এখনও দেশের দুই-তৃতীয়াংশ করোনা সংক্রমণ শুধু কেরলে, আতঙ্ক কাটছে না দক্ষিণের রাজ্যে
সারাদেশের কোভিড সংক্রমণের ৬৮ শতাংশ কেরলে জানাল স্বাস্থ্যমন্ত্রকে
করোনা সংক্রমণের শুরুতে 'কেরল মডেলে'র ফেরি করেছিল বামেরা৷ কিন্তু চার মাসও সেই মডেল সাজিয়ে রাখতে পারল না তারা৷ দেশে দুটো করোনা ওয়েভে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত রাজ্যগুলির তালিকায় উপরের দিকে রয়েছে কেরল। পাশাপাশি করোনার দ্বিতীয় ওয়েভ সারা দেশে কিছুটা কমলেও কেরলে এখনও দৈনিক সংক্রমণ ২০ হাজারের উপর। সম্প্রতি কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রকের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে সারা দেশে মোট করোনা সংক্রমণের ৬৮ শতাংশ কেরলে রয়েছে৷

সম্প্রতি একটি সাংবাদিক সম্মেলনে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য সচিব রাজেশ ভূষন বলেন, সারাদেশের মোট করোনা সংক্রমণের প্রায় ৬৮ শতাংশ কেরলের। রাজ্যটিতে সক্রিয় করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ১.৯৯ লক্ষ। অন্যদিকে মিজোরাম, অন্ধ্রপ্রদেশ, কর্ণাটক, তামিলনাড়ু এবং মহারাষ্ট্রে ১০০০০এরও বেশি সক্রিয় করোনা কেস রয়েছে। গত ১১ সপ্তাহে সাপ্তাহিক করোনা সংক্রমনের হার ৩ শতাংশের নিচে রয়েছে ৬৪ টি জেলা এখনও ৫ শতাংশের উপরে কোভিড পজিটিভি রিপোর্ট রয়েছে। এগুলি উদ্বেগের জেলা হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে৷ এই অঞ্চলগুলিতে করোনাবিধি ঠিকঠাক মানা, টিকাকরণে নজরদারি ও কঠোরভাবে পর্যবেক্ষণ করা উচিত।

কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য সচিব আরও বলেন, কেন্দ্র দেশে চিকিৎসা অক্সিজেনের প্রাপ্যতা সাড়ে চার হাজার মেট্রিক টনেরও বেশি করার দিকে কাজ চলছে। "এই মুহূর্তে দেশে ৩৬৩১ টি PSA (প্রেসার সুইং অ্যাডসর্পশন) প্লান্ট শুরু হয়েছে। যখন এই প্লান্টগুলো চালু হয়ে যাবে, তখন এই প্ল্যান্টগুলি থেকে ৪,৫০০ মে.টন এর বেশি মেডিকেল অক্সিজেন সরবরাহ সম্ভব হবে। এখনও পর্যন্ত ১,৫৯৫ টি পিএসএ প্ল্যান্ট চালু হয়েছে এবং সেগুলি থেকে হাসপাতালগুলিতে রোগীদের ২০৮৮ মেট্রিক টন অক্সিজেন সরবরাহ করা চলছে৷ এছাড়াও আরও ১৪৯১টি পিএসএ ইউনিট কেন্দ্র সরকারের অর্থে তৈরি করা হবে। যে ইউনটগুলি থেকে ২,২২০ মে.টন এর বেশি চিকিৎসায় ব্যবহৃত অক্সিজেন সরবরাহ করা সম্ভব হবে। রাজ্য এবং বিভিন্ন কোম্পানিদের সহায়তায় আরও ২১৪০ টি অক্সিজেন প্লান্ট তৈরি হচ্ছে আগামীতে যেগুলি থেকে ২২৮৯ মেট্রিক টন মেডিকেল অক্সিজেন সরবরাহ হবে।

ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অফ মেডিক্যাল রিসার্চের ডিরেক্টর (আইসিএমআর) আসন্ন উৎসবের মরশুম নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। যা করোনা ভাইরাস বিস্তারের জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরি করতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। সংবাদমাধ্যমকে তিনি বলেন, আমরা কেরালায় কিছু সংক্রমণ কমতে দেখেছি। অন্যান্য রাজ্যগুলিও ভবিষ্যতের করোনা সংক্রমণ এড়ানোর পথে রয়েছে। তবে সামনেই উৎসবের মরশুম। যেখানে ভিড়ের হঠাৎ বৃদ্ধি ভাইরাস বিস্তারের জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরি করবে। এই সময়েরজরুরি হল সঠিক সময়ে টিকা গ্রহণ এবং কোভিডবিধি মেনে দায়িত্বশীল ভাবে কোথাও বেরনো এবং খুবই সাবধানতা অবলম্বন করে উৎসবে অংশগ্রহণ।












Click it and Unblock the Notifications