Get Updates
Get notified of breaking news, exclusive insights, and must-see stories!

CAB: উল্টো জাতীয় পতাকা থেকে প্রেস বক্সে ভুয়ো সাংবাদিক! দায় নিতে নারাজ সিএবি সভাপতি স্নেহাশিস

CAB: সিএবির ফেসবুক পেজে জাতীয় পতাকা উল্টোভাবে দেখানো হয়েছে। ইডেনে ভারত-ইংল্যান্ড প্রথম টি২০ আন্তর্জাতিক চলাকালীন দেখা গিয়েছে প্রেস বক্সে ভুয়ো সাংবাদিকদের দাপাদাপি।

যদিও এই দুটি ঘটনার কোনওটিরই দায় নিলেন না সিএবি সভাপতি স্নেহাশিস গঙ্গোপাধ্যায়। এমনকী সিএবির অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে পোস্টের দায় নিতেও নারাজ তিনি।

CAB

প্রজাতন্ত্র দিবসে সিএবির ফেসবুক পেজে একটি ভিডিও পোস্ট করা হয়েছে। যাতে দেখা গিয়েছে ড্রোনে লাগানো জাতীয় পতাকা উল্টো। অর্থাৎ উপরে সবুজ, নীচে গেরুয়া। ভিডিওর অপর অংশে অবশ্য সঠিকভাবেই পতাকা দেখানো হয়েছে।

ভারত-ইংল্যান্ড প্রথম টি২০ আন্তর্জাতিক উপলক্ষে সেজে ওঠা ইডেনে আলোকসজ্জাতেও জাতীয় পতাকার অবমাননার অভিযোগ উঠেছিল। তার কয়েক দিনের মধ্যে সিএবির ভিডিওতে জাতীয় পতাকার অবমাননার অভিযোগ। কিন্তু একে গুরুত্ব দিচ্ছেন না সিএবি স্নেহাশিস গঙ্গোপাধ্যায়।

স্নেহাশিসের দাবি, প্রজাতন্ত্র দিবসের সকালে তিনি, সচিব নরেশ ওঝা, সহ সভাপতি অমলেন্দু বিশ্বাস ইডেনে যে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেছিলেন, সেটায় সব ঠিক রয়েছে। সেটাকেই অফিসিয়াল বলে উল্লেখ করছেন স্নেহাশিস। সেই সঙ্গে তাঁর কথা, যদি কেউ বাড়ির ছাদে, ড্রয়িংরুমে উল্টো পতাকা রাখে তার দায় সিএবির নয়।

কিন্তু তখনই স্নেহাশিসকে দেখানো হয় সিএবির অফিসিয়াল ফেসবুক পেজের ভিডিও উল্টো পতাকার ছবি। তখন স্নেহাশিস বলেন, কে, কোথায় এইসব পোস্ট করছেন তা তিনি জানেন না। এর দায়ও তাঁর বা সিএবির নয়।

সিএবি সূত্রে জানা গিয়েছে, সিএবির অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে যে পোস্টগুলি করা হয় তার দায়িত্বে থাকেন মিডিয়া ম্যানেজার। আগের মিডিয়া ম্যানেজার অরিন্দম বসু পদত্যাগের পর সেই পদে এখন বসেছেন অরিন্দমেরই সহকারী অরিত্র চৌধুরী। যদিও কোন যোগ্যতার নিরিখে তিনি ওই পদে আসীন হলেন তা নিয়েও রয়েছে ধোঁয়াশা।

সিএবির মিডিয়া ম্যানেজার বেতন পান সিএবি থেকেই। কিন্তু অনেকেই কটাক্ষ করে অরিত্রকে বলছেন, উনি মিডিয়া ম্যানেজ করা দূরের কথা, খালি ড্যামেজই করে চলেছেন। সিএবির বেতনভূক একজন জাতীয় পতাকার অবমাননা করবেন, আর সভাপতি তা লঘু করার চেষ্টা চালাবেন, বিষয়টি মেনে নেওয়া কষ্টকর।

সিএবির ডোন্ট কেয়ার মনোভাব এতটাই যে, বিতর্ক হলেও এখনও সেই ভিডিওটি রেখে দেওয়া হয়েছে। ইডেনের প্রেস বক্সে ভারত-ইংল্যান্ড ম্যাচ কভার করতে ভুয়ো সাংবাদিকদের দাপাদাপি নিয়েও প্রশ্ন করা হয়েছিল স্নেহাশিসকে। প্রশ্ন উঠেছে মিডিয়া ম্যানেজার অরিত্রর ভূমিকা নিয়েও।

প্রথম কথা, সেদিন ম্যাচ কভার করতে অনেকেই হাজির ছিলেন যাঁদের আরএনআই থাকলেও কাগজ নেই। কেউ লোক দেখাতে পিডিএফ বানান, বাজারে পাওয়া যায় না। উঠে যাওয়া ইউটিউব চ্যানেল থেকে স্থানীয় পোর্টালের লোকজন ভুয়ো তথ্য দিয়ে কার্ড বাগিয়ে প্রেস বক্সে ছিলেন।

