রাজধানীতে ক্রমেই বাড়ছে রাজনৈতিক উত্তেজনা, বিজেপির সঙ্গে সিরিয়াল কিলারের তুলনা কেজরিওয়ালের
রাজধানীতে ক্রমেই বাড়ছে রাজনৈতিক উত্তেজনা, বিজেপির সঙ্গে সিরিয়াল কিলারের তুলনা কেজরিওয়ালের
বিজেপির সঙ্গে আপের সংঘাত ক্রমেই চরম আকার ধারণ করছে। একদিকে বিজেপি যখন, দিল্লিতে আবগারি নীতি বাস্তবায়নের দুর্নীতির অভিযোগ করছে আপ সরকারের বিরুদ্ধে। অন্যদিকে, আপ বিজেপির সঙ্গে সিরিয়াল কিলারের তুলনা করল। শুক্রবার দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল দেশজুড়ে অ-বিজেপি শাসিত একাধিক রাজ্যে সরকার পতনের সঙ্গে সিরিয়াল কিলারের তুলনা করেন।

দিল্লির বিধানসভায় একটি বিশেষ অধিবেশনে বক্তব্য রাখার সময় মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল বলেন, বিজেপি এখনও পর্যন্ত দেশের একাধিক রাজ্যে বেশ কয়েকটি সরকারের পতন ঘটিয়েছে। তারমধ্যে রয়েছে, গোয়া, কর্ণাটক, মহারাষ্ট্র, অসম, মধ্যপ্রদেশ, বিহার, অরুণাচলপ্রদেশ, মনিপুর ও মেঘালয়। শহরে একজন সিরিয়াল কিলার রয়েছেন, যে একের পর এক খুন করে চলেছেন। জনগণ একটি সরকারকে বেছে নেয়। বিজেপি সেই সরকারের পতন ঘটায়। আপ সুপ্রিমো বলেন, বিজেপি এখনও পর্যন্ত ২৭৭ জন বিধায়ককে কিনেছে। তিনি বলেন, কেন্দ্র সরকার জিএসটি ও পেট্রোপণ্যে মূল্য বাড়িয়েই চলেছে। সেই অর্থ তারা বিধায়ক কেনার ক্ষেত্রে ব্যবহার করছে।
অরবিন্দ কেজরিওয়াল বলেন, আমরা হিসেব করে দেখেছি বিজেপি তাদের দলে ২৭৭ জন বিধায়ককে নিয়ে এসেছে। প্রতি বিধায়ককে যদি তারা ২০ কোটি টাকা দেয়, সেক্ষেত্রে বিধায়ক কিনতে বিজেপির মোট খরচ হয়েছে প্রায় ৫,৫০০ কোটি। সেই কারণেই দেশে মুদ্রাস্ফীতি। কারণ বিজেপি সাধারণ মানুষের টাকা বিধায়ক কেনার জন্য ব্যয় করছে।
দিল্লির উপমুখ্যমন্ত্রী মনীশ সিসোদিয়ার বাড়িতে সিবিআই অভিযান প্রসঙ্গে অরবিন্দ কেজরিওয়াল বলেন, সিবিআই প্রায় ১৪ ঘণ্টা অভিযান চালিয়েছে। কিন্তু মনীশ সিসোদিয়ার বাড়ি থেকে অবৈধ একটা টাকাও উদ্ধার করতে পারেনি। সম্পত্তি বহির্ভূত গয়নাও উদ্ধার করতে পারেনি। কোনও সম্পত্তির দলিল উদ্ধার করতে পারেনি। অপরাধের সঙ্গে যুক্ত কোনও নথি উদ্ধার করতে পারেনি। মনীশ সিসোদিয়ার বাড়িতে সিবিআই মিথ্যা অভিযান চালিয়েছে। মনীশ সিসোদিয়াকে চাপে রাখতেই কেন্দ্রে নির্দেশে এই অভিযান সিবিআই চালিয়েছে। তিনি বলেন, স্বার্থান্বেষী একটি দল দিল্লিতে আপ সরকারের পতন চাইছে।
দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, সামনেই গুজরাতের নির্বাচন। সেই নির্বাচনে বিজেপি আপকে ভয় পেতে শুরু করেছে। সেই কারণেই দিল্লিতে আপ সরকারের ওপর চাপ প্রয়োগের চেষ্টা করছে। বিজেপি নিজেদের রাজনৈতিক ক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য ইডি ও সিবিআইয়ের ক্ষমতার অপব্যবহার করছে। দিল্লিতে সরকারি স্কুলগুলোর ব্যাপক উন্নতি হয়েছে। দিল্লির লেফটেন্যান্ট গভর্নর এখন দিল্লির স্কুলগুলোর ওপর তদন্ত করতে চায়। আসলে দিল্লির স্কুলগুলোতে ভালো কাজ বিজেপি বন্ধ করে দিতে চায়।
আপ সুপ্রিমো অভিযোগ করেন, তাঁকে সিঙ্গাপুরে যেতে না দেওয়ার কারণ কেন্দ্রের সমালোচনা। ভালো কাজের জন্য সিঙ্গাপুর তাঁকে সম্বর্ধনা দিতে চেয়েছিল। সেটাই মেনে নিতে পারেনি কেন্দ্র। তাই তাঁকে সিঙ্গাপুরে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়নি।












Click it and Unblock the Notifications