করোনা সঙ্কটের মাঝেই বেকারত্ব-মূল্যবৃদ্ধির জোড়াধাক্কা! দিশেহারা দেশের হতদরিদ্র মানুষেরা
বেকারত্ব-মূল্যবৃদ্ধির জোড়াধাক্কায় দিশেহারা দেশের হতদরিদ্র মানুষেরা
প্রায় মার্চ থেকে ভারতে শুরু হয়েছে লকডাউন। প্রায় ৭ মাসের করোনা হানায় ধাক্কা খেয়েছে শিল্প থেকে কৃষি, বেড়েছে বেকারত্বের হার। বর্তমানে ক্রমবর্ধমান বেকারত্ব, কম মাইনে ও মূল্যবৃদ্ধির ধাক্কায় ক্রমশ দারিদ্র্যের অতল গহ্বরে তলিয়ে যাচ্ছে দেশের একটা বড় অংশের মানুষ।

একাধিক নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম আকাশছোঁয়া
করোনার আক্রমণে যখন আতঙ্কিত গোটা দেশ, তখনই খাদ্যশ্যের লাগামহীন মুদ্রাস্ফীতি আরও দুর্দিন ডেকে আনছে দেশের কোটি কোটি হতদরিদ্র পরিবার গুলির জন্য। সূত্রের খবর অনুযায়ী অগাস্টে বিভিন্ন খাদ্যশস্যের মুদ্রাস্ফীতি হয়েছে প্রায় ৯.০৫%। এদিকে দেশীয় অর্থনীতি চাঙ্গা করার উদ্দেশ্যে জুন থএকে লকডাউনের বিধি খানিক লঘু করা হলে মুদ্রাস্ফীতি সামান্য কমে। কিন্তু আমদানি-রপ্তানি সম্পূর্ণ চালু না হওয়ায় প্রায় বেশিরভাগ অত্যাবশ্যকীয় পণ্যের দামই আকাশছোঁয়া থাকে। অন্যদিকে ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাঙ্কের সাম্প্রতিক রিপোর্টে বলা হয়েছে, "আগামী দিনে প্রবল বৃষ্টি, চরমভাবাপন্ন আবহাওয়ার কারণে ভারতীয় কৃষিক্ষেত্রেও চরম দুর্দিন আসতে চলেছে।" ফলত যা নিয়ে রীতিমতো দুশ্চিন্তায় কৃষিবিদরা।

কেন বাড়ছে খাদ্যশস্যের মূল্য?
সমাজবিজ্ঞানীরা স্পষ্টতই জানাচ্ছেন, মূল্যবৃদ্ধির সর্বোচ্চ প্রভাব পড়ছে দেশের নিম্ন-মধ্যবিত্ত শ্রেণীর উপরেই। বর্তমানে দেশে কার্যত পঙ্গু হয়ে গেছে পরিবহন ব্যবস্থা। পাশাপাশি একাধিক রাজ্যেই গত কয়েকমাসের বন্যায় আরও খারপ হয়েছে পরিস্থিতি। এর পাশাপাশি জ্বালানির অধিক মূল্যও দেশে খাদ্যশস্যের মূল্যবৃদ্ধির অন্যম কারণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। সূত্রের খবর, বর্তমানে দেশের বিভিন্ন জায়গায় টমেটো ১০০টাকা/কিলো এবং আলু-পেঁয়াজের মূল্য ৫০টাকা/কেজির কাছাকাছি ঘোরাফেরা করছে। এদিকে নিত্যদিনের খাবারের সঙ্গী আলু-পেঁয়াজের এই বেলাগাম মূল্যবৃদ্ধিতে দিশেহারা অবস্থা দেশের দরিদ্রশ্রেণীর মানুষের।

কাজ হারিয়েছেন লক্ষ লক্ষ পরিযায়ী শ্রমিকরা
লকডাউন শুরুর সময় থেকেই কাজ হারিয়েছেন অসংগঠিত ক্ষেত্রের একটা বড় অংশের শ্রমিক। কম মাইনের জেরে দেশে ফিরেও কাজের অভাবে ধুঁকছেন দেশের লক্ষ লক্ষ অভিবাসী শ্রমিকের দল। মুম্বইয়ের সিএমআইইয়ের তথ্যানুযায়ী, দেশের সরকার লকডাউনের বিধি লঘু করার পরেও কোভিড-পূর্ব রোজগারের সিকি ভাগও উপার্জন করতে পারছেন না শ্রমিকরা। রিক্সাচালক, মজুর, রাজমিস্ত্রিদের মত দিন-আনি-দিন খাই কর্মজীবীদের অধিকাংশের কোনো পূর্বসঞ্চয় না থাকার দরুণ বিপাকে পড়েছেন তাঁরা।

সরকারি প্রকল্পে থেকে যাচ্ছে ফাঁক
কেন্দ্রীয় সরকার ও রাজ্য প্রশাসনের তরফে বিনামূল্যে প্রয়োজনীয় খাদ্য সরবরাহের ব্যবস্থা হলেও তথ্য বলছে, একাধিক প্রকল্পের বাস্তবায়নে ফাঁক থাকছে যাচ্ছে অনেকটাই। রিপোর্ট বলছে, মাত্র এক-তৃতীয়াংশ অভিবাসী শ্রমিক এই সরকারি স্কীম থেকে লাভবান হয়েছেন। সরকারি আধিকারিকরাও এখন অনেকেই বলছেন, দেশের দরিদ্র মানুষকে বিনামূল্যে খাদ্য সরবরাহের ব্যবস্থাও এখন কার্যত বিফলে গেছে।












Click it and Unblock the Notifications