আল আদনানির এই ঘোষণার পরই সারা বিশ্বে রমরমা আইএস জঙ্গিদের
আবু মহম্মদ আল আদনানি। জঙ্গি সংগঠন আইএসের মুখপাত্র। আইএস প্রধান আবু বকর আল বাগদাদির পরে যার কথাই সবচেয়ে বেশি মান্য করে আইএস জঙ্গিরা এবং এই সংগঠনের অনুগামীরা। এই জঙ্গির নামে কোনও খোঁজ দিতে পারলে ৫০ লক্ষ মার্কিন ডলার পুরস্কারও ঘোষণা করেছে আমেরিকা। [বারবার কেন ফ্রান্সকেই নিশানা বানাচ্ছে জঙ্গিরা?]
জানা যায়, আল আদনানি সিরিয়ায় বাসিন্দা, বয়স ৩৮ এর মধ্যে। তার ভালো নাম তাহা সুবী ফালাহ। তাকে আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদী বলে ঘোষণা করেছে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদও। [৮০ জন আইএস সমর্থক ঘুরছে পশ্চিবঙ্গ জুড়ে]

এহেন আদনানির একটি ঘোষণার পরই সারা বিশ্বে আইএস জঙ্গিদের কাজ করার প্রেক্ষাপট বদলে গিয়েছে। ২০১৪ সালে আইএস সিরিয়া ও ইরাকের একটি অংশ কব্জা করে সারা বিশ্বে যখন সন্ত্রাস ছড়াচ্ছে, তখন বিভিন্ন দেশ থেকে যুবকেরা দলে দলে সিরিয়া বা ইরাকে যেতে শুরু করে। [কীভাবে হত্যালীলার ধরন বদলেছে আইএসআইএস, সূত্র পেলেন গোয়েন্দারা]
প্রথমে সব দেশ বিষয় অনুধাবন করতে না পারায় বহু দেশের যুবক সিরিয়ায় পাড়ি দেয়। পরে কড়াকড়ি হওয়ায় অনেকে আইএস অনুগামীর সিরিয়ায় যাওয়া হয়নি। তবে মনে মনে আইএসের প্রতি ভালোবাসা রয়ে গিয়েছে। যে যার নিজের দেশে বসে স্যোশাল নেটওয়ার্কিং সাইটের মাধ্যমে আইএসের কার্যকলাপ অনুসরণ করে গিয়েছে। [নতুন ভিডিওতে বাংলাদেশে হামলার হুমকি দেওয়া তিন যুবকের পরিচয় কী?]
আর এই জিনিসটাই কাজে লাগিয়েছে এই জঙ্গিগোষ্ঠী। প্রথমত নিজেদের হামলার ধরন তারা বদলেছে। একদল হয়ে হামলার বদলে তথাকথিত 'ইসলামের শত্রু' হিসাবে নানা দেশের ভিন্নধর্মীদের হত্যা করার পরিকল্পনা করা হয়েছে গাড়ি চাপা দিয়ে, ছুরি চালিয়ে, বিষ খাইয়ে বা গলা কেটে দিয়ে।
এর পাশাপাশি আরও একটি কৌশলগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে আইএস মুখপাত্র আল আদনানি। সে আইএস অনুসরণকারীদের আশ্বাস দিয়ে জানিয়েছে, আইএসে যোগ দিতে হলে সিরিয়া বা ইরাকে আসতে হবে এমন কোনও মানে নেই। কেউ যদি এখানে আসতে বাধা পায় তাহলে যে যেখানের বাসিন্দা সেখানে থেকেই কাজ করতে পারে।
গোয়েন্দারা মনে করছেন, এই ঘোষণার পর থেকেই বিশ্বের নানা প্রান্তে আইএসে যোগ দেওয়ার হিড়িক পড়ে গিয়েছে। স্যোশাল নেটওয়ার্কিয়ের মাধ্যেমেই চলছে মগজ ধোলাই। আর তারপর এক একজনকে নির্দিষ্ট দায়িত্ব দিয়ে ফ্রান্সের মতো নানা পশ্চিমী দেশে 'লোন উলফ অ্যাটাক' চালাচ্ছে আইএস। যে সব দেশে পৌঁছতে প্রাণপাত করতে হতো জঙ্গিদের, সেখানে অবলীলায় একেবারে ভিতরে ঢুকে টার্গেট তৈরি করে হানা দিচ্ছে আইএস।
আইএসের টার্গেট হচ্ছে জনবহুল নানা এলাকা। যেখানে গুলি চালানো না গেলেও গাড়ি বা ট্রাক নিয়ে ঢুকে পড়ে নির্বিচারে অনেক মানুষকে একসঙ্গে খতম করা যাবে। আর বদলে খুব বেশি হলে প্রাণ যাবে এক অথবা দুই জঙ্গির। ব্যস। তারপরে ফের নয়া জঙ্গিকে বেছে নিয়ে নয়া পরিকল্পনা! আর যার ভয়াবহতা দেখে শিউরে উঠবে গোটা বিশ্ব।












Click it and Unblock the Notifications