বালেশ্বর ট্রেন দুর্ঘটনা: ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ডাউন লাইনে ট্রেন চালিয়ে ‘প্রণাম’ রেলমন্ত্রীর
ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনা ঘটে গিয়েছে ওড়িশার বালেশ্বরে। বহু প্রাণ তো কেড়েছেই, বহু মানুষের ক্ষতি হয়েছে। ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল রেল ট্র্যাক। কিন্তু ঘটনার পরদিন থেকে টাকা ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে তদারকি করে রেলমন্ত্রী অসাধ্য সাধন করলেন। মাত্র দুদিনের মধ্যেই লাইন মেরামত করে চালানো হল ট্রেন।
রবিবার ডাউন লাইনে পরীক্ষামূলকভাবে মালগাড়ি চালানো হয়। মালগাড়িয় ট্রায়াল রান সম্পূর্ণ হওয়ার পর ভাগ্যবিধাতাকে প্রণাম করলেন কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব। ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই রেল ট্র্যাক মেরামত করে আবার চলল ট্রেন। ধ্বংসস্তূপ সম্পূর্ণ সরিয়ে একটি লাইনের পুনর্গঠন প্রক্রিয়া শেষ করল রেল।

রবিবার রাতেই প্রথম ট্রায়াল রান শুরু হহল। দুর্ঘটনার পর থেকেই ঘটনাস্থলে থেকে সম্পূর্ণ তদারকি করেছিলেন রেলমন্ত্রী। অবশেষে ৪৮ ঘন্টার মধ্যে ডাউন লাইন মেরামত করে দুর্ঘটনাগ্রস্থ এলাকায় ট্রেন চালিয়ে তাক লাগিয়ে দিলেন রেলমন্ত্রী। এদিন ডাউন লাইন দিয়ে ট্রেন চালানোর পর রেলমন্ত্রীর প্রণাম করার ভিডিও মুহূর্তে ভাইরাল হয়ে গেল।
শুক্রবার সন্ধ্যা সাতটা নাগাদ ওড়িশার বালেশ্বরে আপ শালিমার-চেন্নাই করমণ্ডল এক্সপ্রেস মালগাড়িতে ধাক্কা মেরে লাইনচ্যুত হয়ে যায়। তারপর সেখানে ডাউন যশবন্তপুর এক্সপ্রেসও জড়িয়ে পড়ে দুর্ঘটনায়। তিনটি ট্রেনের কামরা একাকার হয়ে যায়। রেললাইনের অবস্থাও ছিন্নভিন্ন, ওভারহেড লাইনের তারও ছিঁড়ে ধ্বংসস্তূপের চেহারা নেয়।

এই ঘটনায় মানুষের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছিলই, রেল ট্র্যাক লণ্ডভণ্ড হয়ে গিয়েছিল। রেললাইনের পাত পর্যন্ত উঠে গিয়েছিল, ভেঙে দুমড়ে-মুচড়ে গিয়েছিল ট্রেন লাইন। এই দুর্ঘটনার পর শনিবার সকালেই ঘটনাস্থলে পৌঁছে যান রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব। তিনি নিজে দাঁড়িয়ে থেকে যেমন উদ্ধার কার্যে তদারকি করেন, তেমনই ঘটনাস্থল থেকে ট্রেনের বগি সরানোর বন্দোবস্ত করেন।
যাতে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় স্বাভাবিক করা যায় রেল চলাচল, তার জন্য দুদিন কর্মীদের সঙ্গে থেকে বড়ো দায়িত্ব সামলেছেন রেলমন্ত্রী। মন্ত্রী হয়েও তিনি কর্মীদের সঙ্গে একসঙ্গে থেকে কাজ এগিয়ে নিয়ে গিয়েছেন। ফলে দিনরাত এক করে মাত্র ৪৮ ঘণ্টাতেই একটি লাইনের কাজ সম্পূর্ণ হয়ে গিয়েছে।

তারপর ওই লাইন দিয়ে ট্রেন চালিয়ে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছেন মন্ত্রী। তিনি মালগাড়ির ট্রায়াল রানের পর হাতজোড় করে প্রণাম করেছেন। এখনও তিনটি লাইন সারিয়ে স্বাভাবিক রূপ দিতে হবে এলাকার। ফলে এখনও কাজ বাকি। থেমে যেতে চান না রেলমন্ত্রী। তিনি উৎসাহ দিয়ে চলেছেন কর্মীদের। রেলমন্ত্রীকে পাশে পেয়ে কর্মীরাও দিনরাত এক করে কাজ করছেন।












Click it and Unblock the Notifications