গ্রাম-শহরের মন্দির গুলিতে বিপত্তারিনীর পুজো! সাজো সাজো রব রাজ্য জুড়ে
সমস্ত বিপদ থেকে যিনি উদ্ধার করেন তিনিই বিপত্তারিনী। এমনটাই বিশ্বাস একাংশের মানুষের মধ্যে। মঙ্গলবার সকাল থেকে রাজ্যের বিভিন্ন অংশের সঙ্গে বাঁকুড়া শহরের মন্দির গুলিতেও বিপত্তারিনী ব্রত উপলক্ষ্যে সাজো সাজো রব। একেবারে সকাল থেকে মন্দিরগুলিতে ভক্তদের ব্যাপক ভিড় লক্ষ্য করা গিয়েছে।
বিপত্তারিনী ব্রত নিয়ে নানান লোককথা যেমন প্রচলিত আছে, তেমনি পুরাণেও এর উল্লেখ পাওয়া যায়। পুরাণ মতে শুম্ভ ও নিশুম্ভ নামক দুই অসুরের হাতে দেবতারা পরাজিত হয়ে হিমালয় পর্বতে গিয়ে দেবী মহামায়ার স্তব করতে শুরু করেন। ঠিক সেই সময় দেবী ভগবতী পার্বতী ওখান দিয়ে যাচ্ছিলেন। দেবী তখন দেবতাদের জিজ্ঞাসা করেন, 'আপনারা এখানে কার স্তব করছেন ?'

সেই সময় ভগবতী পার্বতীর শরীর থেকে তাঁর মতন দেখতে আর এক জন দেবী আবির্ভূত হলেন । সেই নব আবির্ভূতা দেবী জানালেন, 'এঁরা আমারই স্তব করছেন। পরে নব আবির্ভূত এই দেবীই যুদ্ধে শুম্ভ ও নিশুম্ভ নামক অসুরের বধ করেছিলেন। বিপদ থেকে রক্ষা করেছিলেন দেবতাদের। তাই তো তিনি বিপত্তারিনী।

অন্য আর একটি পৌরাণিক গাঁথায় উল্লেখ আছে, কোন একদিন মহাদেব তামাশা করে দেবী পার্বতীকে 'কালী' বলে উপহাস করেন। এতে দেবী পার্বতী ক্রুদ্ধ হয়ে তপস্যার মাধ্যমে নিজের 'কৃষ্ণবর্ণা' রূপ পরিত্যাগ করেন । সেই কৃষ্ণবর্ণা স্বরূপ দেবীই হলেন , দেবীর পার্বতীর অঙ্গ থেকে সৃষ্টা জয়়দুর্গা কৌষিকীদেবী, বিপত্তারিনী দুর্গা ।
মার্কণ্ডেয় পুরাণ অনুসারে এই পুজোয় ১৩টি ফল, ১৩টি ফুল, ১৩টি পান সুপারি ও ১৩টি নৈবেদ্যের কথা বলা হয়। আর মার্কণ্ডেয় পূরাণকে অনুসরণ করে আজও ১৩টি ফল, ১৩টি ফুল, ১৩টি পান সুপারি ও ১৩টি নৈবেদ্য দেবী বিপত্তারিণীকে উৎসর্গ করা হয়।












Click it and Unblock the Notifications