সেবার নামে পরস্ত্রীকে হরণ বাবা রাম রহিমের, আদালতের রায়ের অপেক্ষায় স্বামী
বাবার দর্শনে গিয়ে ডেরায় স্ত্রীকে খোয়াতে হয়েছিল রাজস্থানের দিনমজুরকে, আইন আদালত করেও এখনও ফিরে পাননি স্ত্রীকে
গিয়েছিলেন বাবার ডেরায় আশীর্বাদ নিতে আর সেখানেই রেখে আসতে হল স্ত্রীকে। বলা ভাল, জোর করেই আটকে রাখা হল। ঘটনাটি ২০১৫ সালের মার্চ মাসে। সেই শেষবারের মত স্ত্রীকে দেখেছিলেন জয়পুরের দিনমজুর কমলেশ। বাবাজির নজর বা কু-নজরে পড়ে আজও ফেরেননি কমলেশের স্ত্রী গুড্ডি।

সংসারে শান্তি ও স্বচ্ছ্বলতা আনতেই বাবা রাম রহিমের ডেরার আশ্রমে স্ত্রী গুড্ডি ও দুই ছেলেকে নিয়ে গিয়েছিলেন কমলেশ। বাবার প্রবচন শুনে যখন বাড়ি ফেরার তোড়জোড় করছেন, তখনই কয়েকজন স্বেচ্ছাসেবক এসে জানায়, বাবা গুরমিতের সেবায় স্থান পেয়েছেন তাঁর স্ত্রী গুড্ডি। দিন কয়েক তাঁকে সেখানেই থাকতে হবে। বাবা-র আশীর্বাদধন্য হয়েছেন ভেবে খুশিই হয়েছিলেন কমলেশ। কিন্তু দিন দুয়েক কেটে যাওয়ার পরও গুড্ডি না ফেরায় ডেরা আধিকারিকদের কাছে যান কমলেশ। কিন্তু তারা বলে, গুড্ডি ঠিক সময়ে ফিরে যাবে। এরপরই আর উপায় না দেখে সিরসা থানায় যান কমলেশ। কিন্তু সেখান থেকে কোনও সহযোগিতা বা আশ্বাস না পেয়ে শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন কমলেশ।

এরপর ২০১৫ সালের মে মাসের জয়পুরেরে একটি আদালতের নির্দেশে জওহর সার্কেল থানায় অপহরণ ও অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের অভিযোগে মামলা দায়ের হয়। তবে তদন্তের চূড়ান্ত রিপোর্টে রামরহিমের কোনও বয়ান পাওয়া যায়নি বলে উল্লেখ করা হয়। এরপরই ফেব্রুয়ারি মাসে জয়পুরের এসিজেএম আদালতে পাল্টা প্রতিবাদ জানিয়ে মামলা দায়ের করা হয় বলে জানিয়েছেন কমলেশের আইনজীবী বাবুলাল বৈরোয়া। এই মামলার পরবর্তী শুনানি ৭ই সেপ্টেম্বর ধার্য করা হয়েছে। তবে এরইমধ্যে কমলেশকে ডেরার লোকজন নানাভাবে ভয় দেখাচ্ছে বলেও অভিযোগ করেছেন তাঁর আইনজীবী।
গুরমিত রামরহিম সিংয়ের শাস্তি হলে তাঁর পক্ষে মামলা বেশ কিছুটা শক্ত হবে বলেই আশাবাদী কমলেশ। তবে স্ত্রীকে ফিরে পাবেন কি ? আশা থাকলেও আশঙ্কাও রয়েছে। কারণ বাবাজির ডেরায় খুন, পাচার সবই সম্ভব।












Click it and Unblock the Notifications