মহন্ত নরেন্দ্র গিরি মৃত্যু মামলায় আনন্দ গিরি–সহ ৩ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট পেশ সিবিআইয়ের
মহন্ত নরেন্দ্র গিরি মৃত্যু মামলায় ৩ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট পেশ
অখিল ভারতীয় আখড়া পরিষদের প্রাক্তন সভাপতি মহন্ত নরেন্দ্র গিরির রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনায় জেলে থাকা প্রধান অভিযুক্ত আনন্দ গিরি এবং অন্যদের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করল সিবিআই। প্রায় দু’মাস ধরে চলা দীর্ঘ তদন্তের পর শনিবার সিজেএম আদালতে আনন্দ গিরি-সহ দু’জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করেছে সিবিআই। বাকি দুজন হলেন আদ্যাপ্রসাদ তিওয়াড়ি এবং সন্দীপ তিওয়াড়ি।

প্রসঙ্গত, নরেন্দ্র গিরির ঘর থেকে উদ্ধার হওয়া সুইসাইড নোটে নাম ছিল এই তিনজনের। সুইসাইড নোটে নরেন্দ্র গিরি এই তিনজনের বিরুদ্ধে আত্মহত্যায় প্ররোচনা দেওয়ার অভিযোগ তুলেছিলেন। তদন্তকারী সংস্থা সূত্রে খবর, এই মামলায় এখনও পর্যন্ত ১৫২ জনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। আগামী ২৫ নভেম্বর এই মামলার শুনানি হবে আদালতে। এখানে উল্লেখ্য, গত ২০ সেপ্টেম্বর সাধুদের সবচেয়ে বৃহৎ সংগঠনের সভাপতি মহন্ত নরেন্দ্র গিরিকে প্রয়াগরাজের আশ্রমে ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া যায়। মহন্ত নরেন্দ্র গিরির রহস্যজনক মৃত্যু মামলায় অভিযুক্ত আনন্দ গিরি, আদ্য তিওয়ারি এবং সন্দীপের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিলের পর অভিযুক্তদের অসুবিধা আরও বাড়তে চলেছে বলেই ধরে নেওয়া যেতে পারে। ইতিমধ্যেই আনন্দ গিরির জামিনের আবেদন খারিজ করে দিয়েছে আদালত।
পুলিশের প্রাথমিক অনুমান আত্মহত্যা করেছেন তিনি। ঘটনাস্থল থেকে সুইসাইড নোটও উদ্ধার হয়। তবে সেই ঘটনার তদন্ত করতে গিয়ে পুলিশ জানতে পারে কয়েক দিন আগেই নরেন্দ্রর সঙ্গে তাঁর অন্যতম প্রধান শিষ্য আনন্দ গিরির ঝগড়া হয়েছিল। আনন্দর বিরুদ্ধে আর্থিক প্রতারণার অভিযোগ এনে তাঁকে আখড়া থেকে বার করেও দেওয়া হয়। এই ঘটনার পর নরেন্দ্রর কাছে এসে আনন্দ ক্ষমা চাইলেও তাঁদের সম্পর্কের বিশেষ উন্নতি হয়নি। সেই রাগে আনন্দ আখড়া প্রধানকে খুন করে থাকতে পারেন বলে পুলিশের অনুমান। আনন্দ ছাড়া বাকি যে দু’জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে তাঁরা আনন্দর সঙ্গে থাকতেন। তবে নরেন্দ্র গিরির মৃত্যুর আসল কারণ খুঁজতেই এই ঘটনার তদন্তভার দেওয়া হয় সিবিআইয়ের হাতে।
নরেন্দ্র গিরির ওই সুইসাইড নোটটি অখিল ভারতীয় আখড়া পরিষদের লেটার হেডে লেখা। সেখানে তিনি স্পষ্ট উল্লেখ করেছেন, আনন্দ গিরির জন্যই তাঁর মনে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। তিনি জানিয়েছেন, গত ১৩ সেপ্টেম্বরেই তিনি নিজেকে শেষ করে ফেলার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন কিন্তু সাহস জোগাতে পারেননি। নরেন্দ্র গিরি লিখেছেন, 'আজ অর্থাৎ ২০ সেপ্টেম্বর আমি খবর পেলাম ২-১ দিনের মধ্যেই আনন্দ গিরি আমার সঙ্গে এক মহিলার ছবি কম্পিউটারের সাহায্য নিয়ে ভাইরাল করে দিতে পারে।’ তাঁর দাবি, আনন্দ গিরি নাকি তাঁকে রীতিমতো ছবি ভাইরাল করে দেওয়ার হুমকি দিয়েছিলেন। এরপরই তিনি আত্মহত্যার সিদ্ধান্ত নেন।












Click it and Unblock the Notifications