সুভাষ ভৌমিক প্রয়াত! বাংলা তথা ভারতীয় ফুটবলে নক্ষত্রপতন
সুভাষ ভৌমিক প্রয়াত। প্রাক্তন ফুটবলার তথা কোচ এদিন একবালপুরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তিনি করোনা আক্রান্ত হয়েছিলেন। দীর্ঘদিন ধরে ভুগছিলেন কিডনির অসুখে। সাড়ে তিন মাস ধরে নিয়মিত ডায়ালিসিস চলছিল। বছর ২৩ আগে তাঁর বাইপাস সার্জারিও হয়েছিল। মৃত্যুকালে বয়স হয়েছিল ৭২। ময়দানের ভোম্বলের প্রয়াণে শোকাহত ক্রীড়া মহল। তাঁর প্রয়াণে গভীর শোকপ্রকাশ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। হাসপাতালে গিয়ে শেষ শ্রদ্ধা জানান মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম, অরূপ বিশ্বাস প্রমুখ।

সুভাষ ভৌমিক ইস্টবেঙ্গল ও মোহনবাগানে স্ট্রাইকার হিসেবে বহু ম্যাচ খেলেছেন। ইস্টবেঙ্গলেই তিনি কাটিয়েছেন কেরিয়ারের বেশিরভাগ সময়। ১৯৭০ থেকে ভারতের হয়ে ৬৯টি ম্যাচ খেলেছেন, গোল রয়েছে ৫০টি। ১৯৬৯ সালে ইস্টবেঙ্গলে যোগদানের পরের বছর চলে গিয়েছেন মোহনবাগানে। ১৯৭৩ সালে লাল হলুদে ফেরেন, ১৯৭৬ সালে ফের যান মোহনবাগানে। ১৯৭৮ সালে ইস্টবেঙ্গলে ফিরে আসেন। অবসর নেন ১৯৭৯ সালে। ১৯৭০ সালে এশিয়ান গেমসে ব্রোঞ্জজয়ী দলের সদস্য ছিলেন। মারডেকা কাপ, পেস্তা সুকানের মতো টুর্নামেন্টগুলিতে খেলেছেন।
Subhas Bhowmick scored the 2nd hatrick for India in the Merdeka Cup when he scored three goals in India's 5-1 triumph vs Phillipines. pic.twitter.com/8BfxMLv1bx
— Gautam Roy (@gautamfootball) December 6, 2021
কোচ হিসেবে তিনি সবচেয়ে বেশি সফল ইস্টবেঙ্গলেই। ১৯৯৯ থেকে ২০০০ এবং ২০০০ থেকে ২০০৫ সাল অবধি ইস্টবেঙ্গলের কোচ ছিলেন। ২০০২-০৩ ও ২০০৩-০৪ মরশুমে তাঁর কোচিংয়েই ইস্টবেঙ্গল জাতীয় লিগ জেতে। কলকাতা লিগ, ডুরান্ড কাপ ও আইএফএ শিল্ড জেতার পাশাপাশি ২০০৩ সালে সুভাষ ভৌমিকের কোচিংয়েই ইস্টবেঙ্গল আশিয়ান কাপ জিতেছিল। ২০০৫ সালে সেন্ট্রাল এক্সাইজে কর্মরত অবস্থায় ঘুষ নেওয়ার অভিযোগে তাঁকে সিবিআই গ্রেফতার করেছিল। পরে মুক্ত হলেও বছর ১৩ ধরে ওই মামলা চলে। শারীরিক অসুস্থতার কারণে জামিন পেয়েছিলেন সুভাষ ভৌমিক।
Shocked n saddened to hear the news about the demise of former #IndianFootball international stalwart Subhas Bhowmick this morning.
