হাসপাতালের ডেথ রেজিস্টারের ক্রমিক সংখ্যা ২৫৬২, অথচ বেঁচে শিশু, বিস্তারিত দেখুন
ভ্রূণের বাঁচার সম্ভাবনা ১০ থেকে ১৫ শতাংশ। ৩৫ হাজারের ইনজেকশন দিলে তা বেড়ে হবে ৩০ শতাংশে। আর শিশুকে বাঁচিয়ে তুলতে খরচ হতে পারে ৫০ লক্ষ। অভিযোগ, অভিভাবকদের কাছে এমনটাই জানিয়েছিল দিল্লির হাসপাতাল।
ভ্রূণের বাঁচার সম্ভাবনা ১০ থেকে ১৫ শতাংশ। ৩৫ হাজারের ইনজেকশন দিলে তা বেড়ে হবে ৩০ শতাংশে। আর শিশুকে বাঁচিয়ে তুলতে খরচ হতে পারে ৫০ লক্ষ। অভিযোগ, অভিভাবকদের কাছে এমনটাই জানিয়েছিল দিল্লির শালিমার বাগের ম্যাক্স হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

২৮ নভেম্বর দিল্লির শালিমার বাগের ম্যাক্স হাসপাতালে ভর্তি করা হয় বর্ষা নামে বছর কুড়ির অন্তঃসত্ত্বাকে। এই সময় তিনি ছয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা। অবস্থা খারাপ হওয়ায় ৩০ নভেম্বর তাঁর অপারেশন হয়। একটি শিশু মৃত অবস্থায় প্রসব হয়। অপর শিশুটি জন্মের কিছুক্ষণের মধ্যেই মারা যায় বলে জানিয়ে, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের তরফে দুটি প্যাকেট দিয়ে শিশুদুটিকে পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হয়। কিছুক্ষণ পরেই দেখা যায়, একটি শিশু তখনও জীবিত রয়েছে। শিশুটিকে সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বিষয়টি নিয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে একটি এফআইআর আগেই দাখিল করেছিল বর্ষার পরিবার।
পরিবারের তরফে অভিজ্ঞতা অবশ্য অন্য রকমের। বর্ষার স্বামী আাশিসের করা এফআইআর-এ জানা গিয়েছে, শালিমার বাগের ম্যাক্স হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ প্রথমে জানায়, তাঁর স্ত্রী বর্ষার দুটি ভ্রূণের বাঁচার সম্ভাবনা ১০ থেকে ১৫ শতাংশ। তিন ইনজেকশন যাঁর মূল্য ৩৫ হাজার টাকা, তা দিলে বাঁচার সম্ভাবনা ৩০ শতাংশ হবে। আর নার্সারিতে শিশুদের বাঁচিয়ে রাখতে খরচ পড়তে পারে ৫০ লক্ষ টাকার মতো।
পরিবারের অভিযোগ, শিশুদের বাঁচিয়ে রাখতে পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেয়নি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। সেই জন্যই জীবিত শিশুকে প্যাকেটে করে পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছিল।
দিল্লি পুলিশের উত্তর রেঞ্জের যুগ্ম কমিশনার সাগরপ্রীত হুডা জানিয়েছেন, ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩০৮ নম্বর ধারা অনুযায়ী বাবার অভিযোগের ভিত্তিতে এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। রোগিনীকে তিনটি ইনজেকশন দেওয়া নিয়েও বিশেষজ্ঞদের মতামত নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, বিষয়টি নিয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের তরফেও তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অভিযুক্ত চিকিৎসকদের ছুটিতে পাঠানোর খবরও জানানো হয়েছে হাসপাতালের তরফে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, বর্ষার চিকিৎসা সংক্রান্ত কাগজপত্র ম্যাক্স এবং আগরওয়াল হাসপাতাল থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে। একইসঙ্গে ম্যাক্স হাসপাতালের ডেথ রেজিস্টারের কপিও সংগ্রহ করা হয়েছে। যেখানকার ক্রমিং সংখ্যা ২৫৬২-এ জানানো হচ্ছে, বর্ষার দুটি মৃত ভ্রূণ পরিবারের সদস্য হিসেবে কিরারির বাসিন্দা প্রবীণের হাতে তুলে দেওয়া হচ্ছে।












Click it and Unblock the Notifications