দক্ষিণ এশিয়ায় ৬ হাজার পেরিয়েছে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা, বাড়তে পারে লকডাউন
ভারত, পাকিস্তান, বাংলাদেশ সহ দক্ষিণ এশিয়ায় ক্রমেই করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ছে। উপমহাদেশে ইতিমধ্যেই ৬ হাজারের গণ্ডি ছাড়িয়েছে করোনা আক্রান্তদের সংখ্যা। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে সব থেকে বাজে অবস্থা আপাতত ভারতে। ৩ হাজারের বেশি করোনা আক্রান্ত রয়েছে এখন দেশে। এছাড়া পাকিস্তানের অবস্থাও তথদিক খারাপ।

পাকিস্তান ও বাংলাদেশেও করোনা সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ছে
পাকিস্তানে এখনও পর্যন্ত করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন ২৭০৮ জন। প্রাণ হারিয়েছেন। এদের মধ্যে মারা গিয়েছেন ৪০। ভারতে মৃতের সংখ্যাটা ৮৬। পরিস্থিতি ক্রমেই ঘোরালো হচ্ছে বাংলাদেশেও। সেখানে এখনও মাত্র ৭০ জন আক্রান্তের খোঁজ মিললেও সেদেশে বিদেশ থেকে আসা বহু মানুষের খোঁজ মেলেনি। সেদেশে এখনও ৮ জন মারা গিয়েছে।

দিল্লির নিজামউদ্দিন থেকে ছড়িয়ে পড়ছে করোনা
এদিকে ভারতে করোনা ভাইরাস সবচেয়ে বেশি কাবু করতে পেরেছে মহারাষ্ট্রকে। তারপরেই রয়েছে তামিলনাডু। এদিন জানা যায় যে তামিলনাড়ুতে করোনা ভাইরাস আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে ৪১১ হয়ে গিয়েছে। এদের মধ্যে ৩৬৪ জনই অংশ নিয়েছিলেন নিজামউদ্দিনের সেই তাবলিঘি জামাতের জমায়েতে। মোট ৩,৬৮৪টি রক্তের নমুনা পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছিল। তারমধ্যে ৪১১ জনের রক্তের রিপোর্ট করোনা পজেটিভ এসেছে। ২৭৮৯ জনের রক্তের নমুনা করোনা নেগেভিট এসেছে। বাকি রিপোর্টগুলি এখনও আসেনি।

তাবলিঘি জমায়েতে যোগ
কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রকের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে এই তাবলিঘি জমায়েতে যোগ দেওয়ায় গত দুদিনে দেশে মোট ৬৪৭ করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে। মার্কজের প্রধান সহ ৬ জনের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করেছে দিল্লি পুলিশ। প্রায় ২০০০ বিদেশি এই জমায়েতে যোগ দিয়েছিলেন বলে জানা গিয়েছে। এদিকে এই বিদেশিদের মধ্যে বেশির ভাগই দক্ষিণ এশিয়ার। এর জেরে ভারত ছাড়িয়ে অন্যত্র আরও ছড়িয়ে পড়তে পারে করোনার প্রকোপ।

একদিনের মধ্যে ১২ জন মারা গেছে দেশে
এমন এক ভয়াবহ পরিস্থিতিতে করোনা ঠেকাতে আরও দীর্ঘ করা হতে পারে লকডাউনের। সবচেয়ে ভয়ের কথা, ভারতে একদিনের মধ্যে ১২ জন মারা গেছে এই রোগে আক্রান্ত হয়ে। ফলে আতঙ্ক যেন ক্রমশ আরও জাঁকিয়ে বসছে দেশের মানুষের মনে।

সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা হচ্ছে না
এদিকে লকডাউনের মধ্যেও মানুষ সামাজিক দূরত্ব বজায় না রাখায় পরিস্থিতি আরও গম্ভীর হয়ে যাচ্ছে। লকডাউনের মধ্যেও যদি এই হারে করোনা সংক্রমণ ছড়িয়ে যায় তবে লকডাউন উঠে গেলে দেশের কী পরিস্থিতি হতে পারে তা ভাবতেও পারছে না কেউ। এহেন পরিস্থিতিতে লকডাউন বাড়িয়ে দেওয়া ছাড়া আর কোনও উপায় হয়ত থাকবে না।

কী হবে ১৪ এপ্রিলের পর?
এদিকে কেন্দ্রীয় সরকার ইতিমধ্যেই জানিয়ে দিয়েছে যে ১৪ এপ্রিলের পর দেশে আর লকডাউন জারি থাকবে না। তবে এই লকডাউন উঠে গেলেও সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে কঠোর হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এদিকে জানা যাচ্ছে লকডাউন না থাকলেও দিল্লি, কলকাতা, বেঙ্গালুরু, মুম্বইয়ের মতো বড় শহরগুলিতে পাবলিক ট্রান্সপোর্ট চলবে না।












Click it and Unblock the Notifications