কর্ণাটকের হিন্দু উৎসবে মুসলিম ব্যবসায়ী নিয়ে ফতোয়া, বিরোধিতায় মুখ খুললেন বায়োকন কর্তা কিরণ
কর্ণাটকের হিন্দু উৎসবে মুসলিম ব্যবসায়ী নিয়ে ফতোয়া, বিরোধিতায় মুখ খুললেন বায়োকন কর্তা কিরণ
সম্প্রতি স্কুলে হিজাব ব্যান নিয়ে উত্তপ্ত ছিল কর্ণাটক। সে রেশ কাটার আগেই নতুন বিতর্ক তৈরি হল কর্ণাটকে। রাজ্যটিতে হিন্দু মন্দিরগুলির উৎসব থেকে মুসলিম ব্যবসায়ীদের দূরে রাখতে হবে এই মর্মে বেশ কিছু কট্টর হিন্দুত্ববাদী সংগঠন ফতোয়া জারী করেছে৷ দেশের প্রযুক্তি রাজধানীতে কট্টর ধর্মীয় গোষ্ঠীগুলির এই প্রচেষ্টা নিয়ে প্রথম উদ্বেগ প্রকাশ করলেন একজন করপোরেট কর্তা। বায়োকন লিমিটেডের নির্বাহী চেয়ারপার্সন কিরণ মজুমদার-শ রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী বাসভরাজ বোমাইকে এই সমস্যা সমাধান করার জন্য অনুরোধ করেছেন। রাজ্য সরকারকে সতর্ক করে কিরন বলেছেন, রাজ্যে ধর্মীয় বিভাজন বাড়ছে। প্রযুক্তি এবং বায়োটেকের ক্ষেত্রে দেশের গ্লোবাল লিডাররা ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।

বুধবার টুইটারে কর্ণাটকে এই ফতোয়ার খবরটি শেয়ার করে কিরণ শা লেখেন, কর্নাটক সবসময় অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনৈতিক উন্নয়ন করছে এবং আমাদের অবশ্যই এই ধরনের সাম্প্রদায়িকতা বর্জন করা উচিত। যদি কর্ণাটকের মতো আইটি হাব সাম্প্রদায়িক হয়ে ওঠে তবে এটি আমাদের বিশ্ব নেতৃত্বকে ধ্বংস করবে। কিরন এই মুহূর্তে এশিয়ার শীর্ষস্থানীয় বায়োফার্মাসিউটিক্যালস এন্টারপ্রাইজের প্রধান।
কয়েকদিন আগেই কর্ণাটকে হিন্দুত্ববাদী সংগঠনের পক্ষ থেকে ফতোয়া দেওয়া হয়েছিল যে রাজ্যে মন্দির ও সংলগ্ন বাজারে মুসলিম ব্যবসায়ীরা ব্যবসা করতে পারবেন না৷ এ নিয়ে রীতিমতো সমালোচনা শুরু হয়েছিল রাজ্য ও দেশে৷ কিন্তু তারমধ্যেই এই ফতোয়ার কড়া সমালোচনা করেছিলেন রাজ্যের দুই বিজেপি নেতা এ এইচ বিশ্বনাথ এবং অনিল বেনাকে। এর মধ্যে অনিল স্থানীয় বিজেপি বিধায়কও৷ তারপর এই প্রথম একজন করপোরেট সংস্থার মালিক হিসেবে এই ফতোয়ার কড়া সমালোচনা করে কর্ণাটকের মুখ্যমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করলেন বায়োকন লিমিটেডের নির্বাহী চেয়ারপার্সন কিরণ মজুমদার-শ।

কর্ণাটকের শিবামোগ্গায় প্রচুর মন্দির রয়েছে। মন্দিরগুলির আশেপাশে প্রচুর দোকান রয়েছে যেখানে এতদিন হিন্দু-মুসলিমরা মিলেই ব্যবসা করতেন। এই মন্দিরগুলির আশেপাশে মেলাও বসে অনুষ্ঠান অনুসারে৷ অভিযোগ সম্প্রতি বিশ্বহিন্দু পরিষদ, রামসেনা, বজরং দল, হিন্দু জাগরণ বেদিকার মতো কট্টর হিন্দু সংগঠনগুলি ফতোয়া জারী করেছে। এই ফতোয়া প্রসঙ্গে বিজেপি নেতা এ এইচ বিশ্বনাথ সংবামাধ্যমকে বলেছেন, এসব ফতোয়ার কোবও মানে হয় না। কোনও ধর্ময় মানুষকে এসব ফতোয়া দিতে বলে না৷ আমি তো এটা বুঝতে পারছি না রাজ্য সরকার এর বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থস নিচ্ছে না কেন?












Click it and Unblock the Notifications