হাইকোর্টের 'বিশেষ' অনুমতির পরে বাবাকে অঙ্গদান কন্যার! দেশের সর্ব কনিষ্ঠ অঙ্গদাতার স্বীকৃতি
দেশে অপ্রাপ্তবয়স্কদের অঙ্গদানের কোনও অনুমতি নেই। তবে আদালতের অনুমতি নিয়ে দ্বাদশ শ্রেণি ছাত্রা দেবানন্দা বাবাকে অঙ্গদান করেছেন।
বাবাকে অঙ্গ দান করে দেশের সর্বকনিষ্ঠ অঙ্গদানকারীর স্বীকৃতি পেল দেবানন্দা। সে কেরলের বাসিন্দা। ১৭ বছরের দেবানন্দা দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্রী। দেবানন্দার সাহসী প্রচেষ্টার প্রশংসা করে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ অস্ত্রোপচারের খবর মকুব করে দেয়।

দেশের আইনে অপ্রাপ্তবয়স্কদের অঙ্গদানের অনুমতি নেই। ১৯৯৪ সালের মানব অঙ্গ প্রতিস্থাপন আইন অনুসারে অপ্রাপ্ত বয়স্কদের অঙ্গদানে অনুমতি দেওয়ার বিধান নেই। সেক্ষেত্রে বয়স ১৭ হওয়ায় দেবানন্দা অপ্রাপ্তবয়স্ক ছিল। অথচ সে ছিল পুরোপুরি সুস্থ। পরিবার উপযুক্ত দাতা খুঁজে না পাওয়ায় বাবা প্রথেশের জন্য লিভার দিতে চিকিৎসকরা তাকে পছন্দ করেছিলেন। তবে কেরল হাইকোর্টের অনুমতি পাওয়ার পরে দেবানন্দা ৯ ফেব্রুয়ারি তাঁর বাবাকে নিজের লিভারের একটি অংশ দান করে। এখন বাবা-মেয়ে দুজনেই পুরোপুরি সুস্থ রয়েছে।
প্রকাশিত খবর অনুযায়ী, ৪৮ বছর বয়স্ক প্রথেশ নামে ওই ব্যক্তি ত্রিশুরে একটি ক্যাফে চালান। তিনি দীর্ঘদিন ধরেই লিভারের রোগে ভুগছিলেন। ক্যান্সারের কারণে লিভারের ক্ষতি হয়। তারপর থেকেই পরিবারও পড়ে যায় অথৈ জলে। অন্যদিকে বাবাকে লিভারের একটি অংশ দেওয়ার আগে দেবানন্দা খাবারে ব্যাপক পরিবর্তন আনে। লিভারকে পুরোপুরি সুস্থ রাখতে সে নিয়মিত ব্যায়াম করার পাশাপাশি স্থানীয় জিমেও যোগ দিয়েছিল।
৯ জানুয়ারি অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয় আলুভার রাজাগিরি হাসপাতালে। তারপরে একসপ্তাহ হাসপাতালে থাকার পরে ছুটি পেয়েছে দেবানন্দা। বাবাকে লিভার দিতে পেরে সে গর্বিত বলেও জানিয়েছে। দেবানন্দার সাহসিকতার প্রশংসা করে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ অস্ত্রোপচারের খরচ মকুব করে দেয়।
পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, হাইকোর্টে অনুমতি পাওয়ার আগে সব ধরনের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখিছিলেন তাঁরা। এক নাবালোকের অঙ্গদানের অনুমতি আদালতের সামনে রাখা হয়েছিল। আদালতের তরফে দেবানন্দার সাহসিকতার প্রশংসা করা হয়েছে।












Click it and Unblock the Notifications