতে ছিল কেবল পোর্টেবল সিলিন্ডারে রান্না করা ম্যাগি।

পর্যটকদের অভিযোগ, সরকারি পরিবহন বন্ধ থাকায় ব্যক্তিগত ট্যাক্সিরা সুযোগ নিচ্ছে, ২০ কিমির যাত্রায় নেওয়া হচ্ছে ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা!

হিমাচল রাজ্য বিপর্যয় ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের হিসাব বলছে, এদিন রাজ্যের ৬৮৩টি রাস্তা ছিল অবরুদ্ধ, যার মধ্যে দুটি জাতীয় সড়কও অন্তর্ভুক্ত। পাহাড়ের ওপরের অংশে কোথাও ২.৫ থেকে ৩ ফুট, কোথাও আবার ৪ ফুট পর্যন্ত বরফ পড়ায় রাস্তা পরিষ্কার করতেও বাড়তি সময় লাগছে। জেবিসি ও পোকলাইন যন্ত্র দিয়ে চলছে রাস্তায় বরফ সরানোর লড়াই।

এদিকে বিদ্যুৎ ও জলের পরিস্থিতিও কম ভয়াবহ নয়, ৫,৭৭৫টি ডিস্ট্রিবিউশন ট্রান্সফরমার অকেজো, ১২৬টি জল সরবরাহ প্রকল্প বন্ধ। সিমলার বহু জায়গা ৩০ ঘণ্টার বেশি বিদ্যুৎহীন, গ্রামাঞ্চলে পুনর্বহাল হতে আরও ৫ থেকে ৬ দিন লেগে যেতে পারে। ১,২০০টিরও বেশি রুটে বাস পরিষেবা স্থগিত।

সর্বাধিক ক্ষতিগ্রস্ত জেলার মধ্যে রয়েছে লাহাউল-স্পিতি, মাণ্ডি, চম্বা, কুলু ও সিরমৌর। লাহাউল-স্পিতিতেই অবরুদ্ধ রাস্তা ২৯০টি। আতল টানেল পেরিয়ে মনালি থেকে লাহাউল সংযোগও বন্ধ।

তবুও বরফের টানে বাড়ছে পর্যটন, সিমলায় হোটেল দখলের হার ছুঁয়ে ফেলছে ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ। তবে বিদ্যুৎ বিভ্রাট আতঙ্কে হোটেল মালিকরা নিজেরাই জেনারেটর চালিয়ে অতিথিদের সুবিধে দিচ্ছেন।

অন্যদিকে চলছে উদ্ধার অভিযান, কুলুর রঘুপুর ফোর্টের কাছে আটকে পড়া ১২ জন পর্যটককে পুলিশ ও স্থানীয়রা উদ্ধার করেছে। উত্তরাখণ্ডে ইয়ামুনোত্রী হাইওয়েতে ৫০টি গাড়িতে আটকে থাকা ২০০ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে, নৈনিতাল ও তেহরিগড়ওয়ালেও উদ্ধার তৎপরতা চলেছে।

কাশ্মীরে তুষারপাত আরও তীব্র, গুলমার্গ ও তাংমার্গ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে ১,৬০০ এর বেশি পর্যটক। গুলমার্গে বরফের স্তর ছুঁয়েছে ৫০ সেমি, উঁচু পাহাড়ে ৪ ফুট পর্যন্ত।

আগামী ২৬ থেকে ২৮ জানুয়ারি আরও এক দফা বৃষ্টি ও তুষারপাতের পূর্বাভাস থাকায় হিমাচল সরকার নতুন করে সতর্কতা জারি করেছে। জেলা প্রশাসনকে জরুরি কেন্দ্র চালু রাখতে বলা হয়েছে, আর বাসিন্দা ও পর্যটকদের বলা হয়েছে অযথা রাস্তায় না বেরোতে ও আবহাওয়ার খবরে সতর্ক থাকতে।

তুষারের সৌন্দর্য মানুষকে টানে ঠিকই, কিন্তু প্রকৃতির সামান্য খামখেয়ালিতেই পাহাড়ি পর্যটনকেন্দ্রগুলো কিভাবে বিপর্যয়ের মুখে পড়ে, হিমালয় আবারও তার কঠোর পাঠ শেখাল।

More From
Prev
Next
Notifications
Settings
Clear Notifications
Notifications
Use the toggle to switch on notifications
  • Block for 8 hours
  • Block for 12 hours
  • Block for 24 hours
  • Don't block
Gender
Select your Gender
  • Male
  • Female
  • Others
Age
Select your Age Range
  • Under 18
  • 18 to 25
  • 26 to 35
  • 36 to 45
  • 45 to 55
  • 55+