সভ্যতার আলো থেকে বহুদূরে চলছে জীবনযুদ্ধ, শবরদ গ্রামে পুজোর আনন্দ দেবে ওঁরা
কাঠুরিয়ার গল্প অনেকেই পড়েছে। জঙ্গলের আদিম অধিবাসী যাদের কাঠ কেটে দিন গুজরান হয় তাদের জীবন যুদ্ধের লড়াই সম্পর্কেও কমবেশি সবাই ওয়াকিবহাল। তবে জঙ্গলের আদিম অধিবাসী? তারা হয়তো এই সভ্য সমাজে থেকেও নে-ই, সভ্যতার আলো হয়ত আজও তাদের মাঝে সঠিকভাবে পৌঁছায়নি।জঙ্গলমহলের বিনপুর-২ ব্লকের ঘন জঙ্গলঘেরা ছোট্ট একটি গ্রাম। বেলপাহাড়ি থেকে যার দূরত্ব প্রায় ৩০ কিলোমিটার।
পাহাড়ের গা'য়ে ঘন জঙ্গল, জঙ্গলের গা ঘেঁষে কুলুকুলু শব্দে আপন ছন্দে বয়ে চলেছে ছোট্ট জলধারা। প্রকৃতির এই অপরূপ সৌন্দর্য্যের মাঝেই পাহাড়ের ঢালেই ঘন জঙ্গলের অন্দরে ছোট্ট গ্রামে শুকু, রজনী, লালদের বসবাস। শবর গ্রামের মানুষগুলোর বেঁচে থাকার প্রাণান্তকর লড়াইটা কত যে দুঃসহ তা চোখে না দেখলে কল্পনা করা সম্ভব নয়। এযেন প্রদীপের নীচেই অন্ধকার! সভ্যতার আলো থেকে বঞ্চিত একটি শবর গ্রাম - সে-ই গ্রামেই পৌঁছে গিয়েছিল 'স্বপ্ন দেখার উজান গাঙ'।

যুদ্ধ
জঙ্গলে কাঠ কুড়িয়ে, আর পিঁপড়ের ডিম ভেঙে যা আসে তা দিয়েই কোনওরকমে বুদ্ধ, লকু শবরদের ফ্যান ভাত জোটে। কোনোদিন হয়ত তাও জোটেনা! মানুষগুলোর অবস্থা এতোটাই করুণ যে ওদের বাড়িতে খাটিয়া বানানোরও পয়সা নেই৷ অগত্যা নীচে শুয়েই রাতের পর রাত কেটে যায়।

সভ্যতার আলো থেকে দূরে
শীতে নেই কোনো কম্বল, নেই কোনো ভারী শীত পোশাক। বাড়িতে নেই জল রাখার নূন্যতম পাত্র! এক কাপড়েই দিনের পর দিন কেটে যায়। নাহ! ওদের দিকে কেউ ফিরে তাকায় না। কারণ - ওরা যে বঞ্চিত, ওরা যে প্রান্তিক, ওরা যে অসহায়, ওরা যে বিচ্ছিন্ন - ওরা যে সভ্যতার আলো থেকে আজও অনেক অনেক দূরে!

কী বলছে ওঁরা ?
শুকু শবর জানালেন, "কাছের বাজার যেতে প্রায় দেড় ঘন্টা হাঁটতে হয়। দুর্গা ঠাকুর দেখতে হলে জঙ্গল পথে দু'ঘন্টা হাঁটতে হয়। পাহাড়ি খাড়া পথ। তা-ই হাঁটাপথই একমাত্র ভরসা। গ্রামের বেশিরভাগ মানুষই বেলপাহাড়িরই মুখ দেখেননি। দু-একজন গেলেও তা হাতেগোনা দু-একবার। শিক্ষার আলো তো অনেক দূর! গ্রামের বেশিরভাগ মানুষই ঘড়ি দেখতে জানেননা, ওদের জানা নেই মাস, দিনের হিসেব। জঙ্গলে পোকামাকড়, সাপের অহরহ উপদ্রব - আর তাতেই সম্প্রতি প্রাণ গিয়েছে একাধিক গ্রামবাসীর। এই গ্রামের মতোই কাঁকড়াঝোড় লাগোয়া ঘন জঙ্গলের মাঝের একটি শবর গ্রামেরও একই করুণ চিত্র।"

কী বলছেন সংগঠনের প্রধান ?
সংগঠনের প্রধান পৃথ্বিশরাজ কুন্তি বলেন, "প্রত্যেক বছর পুজোয় উৎসবের আনন্দকে 'স্বপ্ন দেখার উজান গাঙ' পরিবার সমাজের প্রান্তিক, অসহায়, হতদরিদ্র মানুষের মাঝে সাধ্যমতো ভাগ করে নেয়। এবারও বাংলার একাধিক জেলায় আমাদের পক্ষ থেকে থাকছে একাধিক উদ্যোগ। তবে এবার পুজোয় আমরা সেই সমস্ত মানুষের সাথে আনন্দ ভাগ করে নেব যাঁদের জীবনে পুজোর আনন্দ টুকুই নেই। এবার পুজোয় আমরা বিনপুর-২ ব্লকের জঙ্গলঘেরা ছোট্ট শবর গ্রাম ও কাঁকড়াঝোড় লাগোয়া জঙ্গলের ছোট্ট শবর গ্রামের মানুষের পাশে দাঁড়ানোর লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছি। লক্ষ্য সভ্যতার আলো থেকে শত মাইল দূরে থাকা মানুষ গুলোকে জীবনের মূলস্রোতে আনা।"












Click it and Unblock the Notifications