Euro 2020: ছিটকে গেল জার্মানি, ইতিহাস গড়ে ইউরোর শেষ আটে ইংল্যান্ড

ইউরো কাপ থেকে ছিটকে গেল জোয়াকিম লো-র জার্মানি। লন্ডনের ওয়েম্বলিতে জার্মানিকে ২-০ গোলে হারিয়ে ইউরোর শেষ আটে পৌঁছে গেল ইংল্যান্ড। দ্বিতীয়ার্ধে গোল দুটি করেন রাহিম স্টার্লিং ও হ্যারি কেন। ১৯৬৬ সাল থেকে জার্মানিকে কখনও বিশ্বকাপ ও ইউরোতে হারাতে পারেনি থ্রি লায়ন্স। ফলে এদিনের এই জয় নিঃসন্দেহে ইংল্যান্ডের স্মরণীয় জয় হিসেবে চিহ্নিত হয়ে রইল।

সাবধানী শুরু

সাবধানী শুরু

ওয়েম্বলিতে ইংল্যান্ড অবশ্য শুরুটা করেছিল একটু সতর্কভাবেই। প্রথমার্ধে সেরা সুযোগ পেয়েছিলেন রাহিম স্টার্লিং। কিন্তু ন্যয়ারের অনবদ্য দক্ষতার কাছে হার মানতে হয় তাঁকে। হ্যারি মাগুয়্যার অরক্ষিত জায়গায় থেকেও হেডে বল জালে জড়াতে ব্যর্থ হন।

সুযোগ নষ্ট দুই দলের

সুযোগ নষ্ট দুই দলের

জার্মানিও প্রথমার্ধে সুযোগ পেয়েছিল। কার্যত হাভের্ৎজের পা থেকে বল কেড়ে ইংল্যান্ডকে বিপদের হাত থেকে রক্ষা করেন ইংল্যান্ড গোলকিপার পিকফোর্ড। দুই দলই বেশ কিছু সুযোগ তৈরি করে কাজে লাগাতে না পারায় প্রথমার্ধ ছিল গোলশূন্য।

স্টার্লিংয়ের গোলে গর্জন

স্টার্লিংয়ের গোলে গর্জন

দ্বিতীয়ার্ধে দুই দলই গোল পেতে মরিয়া ছিল। গোসেন্স, মুলার, হাভের্ৎজরা আক্রমণ শানানোর চেষ্টা চালাতে থাকেন প্রথম থেকেই। ৪৯ মিনিটে হাভের্ৎজের বাঁ পায়ের ভলি বাঁচান পিকফোর্ড। আক্রমণ, প্রতি আক্রমণে জমজমাট ছিল দ্বিতীয়ার্ধের খেলা। ৭৫ মিনিটে জার্মানির যাবতীয় প্রতিরোধ চুরমার করে দেন রাহিম স্টার্লিং। লিউক শ-এর নীচু অথচ মাপা ক্রস ন্যয়ারকে পরাস্ত করে স্টার্লিং গোলে ঠেলে দিতেই উৎসবের মেজাজে গর্জে ওঠে ওয়েম্বলি। ১৯৮৬ সালের বিশ্বকাপে গ্যারি লিনেকারের পর স্টার্লিংই প্রথম যিনি কোনও মেজরে (বিশ্বকাপ ও ইউরো) দলের প্রথম তিনটি গোলই করলেন।

