দিল্লি নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ, বায়ু দূষণের ফলে শিশুদের অপূরণীয় ক্ষতি হতে পারে, চিন্তিত চিকিৎসকরা
বায়ু দূষণের ফলে শিশুদের অপূরণীয় ক্ষতি হতে পারে
এটা যে হবে তা আগে থেকে সকলেরই জানা ছিল। কারণ দিল্লি ও তার চারপাশের এলাকাগুলিতে দিলওয়ালির পর বায়ু দূষণের ঘটনা নতুন নয়। ব্যতিক্রম নয় এ বছরও। দিওয়ালির পরেই দিল্লির বায়ুর গুণগত মান (একিউআই) ক্রমশঃ নিম্নগামী হয়েছে। রবিবার গুরুগ্রামের মেদান্ত হাসপাতালের চেস্ট সার্জারির চেয়ারম্যান ডাঃ অরবিন্দ কুমার জানিয়েছেন যে বায়ু দূষণের ফলে শিশুদের মধ্যে গুরুতর স্বাস্থ্য সমস্যা এবং অপূরণীয় এবং অপরিবর্তনীয় ক্ষতি দেখা দিয়েছে। প্রসঙ্গত, দিল্লি–এনসিআরে দিওয়ালি পরবর্তী বায়ুর মান অত্যন্ত খারাপ হয়ে গিয়েছে। জাতীয় রাজধানীতে এখন বায়ুর গুণগত মান 'গুরুতর’ বিভাগে রয়েছে।

ডাঃ কুমার জানিয়েছেন যে বাতাস এখনও ধোঁয়াশা এবং তা জানুয়ারি পর্যন্ত থাকবে। এ প্রসঙ্গে আরও কিছু বলতে গিয়ে কুমার 'ফুসফুস কেয়ার ফাউন্ডেশন’–এর উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন, 'দিল্লির ৫০ শতাংশের বেশি কিশোর–কিশোরীদের মধ্যে উচ্চতরভাবে বক্ষস্থল সংক্রান্ত উপসর্গ দেখা গিয়েছে, ২৯ শতাংশের হাঁপানি রয়েছে, ৪০ শতাংশ স্থুলকায় (হাঁপানির প্রকোপ ২০০ শতাংশ বেশি)–তে ভুগছে শিশুরা।’ চিকিৎসক এও বলেন, 'আমরা দেখেছি যে শিশুরা বুকের সমস্যা নিয়ে আসছে। তারা শ্বাস–প্রশ্বাসের সমস্যা নিয়ে অভিযোগ করছে। সংক্ষেপে বলা চলে বায়ু দূষণ তাদের ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলেছে।
ডাঃ কুমার এও জানিয়েছেন যে শুধু তাই নয় এই বায়ু দূষণের ফলে শিশুরা মস্তিষ্ক, ফুসফুস, হৃদযন্ত্র সহ অন্যান্য অঙ্গের সমস্যাতেও ভুগছে। বায়ু দূষণ ও এ সম্পর্কে মোকাবিলা করার জন্য সরকার যে ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে এ প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে কুমার বলেন, 'স্মোগ টাওয়ার বসানোর অর্থ হল জনগণের অর্থের বিশাল অপচয় করা এবং একটি বিশাল ভুল। উত্তরটি বায়ুকে দূষিত হওয়া থেকে রোধ করার মধ্যে রয়েছে।’ কুমার এও বলেন, 'কোভিডের চেয়েও বেশি মানুষের মৃত্যু হতে পারে দূষণের কারণে কিন্তু এই দূষণ যে ধরনের মনোযোগ পাওয়ার যোগ্য তা পায় না।’ তিনি এও জানিয়েছেন যে দূষণ রোধ করতে কিছু কড়া পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।
তবে ডাঃ কুমারের মতে শুধু আতসবাজি পোড়ানো নয় বরং বায়ু দূষণের আরও একটি অন্যতম প্রধান কারণ হল দিল্লির প্রতিবেশী রাজ্যগুলিতে খড় পোড়ানো আরও বেড়ে গিয়েছে। যা প্রত্যেক বছর দিল্লির মাথা ব্যাথার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। একিউআই ৪৩৬ নিয়ে দিল্লি এখন 'গুরুতর’ বিভাগে দাঁড়িয়ে রয়েছে বলে জানিয়েছে সফর। ন্যাশনাল ক্যাপিটাল রিজিয়ন (এনসিআর) দূষণের পর্যায়ে খারাপ বায়ুর গুণগত মানের তালিকায় নাম রয়েছে নয়ডা ও গুরুগ্রামের। নয়ডার একিউআই বিপজ্জনক বিভাগে ৫৭৫–এ দাঁড়িয়ে অন্যদিকে, গুরুগ্রাম 'গুরুতর’ বিভাগে ৪৭৮–এ রয়েছে বলে জানা গিয়েছে।












Click it and Unblock the Notifications