— Shaji Prabhakaran (@Shaji4Football) January 22, 2022
My deepest condolences to his family n loved ones. RiP🙏
AsianGames1970 bronze medalist and a firebrand coach will be missed. We lost a big asset. pic.twitter.com/XK00o4ccJJ
২০০৬ সালে তিনি মহমেডান স্পোর্টিংয়ে কোচিং করান। ২০০৭ সালে অবনমনের আওতা থেকে বাঁচতে সুভাষ ভৌমিককে টেকনিক্যাল ডিরেক্টর হিসেবে নিয়োগ করেছিল সালগাওকর। পরের মরশুমেও সেই দলেই টিডি ছিলেন ভৌমিক। ২০০৮-০৯ মরশুমে আই লিগে অবনমনের আওতা থেকে অব্যাহতি পেতে তাঁকে কোচ করে ইস্টবেঙ্গল। ২০০৯-১০ মরশুম অবধি লাল হলুদে কোচের দায়িত্ব সামলান সুভাষ ভৌমিক। পরের মরশুমে মোহনবাগানের দায়িত্ব নেন। টিডি হিসেবে তিনি শেষ ছিলেন চার্চিল ব্রাদার্সে। ২০১২-১৩ মরশুমে সুভাষের প্রশিক্ষণেই আই লিগের পয়েন্ট তালিকার শীর্ষে ছিল চার্চিল।
In August 1971 Subhas Bhowmick scored an emphatic hatrick in India's 5-1 triumph in the Merdeka Cup at Kuala Lumpur. # Indian Football. pic.twitter.com/r5iRUysqfc
— Gautam Roy (@gautamfootball) January 19, 2022
তাঁর ফুটবল কেরিয়ার অন্য খাতে বইয়ে দেওয়ার জন্য জ্যোতিষ গুহ আর পিকে ব্যানার্জির প্রতি বারেবারে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন সুভাষ ভৌমিক। ধূমপানের নেশা ছিল। ভৌমিক এক সাক্ষাতকারে বলেছিলেন, ১৯ বছর বয়সে ইস্টবেঙ্গলে আসি। তৎকালীন ফুটবল সচিব জ্যোতিষ গুহ ডেকে পাঠান আমাকে। সিনিয়ররা বলেছিলেন আমি সমস্যায় পড়তে পারি। জ্যোতিষ গুহ জানতে চান আমি ধূমপান করি কিনা। আমি হ্যাঁ বললে তিনি ছাড়তে বলেন। আমি বলি, পারব না। পরের দিন আমি কোন ব্র্যান্ডের সিগারেট খাই তা তিনি জানতে চান। আমি বললে তিনি বলেন, দামি ব্র্যান্ডের সিগারেট খেতে। সুভাষ ভৌমিক বলেন, সেই দিন থেকে আমি ১০০টি স্প্রিন্ট আর মাঠে ২০ পাক দৌড়ানো শুরু করি।
Two of the India's homegrown finest coaches - the one on the right is excelling now - Subhas Bhowmick and Khalid Jamil. pic.twitter.com/nCRVPL7tTl
— Gautam Roy (@gautamfootball) February 27, 2021
হাঁটুতে চোট লাগার পর মোহনবাগান তাঁকে দলে রাখতে চায়নি। এই সময় হতাশায় আত্মহত্যার ভাবনাও এসেছিল। কিন্তু তৎকালীন লাল হলুদ অধিনায়ক শান্ত মিত্র ও ফুটবল সচিব অজয় শ্রীমানি সুভাষকে নিয়ে যান কোচ পিকে ব্যানার্জির কাছে। বিয়ার স্পর্শ করব না এই প্রতিশ্রুতি আদায়ের পর তিনিই কাটিহারে পাঠিয়েছিলেন, সেখানে অনুশীলন শুরুর পর ইস্টবেঙ্গলে সই করা। ইস্টবেঙ্গলের হয়ে ৮৩টি গোল করেছেন। ১৯৯৬৯ সালে রোভার্স কাপ ফাইনালে হ্যাটট্রিক হাতছাড়া করেন। মোহনবাগানকে ১৯৭৫ সালের আইএফএ শিল্ড ফাইনালে ইস্টবেঙ্গল ৫-০ গোলে হারিয়েছিল, সেই ম্যাচেও গোল পাননি সুভাষ। গতকালই তাঁর চিকিৎসার ব্যবস্থা করা নিয়ে প্রাক্তন ফুটবলার, তিন প্রধান ও আইএফএ কর্তাদের নিয়ে বৈঠক করেন ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস। সুভাষ ভৌমিকের প্রয়াণে শোকাহত ময়দান। সুব্রত ভট্টাচার্যের কথায়, সুভাষ ভৌমিক না থাকলে আমরা প্রতিষ্ঠাই পেতাম না।












Click it and Unblock the Notifications