• search
For Quick Alerts
ALLOW NOTIFICATIONS  
For Daily Alerts

দীপাদের দুর্ভাগ্য, এখনও এদেশের বামশাসিত রাজ্যের রাস্তায় বিএমডব্লিউ চলে না

  • By SHUBHAM GHOSH
  • |

ভারতের হয়ে আশা যখন সবাই প্রায় ছেড়েই দিয়েছিল, মনে করা হচ্ছিল বার্সেলোনার পর আবার একটি নির্জলা অলিম্পিক আমরা দেখতে চলেছি রিওতে, তখন তিনিই ভরসা যোগান সবাইকে। কোনও এক রবিবার গভীর রাতে উত্তেজনায় ফুটন্ত আপামর ভারতবাসীকে সাক্ষী রেখে এক দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দেখান। চতুর্থ স্থান পাওয়ায় পদক সেদিন নবীন জিমন্যাস্ট দীপা কর্মকার-এর ভাগ্যে জোটেনি ঠিকই, কিন্তু তিনিই সকলের হৃদয় জিতে নেন।

পাশাপাশি, দীপার এই পারফরম্যান্সে ভারতীয় শিবির আবার চাঙ্গা হয়ে ওঠে আর প্রতিযোগিতার শেষলগ্নে এসে ভারতের আরও দুই কন্যা দু'টি মেডেল জিতে দেশের সম্মান রাখেন। এই দুই কন্যা হলেন সাক্ষী মালিক (কুস্তি) এবং পিভি সিনধু (ব্যাডমিন্টন)।

এখনও এদেশের বামশাসিত রাজ্যের রাস্তায় বিএমডব্লিউ চলে না

এই তিন সোনার মেয়ের কৃতিত্বে গর্বিত হয়ে তাঁদের প্রত্যেককে একটি করে বিএমডব্লিউ গাড়ি উপহার দেওয়া হয় হায়দ্রাবাদ ডিস্ট্রিক্ট ব্যাডমিন্টন অ্যাসোসিয়েশন-এর পক্ষ থেকে। গাড়ি উপহার পান সিন্ধুর কোচ এবং প্রাক্তন ব্যাডমিন্টন খেলোয়াড় পুলেল্লা গোপীচাঁদও। তাঁদের হাতে গাড়িগুলির চাবি তুলে দেন ভারতের প্রাক্তন ক্রিকেট অধিনায়ক এবং রিও অলিম্পিকে ভারতের গুডউইল অ্যাম্বাসডর শচীন তেন্ডুলকর।

সিন্ধু, সাক্ষীদের গাড়ি চলবে গড়গড়িয়ে, দীপার চলবে না

কিন্তু সে ঘটনার দেড় মাসের মধ্যে দীপা ঠিক করেন তাঁকে প্রদত্ত গাড়িটি তিনি তাঁর আসল উপহারদাতা হায়দ্রাবাদ ব্যাডমিন্টন সংস্থাটির সভাপতি ভি চামুণ্ডেশ্বরনাথকে ফেরত দিয়ে দেবেন ।

দীপার এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হচ্ছে আগরতলার (ত্রিপুরার রাজধানীতেই তাঁর বাড়ি) রাস্তাঘাট এতটাই খারাপ এবং অপ্রশস্ত যে সেখানে অত দামি গাড়ি চালানো বেশ কষ্টসাধ্য। যদিও অন্য একটি কারণও বলা হচ্ছে -- দীপার পরবর্তী প্রতিযোগিতার যেহেতু আর এক মাসও বাকি নেই, তাই প্রস্তুতিপর্বে গাড়ি নিয়ে মাথাব্যথা তাঁর পারফর্ম্যান্সকে প্রভাবিত করতে পারে বলেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে তাঁর পরিবার এবং কোচ বিশ্বেশ্বর নন্দী।

দীপার বাবা দুলাল কর্মকার সংবাদমাধ্যমকে জানান আগরতলা শহরে বিএমডব্লিউ গাড়ি চালানোর মতো যোগ্য ভালোক পাওয়া যেমন মুশকিল, তেমনই ওই শহরে এই জার্মান গাড়ির রক্ষণাবেক্ষণ করাও বেশ মুশকিল। আগরতলা শহরে বিএমডব্লিউ গাড়ির কোনও সার্ভিসিং স্টেশন নেই বলেও তিনি জানান।

