ওড়িশায় বাংলাভাষী পরিযায়ী শ্রমিকের উপর ফের হামলা, গর্জে উঠল তৃণমূল
বিজেপি শাসিত ওড়িশায় ফের বাঙালি নিগ্রহের ঘটনা ঘটল। বাংলায় কথা বলার 'অপরাধে' আক্রান্ত পূর্ব মেদিনীপুরের এক পরিযায়ী শ্রমিক। নন্দকুমারের শীতলপুর গ্রামের বাসিন্দা ২১ বছর বয়সী মুস্তাফা আলিকে বাংলাদেশি সন্দেহে রেলস্টেশনে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।
জানা গিয়েছে, গুরুতর আহত অবস্থায় জিআরপি কর্মীরা মুস্তাফাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন। পুলিশ এই ঘটনায় কোনও সাহায্য করেনি বলে পরিবারের অভিযোগ। এই ঘটনার পর আতঙ্কে মুস্তাফার পরিবার জানিয়েছে, তারা আর ভিনরাজ্যে কাজের জন্য যাবেন না।

এমন ন্যক্কারজনক ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তৃণমূলের তমলুক জেলা চেয়ারম্যান অসিত বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, বিষয়টি মুখ্যমন্ত্রী ও রাজ্য প্রশাসনের কাছে উত্থাপন করা হবে এবং ওড়িশা সরকারের সঙ্গেও আলোচনা করা হবে।
সাম্প্রতিক সময়ে বাইরের, বিশেষত বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলিতে বাংলাভাষী পরিযায়ী শ্রমিকদের ওপর হামলার ঘটনা অনেক বেড়েছে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এর আগেও এই ধরনের অত্যাচারের প্রতিবাদ করেছেন। এমনকী এই ওড়িশাতেও বাঙালি নিগ্রহের ঘটনা ঘটেছে।
মুখ্যমন্ত্রী মমতা রাজ্যের শ্রমিকদের বাংলায় ফিরে আসার আহ্বান জানিয়ে 'শ্রমশ্রী পোর্টাল' চালু করেছেন। মুখ্যমন্ত্রীর আশ্বাস, রাজ্যে ফিরে আসা শ্রমিকদের দক্ষতার ভিত্তিতে কাজের ব্যবস্থা করা হবে। তাদের জন্য একবছরের মাসিক অর্থ সাহায্যেরও ব্যবস্থা করেছে সরকার।
তৃণমূলের সরাসরি অভিযোগ, বাংলা থেকে যে শ্রমিকেরা ভিন রাজ্যে যান, তাদের দক্ষতা বিচার করেই কাজে নেওয়া হয়। তাহলে কেন বারবার বিজেপি শাসিত রাজ্যে এমন ঘটনা ঘটছে? মুখ্যমন্ত্রী মনে করিয়ে দিয়ে বলেছেন, অন্য রাজ্য থেকে এরাজ্যে লক্ষ লক্ষ মানুষ কাজ করতে আসেন। তাদের সঙ্গে কিন্তু কখনও বিমাতৃসুলভ আচরণ করা হয় না। বরং বাংলা তাদের ভালোবেসে আপন করে নেয়।
এই ঘটনার প্রতিবাদে মুখ্যমন্ত্রী ইতিমধ্যে ভাষা আন্দোলন শুরু করেছেন। এদিকে কলকাতার মেয়ো রোডে তৃণমূলের ভাষা আন্দোলনের মঞ্চ ভেঙে দেওয়া হয়েছে সেনার পক্ষ থেকে। এই বিষয়ে মুখ্যমন্ত্রী বিজেপি সরকারের সমালোচনা করলেও সেনার প্রতি কোনও ক্ষোভ ব্যক্ত করেননি।












Click it and Unblock the Notifications