মামা-ভাগ্নের ব্যাঙ্ক প্রতারণা, ব্যবসা বন্ধে অনুৎপাদক সম্পদের পরিমাণ আরও কয়েক হাজার কোটি
নীরব মোদী এবং মেহুল চোকসহিদের ব্যাঙ্ক প্রতারণার পরিমাণ আরও বাড়তে চলেছে। পিএবির ১২৭০০ কোটির লেটার অফ আন্ডারটেকিং প্রতারণার তদন্তে নেমে একাধিক ব্যবসায়িক সংস্থা বন্ধ করে দিয়েছে তদন্তকারিরা।
নীরব মোদী এবং মেহুল চোকসহিদের ব্যাঙ্ক প্রতারণার পরিমাণ আরও বাড়তে চলেছে। পিএবির ১২৭০০ কোটির লেটার অফ আন্ডারটেকিং প্রতারণার তদন্তে নেমে মামা-ভাগ্নের একাধিক ব্যবসায়িক সংস্থা বন্ধ করে দিয়েছে তদন্তকারী সংস্থা। ফলে আরও ৮০০০ কোটির ব্যাঙ্ক ঋণ অনুৎপাদক সম্পদে পরিণত হতে যাচ্ছে।

রিজার্ভ ব্যাঙ্কের দেওয়া গাইড লাইন অনুযায়ী, প্রতারণা নজরে আসলেই, অভিযুক্তের লোনের পরিমাণ জানাতে হবে। ফলে ২ বিলিয়ন ডলারের লেটার অফ আন্ডারটেকিং প্রতারণার পুরোটাই এখন অনুৎপাদক সম্পদে পরিণত হয়েছে। এখন ব্যাঙ্কগুলির ওপর আসতে চলেছে আরও প্রায় ৮ হাজার কোটি অর্থাৎ ১.২ বিলিয়ন ডলারের অনুৎপাদক সম্পদ। সব মিলিয়ে প্রতারণার পরিমাণ হতে চলেছে প্রায় ৩ বিলিয়ন ডলার।
মেহুল চোকসহির গীতাঞ্জলি জেমসকে ধার দেওয়া ব্যাঙ্কগুলির মাথায় রয়েছে আইসিআইসিআই ব্যাঙ্ক। ব্যাঙ্কগুলির মাধ্যমে গীতাঞ্জলিকে দেওয়া ঋণের পরিমাণ প্রায় ৫৩০০ কোটি টাকা। য়ার মধ্যে আইসিআইসিআই-এর তরফে ৫০০ কোটির লোন দেওয়া হয়েছে, প্রকাশ্যে এসেছে এমনটাই। সব থেকে বেশি ঋণ দিয়েছে পঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাঙ্ক।
নীরব মোদীর দুই সংস্থা ফায়ারস্টার ইন্টারন্যাশনাল প্রাইভেট লিমিটেড এবং ফায়ারস্টার ডায়মন্ড ইন্টারন্যাশনাল প্রাইভেট লিমিটেডকে দেওয়া ঋণের পরিমাণ প্রায় ২৫০০ কোটি।
মামা-ভাগ্নেকে ঋণপ্রদানকারী প্রায় প্রত্যেকটি ব্যাঙ্কই তাদের বোর্ডকে ঋণ সম্পর্কে জানায়েছে। ব্যাঙ্কারদের তরফে জানানো হয়েছে, এই কোম্পানিকে দেওয়া ঋণ স্পেশাল মেনশন অ্যাকাউন্টস-এর দ্বিতীয় ক্যাটেগরিতে রাখা হয়েছে। কোনও ঋণ পরিশোধের প্রক্রিয়া যদি ৬০ দিনের বেশি কিন্তু ৯০ দিনের কম বন্ধ থাকে তাহলে তাকে স্পেশাল মেনশন অ্যাকাউন্টস-এর দ্বিতীয় ক্যাটেগরিতে রাখা হয়। অন্যদিকে এই প্রক্রিয়া যদি ৯০ দিনের বেশি বন্ধ থাকে তাহলে তা অনুৎপাদক সম্পদে পরিণত হয়।
দেশের বিভিন্ন জায়গায় নীরব মোদী এবং মেহুল চোকসহির সংস্থায় হানা দিয়েছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাগুলি। এরপর থেকে সেগুলি বন্ধ । ফলে ব্যবসাও বাধাপ্রাপ্ত হচ্ছে। ফলে ঋণ ফেরতের জায়গায়ও নেই তারা। ফলে এই সব ঋণ অনুৎপাদক সম্পদের মধ্যেই পড়বে। এমনটাই জানিয়েছেন, এক সিনিয়র ব্যাঙ্ক আধিকারিক।
ইডি দেশ ব্যাপী নীরব মোদী এবং গীতাঞ্জলি জেমসের বিভিন্ন শাখায় হানা দিয়েছে এবং প্রায় ৫ হাজার কোটির সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করেছে। একইসঙ্গে মোদী-চোকসহির ডিম্যাট অ্যাকাউন্টও বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।












Click it and Unblock the Notifications