বিএমডব্লিউ গাড়িটি বদলে আগরতলা শহরে চলে এমন অন্য গাড়ি নেওয়া যায় কিনা, সে কথাও ভেবে দেখছে কর্মকার পরিবার বলে জানা গিয়েছে। চামুণ্ডেশ্বরনাথ অবশ্য গাড়ি বদল করতে অরাজি নন। তিনি নাকি ভারতে বিএমডব্লিউর ব্র্যান্ড আম্বাসাডর শচীনকেও আগরতলায় ওই গাড়ি কোম্পানির সার্ভিসিং সেন্টার না থাকার ব্যাপারটি জানান এবং শচীন বিএমডব্লিউ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে এবিষয়ে ইতিমধ্যে কথা বলেছেন বলে জানা গিয়েছে সংবাদ সূত্রে।

একটি রাজ্যের রাজধানীর রাস্তায় গাড়ি চলবে না? এ কেমন কথা?

এখন প্রশ্ন হল, সিনধু-গোপীচাঁদ বা সাক্ষীর যে সমস্যা হয় না -- অর্থাৎ হরিয়ানা বা হায়দরাবাদে যদি বিএমডব্লিউ গাড়ি চালাতে কোনও অসুবিধে না হয়, তবে উত্তর-পূর্ব রাজ্য ত্রিপুরার রাজধানীতে এই সমস্যা কেন হয়? একটি রাজধানী শহরে গাড়িই -- তা সে যেরকম গাড়িই হোক না কেন -- তা চালানো যাবে না; এ কী কথা?

তবে কী এতবছরের বাম শাসনে বিএমডব্লিউ গাড়ির কারখানা তো দূরে থাকে, বিএমডব্লিউ গাড়ি চলার মতোই রাস্তা তৈরি হতে পারল না ত্রিপুরায়? আর অপরদিকে, জাতীয় মানচিত্রে হায়দরাবাদ বা হরিয়ানা যতটা গুরুত্ব পায়, ত্রিপুরার মতো প্রান্তিক রাজ্য কেন তা পায় না?

ত্রিপুরার হাল বোঝায় উত্তরপূর্ব আজও কতটা উপেক্ষিত

প্রতিবছর বর্ষায় ত্রিপুরার মানুষের চরম ভোগান্তি হওয়া সত্ত্বেও রাজনৈতিক এবং প্রশাসনিক নেতৃত্বের মধ্যে কোনও হেলদোল নেই সমন্বয়ের মাধ্যমে সমাধান খোঁজার। অবস্থার অন্যথা হয়নি এবছরেও। ত্রিপুরা সরকারের তরফ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে যে কেন্দ্র এবং প্রতিবেশী রাজ্য অসমকে (দু'জায়গাতেই এখন ক্ষমতায় বিজেপি) বারবার বলা সত্ত্বেও আট নম্বর জাতীয় সড়কে অসম-ত্রিপুরা সীমানার কাছে মাত্র পাঁচ কিলোমিটার রাস্তা অত্যন্ত খারাপ অবস্থায় পড়ে রয়েছে।

এবং যেহেতু এই জাতীয় সড়কটির উপরে ত্রিপুরার অর্থনীতি নির্ভরশীল, তাই প্রবল বর্ষণে এর ভগ্নদশা সমস্ত রাজ্যটিকেই পঙ্গু করে ফেলে। বিশেষ করে এবছর অবস্থা এতটাই খারাপ হয় যে উপায়ান্তর না দেখে ত্রিপুরা সরকার কেন্দ্রকে আর্জি জানায় বাংলাদেশের মধ্যে দিয়ে যাতে ওই রাজ্যে প্রয়োজনীয় খাদ্যদ্রব্য এবং তৈল সামগ্রী পৌঁছে দেওয়া যায়।