রুনিকে স্পর্শ কেনের

রুনিকে স্পর্শ কেনের

৮১ মিনিটে সমতা ফেরানোর সহজতম সুযোগ তৈরি করেছিলেন টমাস মুলার। বল নিয়ে অনেকটা দৌড়ে এসেও অবশ্য আগুয়ান পিকফোর্ডকে একা পেয়েও পরাস্ত করে গোলে ঠেলতে ব্যর্থ হন জার্মানির অভিজ্ঞ এই ফুটবলার। লক্ষ্যভ্রষ্ট না হলে এই শটই ঘুরিয়ে দিতে পারত ম্যাচের মোড়। স্বাভাবিকভাবেই ছিটকে যাওয়ার হতাশা গ্রাস করতে থাকে জোয়াকিম লো-র দলকে। ৮৬ মিনিটে ইংল্যান্ডের দ্বিতীয় গোলটি করেন অধিনায়ক হ্যারি কেন। এবারের ইউরোতে নিজের প্রথম গোলটি করলেন গ্রিলিশের ক্রসে ডাইভ দিয়ে হেড করে। ভার প্রযুক্তি অফসাইডের সম্ভাবনা উড়িয়ে দিতেই ওয়েন রুনিকে স্পর্শ করলেন কেন। মেজরে সাতটি গোল রয়েছে রুনির, তাঁকে ধরে ফেললেন কেন। তাঁর সামনে এখন শুধু গ্যারি লিনেকার (১০) ও অ্যালান শিয়েরার (৯)।

ঐতিহাসিক জয়

ঐতিহাসিক জয়

১৯৬৬ সালের পর এই প্রথম মেজরে জার্মানিকে হারাল ইংল্যান্ড। ওয়েম্বলিতে দুই দল এই নিয়ে ১৩ বার মুখোমুখি হল। প্রথম পাঁচটি সাক্ষাতের চারটিতেই জিতেছিল থ্রি লায়ন্স, একটিতে হেরেছিল। ১৯৬৬ সালের বিশ্বকাপ ফাইনালে তৎকালীন পশ্চিম জার্মানিকে হারিয়েছিল ইংল্যান্ড। কিন্তু তারপর থেকে শেষ সাতটি সাক্ষাতে দুটি ম্যাচ ড্র হয়েছিল, হার পাঁচটিতে। স্বাভাবিকভাবেই এদিনের জয় ঐতিহাসিক হয়ে রইল। কোয়ার্টার ফাইনালে শনিবার রোমে সুইডেন ও ইউক্রেন ম্যাচে জয়ী দলের বিরুদ্ধে খেলবে ইংল্যান্ড।

আত্মবিশ্বাসী সাউথগেট

আত্মবিশ্বাসী সাউথগেট

জ্যাক গ্রিলিশ, ফিল ফডেন, জর্ডন স্যাঞ্চোর চেয়েও রাহিম স্টার্লিংয়ের উপর বেশি ভরসা রাখায় গ্যারেথ সাউথগেটকে সমালোচনার মুখে পড়তে হচ্ছিল। বিশেষ করে ইংল্যান্ড আগের ম্যাচগুলিতে ১টি করে গোল করে জেতায়। তবে কোচ কেন তাঁর উপর আস্থা রাখছেন তা এদিন প্রথম গোলটি করে বুঝিয়ে দিলেন স্টার্লিং। শেষ ২০টি ম্যাচে দেশের হয়ে খেলে ১৫টি গোল করলেন স্টার্লিং। সাউথগেট সমালোচনার মধ্যেই জার্মানির বিরুদ্ধে ৩-৪-৩ সিস্টেমে দল নামিয়েছিলেন। ঝুঁকি নিয়েছিলেন, জানতেন হারলেই ধেয়ে আসবে যাবতীয় আক্রমণ। অবশেষে ২ গোলে জয় পেয়ে তৃপ্ত সাউথগেট প্রশংসা করলেন কেন ও স্টার্লিংয়ের। দলের ছেলেরা যেভাবে একের পর এক ইতিহাস গড়ছে তাতে শনিবার জিতে সেমিফাইনালে ওঠার বিষয়ে আত্মবিশ্বাসী সাউথগেট।

Notifications
Settings
Clear Notifications
Notifications
Use the toggle to switch on notifications
  • Block for 8 hours
  • Block for 12 hours
  • Block for 24 hours
  • Don't block
Gender
Select your Gender
  • Male
  • Female
  • Others
Age
Select your Age Range
  • Under 18
  • 18 to 25
  • 26 to 35
  • 36 to 45
  • 45 to 55
  • 55+