'পরিবার সর্বস্ব মডেল কংগ্রেসের, সবকা সাথ সবকা বিকাশ আশা করা যায় না', সংসদে রাহুল-সোনিয়াদের তোপ মোদীর
লোকসভার পর আজ রাজ্যসভায় রাষ্ট্রপতির ধন্যবাদ ভাষণের জবাবী ভাষণ দিতে গিয়ে ফের একবার শুরু থেকে কংগ্রেসকে আক্রমণ শানালেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তিনি তোষণের রাজনীতি এবং পরিবারতন্ত্রের জন্য কংগ্রেসকে দায়ী করলেন ভরা কক্ষে।
মোদীর কথায়, "সবকা সাথ, সবকা বিকাশ" কংগ্রেসের কাছ থেকে আশা করা যায় না। এটি তাদের চিন্তাভাবনার বাইরে এবং তাদের রোডম্যাপের সাথেও খাপ খায় না। কারণ পুরো দলটি শুধুমাত্র একটি পরিবারের প্রতি নিবেদিত"।

প্রধানমন্ত্রী বিজেপির "প্রথমে দেশ" নীতির বিপরীতে কংগ্রেসের "পরিবার প্রথম" নীতির তুলনা করেন। প্রধানমন্ত্রী মোদী বলেন, "২০১৪ সালের পর ভারত শাসনের একটি নতুন বিকল্প মডেল পেয়েছে। এটি তোষণের উপর নয়, বরং সন্তুষ্টির উপর দৃষ্টি নিবদ্ধ করে। যেখানে পরিবারবাদ, তুষ্ঠিকরণ রয়েছে, সেখানে সবকা বিকাশ কীভাবে হবে। কংগ্রেসের সব মডেলেই ফ্যামিলি ফার্স্ট। আর এর বিপরীতে রয়েছি আমরা। আমাদের মডেলে মানা হয় নেশন ফার্স্ট। সেটা তুষ্টিকরণের নয়, সন্তুষ্টিকরণের মডেল"।
তিনি কংগ্রেসকে অভিযুক্ত করেন যে তারা এক শ্রেণিকে তুষ্ট করতে চেয়েছে, কিন্তু বিজেপি সমগ্র দেশের উন্নয়নে বিশ্বাসী। এমনকি, রাহুল গান্ধীর জাতপাত প্রচার নিয়েও এদিন মোদীর কড়া মন্তব্য শোনা যায়। প্রধানমন্ত্রী রাহুল গান্ধীর জাতপাতভিত্তিক প্রচারণার কঠোর সমালোচনা করেন এদিন রাজ্যসভায়। তাঁর কথায়, "অনেক বছর ধরে, সকল দলের ওবিসি সাংসদরা ওবিসি কমিশনকে সাংবিধানিক মর্যাদা দেওয়ার দাবি জানিয়ে আসছিলেন। কিন্তু কংগ্রেস তা প্রত্যাখ্যান করেছিল কারণ এটি তাদের রাজনৈতিক স্বার্থের সাথে খাপ খায়নি। আমরা সেই কমিশনকে সাংবিধানিক মর্যাদা দিয়েছি"।
একই সাথে বিরোধীরা যখন বিজেপির বিরুদ্ধে সংবিধান বিকৃত করার অভিযোগ তোলেন, তখন মোদী কংগ্রেসের বিআর আম্বেদকরের প্রতি "ঘৃণা" থাকার অভিযোগ তুলে ধরেন ভরা কক্ষে। তাঁর কথায়, "কংগ্রেস কখনোই বাবা সাহেব আম্বেদকরকে ভারতরত্ন দেওয়ার যোগ্য মনে করেনি। দলটি তাকে নির্বাচনে দুইবার পরাজিত করেছিল। কিন্তু আজ বাধ্য হয়ে 'জয় ভীম' স্লোগান তুলতে হচ্ছে তাঁদেরকে"।
তিনি স্মরণ করিয়ে দেন যে, ১৯৫২ সালে আম্বেদকর বোম্বে (উত্তর) থেকে কংগ্রেস প্রার্থী নারায়ণ কাজরোলকারের কাছে পরাজিত হন। ১৯৫৪ সালে ভান্ডারার উপনির্বাচনেও কংগ্রেসের কাছে হেরে যান। আর এই সবই হল আম্বেদকরের প্রতি কংগ্রেসের ঘৃণার বহিঃপ্রকাশ।
এদিন কার্যত রাজ্যসভার কক্ষ থেকে কংগ্রেসের পরিবারতন্ত্র নিয়ে হাত শিবিরকে কটাক্ষে কটাক্ষে জর্জরিত করেন প্রধানমন্ত্রী। যা নিয়ে নতুন উত্তেজনা শুরু হল জাতীয় রাজনীতিতে।












Click it and Unblock the Notifications