অতএব, বোঝাই যাচ্ছে যে বাকি ভারত যতই দ্রুত উন্নতি করুক না কেন, উত্তরপূর্ব আছে উত্তরপূর্বতেই। বাকি ভারতের সঙ্গে সেখানকার যোগাযোগ ব্যবস্থা এখনও পড়ে রয়েছে তিমিরেই । ইদানিংকালে চিনের সঙ্গে কূটনৈতিক লড়াইয়ের ফলে নয়াদিল্লি উত্তরপূর্বকে রেলপথ ইত্যাদি দ্বারা জোড়ার তোড়জোড় করেছে ঠিকই, কিনতু সার্বিকভাবে কতটা কী হয়েছে তা বোঝা যায় ত্রিপুরার অবস্থা দেখলেই।

আর আগরতলায় বিএমডব্লিউ কেন চলে না, তার উত্তর দেওয়ার দায়ভার বামেদের উপরেই বর্তায়

আর আগরতলার রাস্তায় কেন বিএমডব্লিউ গাড়ি চলে না, তার উত্তর দেওয়ার দায়ভার ত্রিপুরা সরকারের উপর পড়ে। বামেরা আজ ত্রিপুরা শাসন করছে দু'দশকের উপর হয়ে গেল। বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকার ক্ষমতায় রয়েছেন সেই ১৯৯৮ সাল থেকে।

২০১১ সালে বামেরা পশ্চিমবঙ্গ এবং কেরলে ক্ষমতা হারানোর পরের বছর ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রীকে একটি বিশেষ সাক্ষাৎকারে যখন প্রশ্ন করা হয় যে এর ফলে তাঁর দল ত্রিপুরাতে চাপে রয়েছে কিনা, তিনি সটান তা নস্যাৎ করে দিয়ে বলেন যে তাঁর সরকারের ত্রিপুরাতে শিল্প আনার জন্য কোনও তাড়া নেই। তিনি গর্ব করে এও বলেন যে ত্রিপুরাতে নন্দীগ্রাম এবং সিঙ্গুরের মতো কোনও ঘটনা ঘটেনি এবং জোর করে জমি অধিগ্রহণের পক্ষে আমরা নই।

"পরিকাঠামোর উপর জোর দিতে হবে" -- আর কবে?

"আমি বারবার বলেছি যে দ্রুত শিল্পায়নের জন্য আমাদের প্রথমে পরিকাঠামোর দিকে নজর দিতে হবে। রাস্তাঘাট ভালো করতে হবে, রেল যোগাযোগ উন্নত করতে হবে, ছোট ছোট বিমানবন্দর বানাতে হবে। আমি এসবের দাবি অনেকবার তুলেছি ত্রিপুরার স্বার্থে কিনতু বিরোধীপক্ষ আমাদের সমর্থন না জানানোয় আমরা এগোতে পারিনি," বলেন মানিকবাবু।

ত্রিপুরাতে তো একটা মমতাও নেই, তাও কাজের কাজ করে দেখতে পারলেন না বামেরা

আশ্চর্য, আর কবে আপনারা পরিকাঠামো নিয়ে ভাববেন? আর বিরোধী? ত্রিপুরাতে বিরোধী বলতে ঠিক কাকে বোঝাচ্ছেন মানিকবাবু? তাও যদি একটা মমতা থাকত বুঝতাম। কুড়ি বছরের উপর ক্ষমতায় থেকেও নিজের রাজ্যের রাজধানীতেই গাড়ি চলার মতো রাস্তা তৈরি করতে পারলেন না আপনারা? শিল্প তো ছেড়েই দিন। আপনারা সত্যি নমস্য। দেখবেন, এবার তো বিএমডব্লিউ গেল। পরের বার দীপা নিজেই না রাজ্য ছেড়ে অন্যত্র চলে যান।

English summary
Olympian Dipa Karmakar decides to return BMW car; it shows how badly Left has ruled Tripura for over 20 years
For Daily Alerts
চটজলদি খবরের আপডেট পান
Enable
x
Notification Settings X
Time Settings
Done
Clear Notification X
Do you want to clear all the notifications from your inbox?
Settings X
We use cookies to ensure that we give you the best experience on our website. This includes cookies from third party social media websites and ad networks. Such third party cookies may track your use on Oneindia sites for better rendering. Our partners use cookies to ensure we show you advertising that is relevant to you. If you continue without changing your settings, we'll assume that you are happy to receive all cookies on Oneindia website. However, you can change your cookie settings at any time. Learn more