নির্ভয়ার খুনিদের কখনই হবে না ফাঁসি, কাঁদতে কাঁদতে জানালেন আশা দেবী
শনিবার ১ ফেব্রুয়ারি সকালেই নির্ভয়ার খুনিদের ফাঁসি হওয়ার কথা। মিরাট থেকে তিহার জেলে চলেও এসেছেন ফাঁসুড়ে পবন জল্লাদ। চূড়ান্ত তৎপরতাও চলছে জেলের মধ্যে। গোটা দেশ সেই অপেক্ষাতেই ছিল। কিন্তু শুক্রবার বিকেলেই এল মন ভেঙে দেওয়া খবর। দিল্লি কোর্টের নির্দেশে আপাতত স্থগিত নির্ভয়ার চার অপরাধীর ফাঁসি। পরবর্তী নির্দেশ না আসা পর্যন্ত ফাঁসি হবে না বলেই জানিয়েছে আদালত। আর এরপরই কান্নায় ভেঙে পড়েন নির্ভয়ার মা আশা দেবী। কাঁদতে কাঁদতেই তিনি বলেন, 'আসামিদের উকিল এপি সিং বলেছেন, এই ফাঁসি কখনই হবে না।’

ফাঁসির একদিন আগে, শুক্রবারই ফের আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিল নির্ভয়া কাণ্ডের অপরাধী। শুক্রবার সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করেছিল নির্ভয়ার মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত চারজনের অন্যতম পবন গুপ্তা। নির্ভয়ার ওপর নির্মম অত্যাচার চালিয়ে গণধর্ষণের সময় সে নাবালক ছিল বলে দাবি করেছে পবন। এর আগে একাধিকবার নির্ভয়া কাণ্ডের সময় সে নাবালক ছিল বলে প্রমাণ করার চেষ্টা করেছে ২৫ বছরের পবন গুপ্তা। প্রতিবারই তার দাবি খারিজ করে দিয়েছে আদালত। গত ২০ জানুয়ারি পবনের স্পেশাল লিভ পিটিশন খারিজ করে দেয় সুপ্রিম কোর্ট। দিল্লি হাইকোর্টও তাকে অপরাধী সাব্যস্ত করে সাজা ঘোষণার সময় এই বিষয়টি খারিজ করে দেয়। এবার সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি আর ভানুমতি মামলার এই দিকটি নিয়ে আর শুনানিতে সম্মত হননি। এভাবে একই বিষয় নিয়ে বারবার আবেদন করা যায় না বলে জানিয়ে দিয়েছেন তিনি।
এর আগে পবনের বয়স সংক্রান্ত ভুয়ো নথিপত্র জমা দেওয়ায় তার আইনজীবী এপি সিংকে কড়া তিরস্কার করে দিল্লি হাইকোর্ট। ২০১২ সালের ২৩ ডিসেম্বর দিল্লির রাস্তায় চলন্ত বাসে প্যারামেডিক্যালের এক ছাত্রীর ভয়াবহ অত্যাচার করে গণধর্ষণ করা হয়। ছয় জনের মধ্যে একজন নাবালক হওয়ায় তিন বছর হোমে থেকে মুক্তি পেয়ে যায়। আরও একজন রাম সিং তিহার জেলেই আত্মহত্যা করে। বাকি চারজনের শনিবার সকাল ৬টায় ফাঁসি হওয়ার কথা ছিল। গোটা দেশ তারই অপেক্ষায় ছিল। কিন্তু সেই ফাঁসি আপাতত স্থগিত হয়ে গেল। এর আগে স্থির হয়েছিল, আগামী ২২ জানুয়ারি এই ঘটনায় সাজাপ্রাপ্ত ৪ ধর্ষক–খুনির ফাঁসি হবে। কিন্তু আইনি টানাপোড়েনে তা বাতিল হয়ে যায়। এই পরিস্থিতিতে দিল্লির এক আদালত নতুন করে মৃত্যু পরোয়ানা জারি করেছে। আদালত জানিয়েছিল, আগামী ১ ফেব্রুয়ারি ভোর ছ’টায় ফাঁসি হবে নির্ভয়া কাণ্ডের অপরাধীদের। সেই মতো প্রস্তুতিও শুরু হয়ে গিয়েছিল। চলছিল শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। আশায় বুক বেধেছিলেন আশা দেবীও। বারবার ফাঁসি পিছিয়ে যাওয়ায় হতাশ হয়ে পড়েছিলেন তিনি। শেষ পর্যন্ত ভেবেছিলেন, শনিবারই তাঁর মেয়ের আত্মার শান্তি পাওয়ার দিন। কিন্তু না, আদালতের নির্দেশে ফের পিছিয়ে গেল ফাঁসি। স্বভাবতই কাঁদতে কাঁদতে তিনি বলেন, 'আর পারছি না আমি। দোষীদের বাঁচাতে কেন এত তৎপরতা? খুনিদের আসামি হুমকি দিয়ে বলেছেন, এই ফাঁসি নাকি কখনই হবে না। কবে আমার মেয়েটা শান্তি পাবে, বলতে পারেন?’












Click it and Unblock the Notifications