ঘুরিয়ে মমতার ইংরেজি উচ্চারণকে কটাক্ষ করে বামেরা আজ নিজের মুখে নিজেই থুতু ছেটাচ্ছে

সম্প্রতি পশ্চিমবঙ্গের বর্ষীয়ান সিপিএম নেতা সূর্যকান্ত মিশ্র পরোক্ষে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ইংরেজি বলা নিয়ে কটাক্ষ করে একটি টুইট করেন।

সম্প্রতি পশ্চিমবঙ্গের বর্ষীয়ান সিপিএম নেতা সূর্যকান্ত মিশ্র পরোক্ষে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ইংরেজি বলা নিয়ে কটাক্ষ করে একটি টুইট করেন। মমতার নাম না নিয়েও তিনি তাঁর মুখে শোনা ইংরেজি উচ্চারণ নিয়ে মস্করাপূর্ণ টুইটটি করেন। "গভমেন্ট, পব্লেম, পোপোজাল..." ইত্যাদি নানা ইংরেজি শব্দের অপভ্রংশ নিজের সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টটিতে করেন সূর্যকান্ত। আর তারপর কটাক্ষ করে বলেন যে যদি জনগণ চান যে শব্দগুলি থেকে হারিয়ে যাওয়া "আর" অক্ষরটিকে যদি তাঁরা ফিরে পেতে চান, তবে যেন নিজেদের ভোটটি বুঝেশুনে দেন। উল্লেখ্য, এখন লোকসভা নির্বাচন চলছে এবং আগামী ৬ তারিখ তার পঞ্চম দফা অনুষ্ঠিত হতে চলেছে।

একসময়ে রাজ্য থেকে ইংরেজি তুলে দেওয়া দলের নেতা কটাক্ষ করছে আজ … কাকে?

একসময়ে রাজ্য থেকে ইংরেজি তুলে দেওয়া দলের নেতা কটাক্ষ করছে আজ … কাকে?

রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী এবং বিরোধী নেতা এবং বর্তমানে রাজ্যের সম্পাদক সূর্যকান্ত মিশ্রের কথা শুনে পাঁড় সিপিএম-এর দল উল্লসিত বোধ করলেও আসলে এই নেতা কিন্তু থুতুটি নিজের মুখেই ছেটালেন। একসময়ে তাঁর নিজের ক্ষমতাসীন দল ও তার জোট বামফ্রন্ট পশ্চিমবঙ্গের প্রাথমিক শিক্ষাব্যবস্থা থেকে ইংরেজি তুলে দেন এই বলে যে মাতৃভাষায় পড়াশোনা করা বেশি জরুরি। প্রয়োজনে তাঁরা রবীন্দ্রনাথের কথাও তোলেন (কবিগুরুর অন্য অনেক কথা অবশ্যি তাঁদের মনে পড়েনি) আর বলেন গ্রামাঞ্চলের ছেলেমেয়েরা ইংরেজি শিখে কী করবে? সেখানে ইংরেজির কীই বা প্রয়োজন?

বসুর আমলে সিদ্ধান্ত

সেই আশির দশকে শুরুর দিকে জ্যোতি বসুর মতো এলিট নেতার নেতৃত্বাধীন বামফ্রন্ট সরকার এই সিদ্ধান্ত নিয়ে এক ঝটকায় পশ্চিমবঙ্গকে শত বছর পিছিয়ে দেন। বেশ কয়েকটি প্রজন্ম ইংরেজি শেখা থেকে বঞ্চিত হয় (যেমন হয় কম্পিউটার শেখা থেকেও)। সারাদেশব্যাপী প্রতিযোগিতায় বাংলায় ছেলেমেয়েরা পিছিয়ে যেতে থাকে ক্রমাগত যদিও ক্ষমতার গদিতে সেঁধিয়ে থাকা বামেদের তাতে কিছু আসে যায় না। তাঁরা নিজেদের সন্তানাদিকে বাইরে পড়াতে পারেন, বিদেশি হাওয়া লাগাতে দিতে পারেন, কিন্তু অন্যের বেলায় তাঁদের ছিল দাঁতকপাটি।

রাজপাট নেই, রয়েছে ফাঁকা দম্ভ

রাজপাট নেই, রয়েছে ফাঁকা দম্ভ

কালের নিয়মে বামেরা এখন ধুয়েমুছে সাফ হয়ে গিয়েছে প্রায়। চৌত্রিশ বছর রাজত্ব করা দলটিকে আজকে অণুবীক্ষণ যন্ত্র দিয়ে খুঁজতে হয়। কিন্তু শ্রেণীর দাম্ভিকতা যাবে কোথায়? যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আজ থেকে আট বছর আগে বামেদের শিকড় উপড়ে প্রায় নিক্ষিপ্ত করেছিলেন বঙ্গোপসাগরের জলে, সেই মমতার বিরুদ্ধে শোধ নেওয়া আজও দুর্বল বামেদের অধরাই থেকে গিয়েছে। নতুন শক্তি বিজেপিও রাজ্যে মাথা তুলে দাঁড়িয়ে বামেদের আরও কোনঠাসা করে ফেলেছে। এককালের দুশমন কংগ্রেসের সঙ্গে এখন আঁটঘাঁট বেঁধে লড়ার কথা ভাবতে হয় বামেদের, নিজেদের অস্তিত্ব বাঁচাতে। আর তাই অন্য কোনও উপায় না দেখে হতাশ বামেদের নেতৃত্ব মুখ্যমন্ত্রীর ইংরেজি বলা নিয়ে ঠাট্টা করেন। কী নৈতিক অধিকারে তাঁরা তা করেন? আর বাকি সমস্ত শক্তির দফারফা হয়ে যাওয়ার পরে এখন প্রতিপক্ষের ইংরেজি উচ্চারণকে হাতিয়ার করে ভোট চাইতে হচ্ছে বামেদের?

লোক হাসানোর কি আর শেষ নেই?

Notifications
Settings
Clear Notifications
Notifications
Use the toggle to switch on notifications
  • Block for 8 hours
  • Block for 12 hours
  • Block for 24 hours
  • Don't block
Gender
Select your Gender
  • Male
  • Female
  • Others
Age
Select your Age Range
  • Under 18
  • 18 to 25
  • 26 to 35
  • 36 to 45
  • 45 to 55
  • 55+