সাভাদির পরে শেট্টারের কংগ্রেসে যোগদান! কর্নাটকে কেন 'টলমল' বিজেপির নৌকা
সামনেই নির্বাচন। তাই আর কোনও রকম সময় নষ্ট নয়। রবিবার দল এবং বিধায়ক পদে ইস্তফা দেওয়ার পরে সোমবার কংগ্রেসে যোগ দিলেন কর্নাটকের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী জগদীশ শেট্রার। তবে তিনি সতর্ক করে বলেছেন কর্নাটকের অন্তত ২০ থেকে ২৫ আসনে তার অবস্থানের প্রভাব পড়বে। অন্যদিকে মুখ্যমন্ত্রী বোম্বাই বলেছেন, ক্ষতি কমাতে পদক্ষেপ করা হবে।
এদিন বেঙ্গালোরে জগদীশ শেট্টারের দলে যোগ দেওয়ার অনুষ্ঠানে কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে রাহুল গান্ধীর ১৩৫ আসনে জিতে ক্ষমতায় ফেরার কথা সবার সামনে রেখেছেন। তিনি বলেছেন, জগদীশ শেট্টার কংগ্রেসে যোগ দেওয়ায় এই লক্ষ্য মাত্রা ১৫০-এ গিয়ে পৌঁছবে। তিনি বলেছেন, জগদীশ শেট্টার নিজে জেতার পাশাপাশি অন্যদেরও জেতাবেন।

প্রসঙ্গত লিঙ্গায়েত সম্প্রদায়ের এই নেতা দল ছাড়ায় ইতিমধ্যে বিজেপির অভ্যন্তরে আলোড়ন তৈরি হয়েছে। কেননা কর্নাটকে লিঙ্গায়েত সম্প্রদায়র জনসংখ্যা ১৭-১৮ শতাংশের আশপাশে। যে কোনও সরকার গঠনের ক্ষেত্রে এই সংখ্যক ভোট যথেষ্টই গুরুত্বপূর্ণ।
এছাড়াও আগেই প্রাক্তন উপমুখ্যমন্ত্রী ও লিঙ্গায়েত নেতা লক্ষ্মণ সাভাদিও কংগ্রেসে যোগ দিয়েছেন। এই দুই লিঙ্গায়েত নেতার একসঙ্গে দলত্যাগ করে কংগ্রেসে যোগ দেওয়ার ঘটনা বিজেপির ক্ষমতায় ফেরার ভাগ্যের ওপরে প্রভাব ফেলবে বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ।
হুবলি-ধারওয়াদ সেন্ট্রাল আসন থেকে ছয়বারের বিধায়ক ছিলেন জগদীশ শেট্টার। তাঁর এই আসনের জন্য বিজেপি কোনও প্রার্থী এখনও না ঘোষণা করলেও, কেন্দ্রীয় নেতৃত্বে তাঁকে এবার তাঁকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা থেকে সরে দাঁড়ানোর কথা বলেছিল। কিন্তু তিনি রাজি হননি।

শেট্টারের মান ভাঙাতে মুখ্যমন্ত্রী বাসবরাজ বোম্বাই, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী প্রহ্লাদ যোশী এবং ধর্মেন্দ্র প্রধান তাঁর সঙ্গে কথা বলেছিলেন। এমন কী প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বিএস ইয়েদুরিয়াপ্পাও তাঁর সঙ্গে কথা বলেছিলেন। তাঁকে রাজ্যপাল করার প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তিনি কিছুতেই হুবলি-ধারওয়াদ সেন্ট্রাল আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার দাবি থেকে সরে আসেননি।
২০১২ সালে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী সদানন্দ গৌড়ার বিরুদ্ধে ইয়েদুরিয়াপ্পা বিদ্রোহ ঘোষণা পরে তাঁর অনুগত হিসেবে পরিচিত জগদীশ শেট্টারকে মুখ্যমন্ত্রী করে বিজেপি নেতৃত্ব। এব্যাপারে ইয়েদুরিয়াপ্পা বলেছেন, শেট্টারকে লোকে চেনে বিজেপির কারণে।

রবিবার দল ও বিধায়ক পদে ইস্তফা দেওয়ার পরে জগদীশ শেট্টার নির্বাচনী কৌশল ঠিক করতে প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি ডিকে শিবকুমার, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী সিদ্দারামাইয়া-সহ অন্য কংগ্রেস নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। শেট্টার বলেছেন, তিনি মুখ্যমন্ত্রী কিংবা কোনও দফতর দাবি করেননি, তিনি শুধু ভোটে লড়তে চেয়েছিলেন। কেননা তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির কোনও অভিযোগ নেই।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, বিজেপি অনুমান করতে পারেনি একজন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী এবং উপমুখ্যমন্ত্রী এইভাবে আসনের কারণে দল ছাড়তে পারেন। যা রাজ্য বিজেপি নেতৃত্বের কাছে বড় ধাক্কা। বিজেপিতে কি নেতারা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ছেন, সেই প্রশ্নও উঠতে শুরু করেছে এই ঘটনার পরে।












Click it and Unblock the Notifications