এ ছাড়াও একাধিক সংবাদমাধ্যমের ম্যাচ কভারের জন্য বৈধ সাংবাদিকরা ছাড়াও ওই সংবাদমাধ্যমগুলির বাকিরাও সেদিন প্রেস বক্স দাপিয়ে বেড়িয়েছেন। এই ঘটনায় বৈধ সাংবাদিকদের তালিকা চাইতে গেলে চ্যানেল টেনের এক সাংবাদিককে সিএবির মিডিয়া ম্যানেজার প্রেস বক্স থেকে রীতিমতো অপমান করে বের করে দেন। যা অবাক করে অনেককেই। তখনও বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের একাধিক সাংবাদিক সেখানে ছিলেন, যাঁদের নাম ম্যাচ কভার করা সাংবাদিকদের তালিকায় ছিল না।

সিএবির মিডিয়া ম্যানেজার আজ অবধি বৈধ সাংবাদিকদের তালিকা প্রকাশ করেননি। তা প্রকাশ পেলেই অনিয়ম জনসমক্ষে চলে আসবে। সিএবি সভাপতি স্নেহাশিস জানান, এ বিষয়টিও তিনি জানেন না। খোঁজ নিয়ে দেখবেন।

প্রেস বক্সের টিকিট ব্ল্যাক কাণ্ডকে স্নেহাশিসের সিএবি এর আগে ধামাচাপা দিয়েছে। যদিও নিয়ম বদলেছেন তিনি। প্রেস বক্সে নিরাপত্তারক্ষী রেখেছেন। ম্যাচ টিকিট দেওয়ার প্রথা তুলে স্ক্যান করিয়ে প্রবেশের নিয়ম চালু করেছেন। কিন্তু তাতেও সিএবির সর্ষের মধ্যে ভূত তাড়াতে পারেননি।

স্নেহাশিসের দাবি, ম্যাচ কে কভার করবেন তা রাজ্য সংস্থার হাতে থাকে না। বিসিসিআই বিষয়টি দেখে। তাহলে তো বিষয়টি আরও গুরুতর! যে কেউ ভুয়ো নথি দেখিয়ে কার্ড বাগাচ্ছেন। তাহলে তো জঙ্গিরাও টার্গেট করতে পারে ইডেনের প্রেস বক্সকে। বিসিসিআই কেন তথ্য যাচাই করে সাংবাদিকদের ম্যাচ কভারের অনুমতি দিচ্ছে না, সেটাই তো বড় প্রশ্ন। এর দায় কার?

বোর্ডসূত্রে জানা যাচ্ছে, বিসিসিআইয়ের তরফে রাজ্য ক্রিকেট সংস্থার কাছে জানতে চাওয়া হয় বৈধ সংবাদমাধ্যগুলি সম্পর্কে। সিএবি নাকি প্রয়োজনীয় অনুমতি দেয়। এর আগে, কলকাতা ক্রীড়া সাংবাদিক ক্লাবের সঙ্গে কথা বলতেন স্নেহাশিস। তারপরও অনিয়ম বন্ধ হয়নি। এবার তো সিএসজেসির সঙ্গে স্নেহাশিস বা সিএবির কেউ বৈঠক করেননি ম্যাচের আগে। ফলে এবার ভুয়োদের দাপাদাপি ছিল সর্বাধিক।

বিসিসিআইয়ের নিয়মে কার্ড পাওয়া উচিত নয় এমন ইউটিউবের এক সাংবাদিকের দাবি, সিএবিতে তাঁর সোর্স রয়েছে। তাতেই কার্ড মিলেছে। কেউ অভিযোগ করছেন, আগের মিডিয়া ম্যানেজারের সময়েও এমন হয়েছে। পাল্টা যুক্তি, এবার নতুন মিডিয়া ম্যানেজার কেন ভুয়োদের দমনে সচেষ্ট হলেন না? ব্যক্তিগত অভিসন্ধি? অভিযোগের তদন্ত কেন করবে না সিএবি?

সিএবি সভাপতি যে কোনও অভিযোগ পেলে তার বাস্তবোচিত সমাধান করেন। ফলে সভাপতি ঘনিষ্ঠ অনেকেই মনে করছেন, সামনে যেহেতু আইপিএল, টি২০ বিশ্বকাপ-সহ বড় ইভেন্ট রয়েছে, তাতে অহেতুক যাঁদের জন্য সিএবিকে বিতর্কে জড়াতে হচ্ছে তাঁদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করা উচিত। সিএবির রাজনীতির কারণেই স্নেহাশিসকে অপদস্থ করতে কেউ ইচ্ছে করে এই সাবোতাজ করাচ্ছে না তো?

More From
Prev
Next
Notifications
Settings
Clear Notifications
Notifications
Use the toggle to switch on notifications
  • Block for 8 hours
  • Block for 12 hours
  • Block for 24 hours
  • Don't block
Gender
Select your Gender
  • Male
  • Female
  • Others
Age
Select your Age Range
  • Under 18
  • 18 to 25
  • 26 to 35
  • 36 to 45
  • 45 to 55
  • 55+