ন্যানো কারখানার জমি বদলে যাচ্ছে মাছের ভেড়িতে, সিঙ্গুরে শুরু মাটি কাটার কাজ
এই শতাব্দীর প্রথম দশকে যে সিঙ্গুরে (Singur) টাটাদের মোটরগাড়ি তৈরি কারখানার কাজ প্রায় সম্পূর্ণ হয়ে গিয়েছিল, তার পরের ইতিহাস তো সবারই জানা। এবার সেই কারখানার জমিতে মাছের ভেড়ি (Fish farming) তৈরি হতে চলেছে। যার জন্য জেস
এই শতাব্দীর প্রথম দশকে যে সিঙ্গুরে (Singur) টাটাদের মোটরগাড়ি তৈরি কারখানার কাজ প্রায় সম্পূর্ণ হয়ে গিয়েছিল, তার পরের ইতিহাস তো সবারই জানা। এবার সেই কারখানার জমিতে মাছের ভেড়ি (Fish farming) তৈরি হতে চলেছে। যার জন্য জেসিবি দিয়ে মাটি কাটার কাজ শুরু হয়েছে। যা নিয়ে তরজাও শুরু হয়েছে রাজনৈতিক মহলে।

গোপালনগর মৌজায় ভেড়ি তৈরির কাজ শুরু
সিঙ্গুরের গোপালনগর মৌজায় মাছের ভেড়ি তৈরির কাজ শুরু হয়েছে। সেখানে জেসিবি দিয়ে মাটি কাটার কাজও অনেকটাই এগিয়ে গিয়েছে। ১০ বিঘা জমির এক কৃষক তার জমিটি ভেড়ি তৈরি করার ব্যাপারে সরকারি অনুমতি নিয়ে কাজ শুরু করেছেন বলে সংবাদ মাধ্যমকে জানিয়েছেন। তাঁর দেখাদেখি আপেশর কয়েকটি জমির কৃষকরাও একই পথে চলবেন বলে জানিয়েছে। এব্যাপারে সরকারের জল ধরো-জল ভরো প্রকল্পের সাহায্য নেওয়া হবে। মাছের ব্যবসা ছাড়াও অন্য জমিতে চাষের জলের সরবরাহ করা হবে বলে জানিয়েছে ওই কৃষক।

তৃণমূল ও স্থানীয় পঞ্চায়েতের দাবি
সিঙ্গুর পঞ্চায়েত সমিতির কর্মাধ্যক্ষ দুধকুমার ধারা বলেছেন, পুকুর তৈরি করা থেকে শুরু করে তিন বছরের জন্য মাছের চারা, মাছের প্রয়োজনীয় সার, ওষুধ সবই বিনামূল্যে দেবে রাদ্য সরকার। সূত্রের খবর অনুযায়ী, যেসব চাষীর ৩ বিঘার ওপরে জমি আছে, তাঁদেরকে মাছচাষের জন্য সুবিধা দেওয়া হবে। সরকারের আত্মিক প্রকল্পে এই কাজ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন তিনি।

রাজনৈতিক তর্ক
কারখানার স্বপ্ন শেষ করে সেখানে ভেড়ি বানাতে উৎসাহ দিচ্ছে সরকার। এদিন এমনটাই মন্তব্য করেছেন বিজেপির প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ। তিনি আরও বলেছেন, ভেড়ি যেখানে চলার কথা সেখানে লুঠ হয়ে যাচ্ছে। তিন ও চার ফসলী জমিতে ভেড়ির স্বপ্ন দেখানো হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি। কটাক্ষ করে তিনি বলেছেন, দিদিমনি সর্ষে ছুঁড়েছিলেন, সেই সর্ষের মধ্যে যে ভূত রয়েছে, এখন তা প্রমাণিত হয়েছে। সিঙ্গুরের কারখানার জমিতে মাছের ভেড়ি তৈরি নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন বাম নেতা সুজন চক্রবর্তী। অন্যদিকে তৃণমূল বিধায়ক বেচারাম মান্না বলেছেন, সিঙ্গুরে কী হচ্ছে না হচ্ছে, তা সেখানকার মানুষ জানেন।

কৃষি গৌরব, শিল্প সম্পদ, বলেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী
২০২১-এর বিধানসভা নির্বাচনের আগে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ঘোষণা করেছিলেন সিঙ্গুরে অ্যাগ্রো ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্ক তৈরি করা হবে। তিনি বলেছিলেন কৃষি আমাদের গৌরব, শিল্প সম্পদ। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছিলেন পশ্চিমবঙ্গ ক্ষুদ্রশিল্প উন্নয়ন নিগম ১১ একর জমির ওপরে পার্ক তৈরি করবে। ইচ্ছুক শিল্পপতিদের ১০ থেকে ৩০ কাঠার প্লট দেওয়া হবে। তিনি বলেছিলেন, সিঙ্গুরের জমি ফেরত দিয়েছি। চাষীদের প্রতিমাসে ভাতা দেওয়া ছাড়াও বিনা পয়সায় চাস দেওয়ার কথাও জানিয়েছিলেন তিনি।

সরকার দাবি করলেও, চাষযোগ্য হয়নি জমি
২০১৬-তে সিঙ্গুরের কৃষকদের হাতে জমি ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছিল সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে। সরকারের তরফ থেকে জানানো হয়েছিল, জমি চাষযোগ্য করে তা তুলে দেওয়া হচ্ছে। যদিও সেখানকার চাষীরা বলেছিলেন, যে অবস্থায় জমি রয়েছে, তা সেখানকার জমি যতই উর্বর হোক না কেন, তাকে চাষযোগ্য করে তুলতে প্রচুর খরচ করতে হবে। তাই ২০১৬-তে জমি হাতে আসার পরে সেখানে সেরকম কিছু চাষ-আবাদ লক্ষ্য করা যায়নি, মুখ্যমন্ত্রী সেখানে সর্ষে ছড়িয়ে আসার পরেও। যদিও তৃণমূলের দাবি মাছ চাষও তো একধরনের চাষ।












Click it and Unblock the Notifications