ইঞ্জেকশন ছাড়াই করোনার টিকা! ভারত বায়োটেকের বিবিভি১৫৪ ভ্যাকসিনের তৃতীয় পর্যায়ের ট্রায়াল শেষ
ইঞ্জেকশন ছাড়াই করোনার টিকা! ভারত বায়োটেকের বিবিভি১৫৪ ভ্যাকসিনের তৃতীয় পর্যায়ের ট্রায়াল শেষ
হায়দরাবাদ ভিত্তিক সংস্থা ভারত বায়োটেক করোনার ভ্যাকসিন বিবিভি১৫৪ তৃতীয় পর্যায়ের ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল সম্পন্ন করেছে। প্রাপ্তবয়স্ক ও শিশুদের একসঙ্গে তৃতীয় পর্যায়ের ট্রায়াল হয়। ভারত বায়োটেক আগে করোনার টিকা কোভ্যাক্সিন তৈরি করেছে। এবার করোনা ভাইরাসের জন্য ইনট্রানাসাল ভ্যাকসিন তৈরি করল। সোমবার ভারত বায়োটেকের তরফে জানানো হয়েছে, এই ইনট্রানাসাল ভ্যাকসিনের তৃতীয় পর্যায়ের ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল সম্পন্ন হয়েছে। ট্রায়ালে ভ্যাকসিনটি নিরাপদ প্রমাণিত হয়েছে।

বিবিভি১৫৪ ভ্যাকসিন কী
বিবিভি১৫৪ হল করোনার জন্য তৈরি করা একটি অভিনব অ্যাডেনোভাইরাস ভেক্টরযুক্ত ভ্যাকসিন। অ্যাডেনোভাইরাস শরীরে একটি নির্দিষ্ট পরিমাণে অ্যান্টিজেন সরবরাহকারী ভেক্টর হিসেবে ব্যবহার কর হয়। এই ভেক্টর সহজেই শরীরের বাইরে থেকে আসা কোনও ভাইরাসকে চিহ্নিত করতে পারে। তার বিরুদ্ধে অ্যান্টিবডি তৈরি করে। এই ইনট্রানাসাল ভ্যাকসিন মূলত ইমিউনোগ্লোবুলিন এবং মিউকোসাল ইমিউনোগ্লোবিনের সাহায্যে একটি অ্যান্টিবডি তৈরি করতে পারে। যার ফলে শরীরে ইমিউনিটি শক্তি এক ধাক্কায় অনেকটা বেড়ে যায়। ভারত বায়োটেকের অফিসিয়াল ওয়েবসাইডে জানানো হয়েছে, এই ভ্যাকসিনের ফলে নাকের মিউকোসায় ইমিউন সক্রিয় হয়ে ওঠে। এর ফলে সংক্রমণ বেশি ছড়িয়ে পড়তে পারে না।

বিবিভি১৫৪ ভ্যাকসিনের সুবিধা
ইনট্রানাসাল বিবিভি১৫৪ ভ্যাকসিন সংক্রমণ প্রতিরোধ করতে সক্ষম। এই ভ্যাকসিনের ফলে সংক্রমিত হওয়ার সম্ভাবনাও খুব কম। ভারত বায়োটেকের তরফে জানানো হয়েছে, এই ভ্যাকসিন শিশুদের জন্য প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য আদর্শ। এই ভ্যাকসিনের জন্য ইঞ্জেকশনের ব্যবহারের প্রয়োজন পড়ে না। যার ফলে ভ্যাকসিন নিতে গিয়ে ব্যথা পাওয়ার সম্ভবনা নেই। যার ফলে অনেকে যাঁরা ইঞ্জেকশনে ভয় পান, সহজে এই ভ্যাকসিন নিতে পারবেন। এই ভ্যাকসিন নাকের শ্লেষ্মার সাহায্যে একটি প্রতিরোধ গড়ে তোলে। ভারতে প্রথম করোনার বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য ইঞ্জেকশন বিহীন ইনট্রানাসাল ভ্যাকসিন প্রস্তুত করেছে ভারত বায়োটেক।

তৃতীয় পর্যায়ের ট্রায়ালের রিপোর্ট
ভারত বায়োটেকের তরফে জানানো হয়েছে, বিবিভি১৫৪ ভ্যাকসিনটির দুটো ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল একসঙ্গে পরিচালিত করা হয়েছিল। যাঁরা আগে কোভ্যাক্সিন বা কোভিশিল্ডের করোনা টিকার দুটো ডোজ নিয়েছেন। তাঁরাও হেটেরোগলাস বুস্টার ডোজ হিসেবে বিবিভি১৫৪ ভ্যাকসিনটি নিতে পারেন বলে জানা গিয়েছে। ভারত বায়োটেকের তরফে জানানো হয়েছে, ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের সমস্ত তথ্য এনআরএ-এর কাছে পাঠানো হয়েছে। ভারত বায়োটেক বিবিভি১৫৪ ভ্যাকসিনের তৃতীয় পর্যায়ের পৃথকভাবে দুটো ট্রায়াল একসঙ্গে করেছে। একটি ট্রায়ালের উদ্দেশ্য ছিল প্রাথমিক ডোজের সময়সূচী নির্ধারন করা। আর একটি ট্রায়ালে ভ্যাকসিনটি নিরাপদ কি না, ইমিউনিটি শক্তি বাড়াতে কতটা সক্ষম, সেই বিষয়ে পরীক্ষা করা হয়। ভারত বায়োটেকের তরফে জানানো হয়, ভারতের ১৪টি জায়াগায় এই ট্রায়াল পরিচালনা করা হয়েছে।












Click it and Unblock the Notifications