লিডস টেস্টে ইংল্যান্ডের জয় ধরেই নিয়েছে ভারতীয় শিবির! মনোবল অটুট থাকার দাবি শামির
লিডসের হেডিংলিতে প্রথম দিন মধ্যাহ্নভোজের বিরতির পরেই যেভাবে ভারত ৭৮ রানে গুটিয়ে গিয়েছিল, তারপর যে প্রত্যাঘাত দরকার ছিল সেটা একেবারেই করতে পারেনি বিরাট কোহলির দল। আর সেই সুবাদে দ্বিতীয় দিনে তিনশোর উপর রান তুলে প্রথম ইনিংসে এখনও অবধি ৩৪৫ রানের লিড নিয়েছে ইংল্যান্ড। জো রুটের অধিনায়কোচিত শতরান ও প্রথম তিন ব্যাটসম্যানের অর্ধশতরানের দৌলতে দ্বিতীয় দিনের শেষে ইংল্যান্ডের স্কোর দাঁড়িয়েছে ৮ উইকেটে ৪২৩।

হাতের বাইরে
আবহাওয়ার আশীর্বাদ না পেলে এই টেস্ট বাঁচাতে অতিমানবীয় প্রয়াস দরকার ভারতের। তবে লর্ডস টেস্টে জেতার পরই এবার ইনিংস হার বাঁচানোর লড়াই চালাতে হবে ভারতীয় দলকে। যদিও টেস্ট জেতা যে সম্ভব নয় সেটা ধরেই নিয়েছে বিরাট কোহলির দল। বাচ্চা ছেলে-মেয়েদেরও বুঝতে অসুবিধা হবে না এই টেস্ট পকেটে প্রায় পুরেই ফেলেছে জো রুটের দল। বিরাট কোহলির বোলিং চেঞ্জ নিয়েও প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। দুরন্ত ফর্মে থাকা মহম্মদ শামির হাতে প্রথম দিন দেরিতে বল তুলে দেওয়া যে কত বড় ভুল ছিল সেটা চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়েছে দ্বিতীয় দিনের খেলা। ১০৪তম টেস্ট খেলতে নামা ৩১১টি উইকেটের মালিক ইশান্ত শর্মারই বা ধারাবাহিকতা কোথায়? যে উইকেটে ইংল্যান্ডের পেসাররা প্রথম দিন আগুন ঝরালেন লাইন ও লেংথে অভ্রান্ত থেকে, তার ধারেকাছেই পৌঁছাতে পারেননি ইশান্ত, জসপ্রীতরা। শামি বা সিরাজ যখন বোলিং করতে এসেছিলেন তখন অনেকটাই দেরি হয়ে গিয়েছে। সে কারণে ওপেনিং জুটিই ইংল্যান্ডকে বড় রানের ভিত তৈরিতে সহায়তা করে। পিচের চরিত্র বুঝতে বিরাট কোহলি ভুল তো করেছিলেন, হাত কামড়াতে হচ্ছে রবিচন্দ্রন অশ্বিনকে না খেলানোয়। আলু আর আলু বখরা যে এক নয়, বিরাট কোহলিরা উপলব্ধি করলেও প্রকাশ্যে বলছেন না। গোঁয়ার্তুমির জন্য দল ভুগছে, বিরাট কোহলির ঔদ্ধত্যে রাশ টানার সাহস দেখাতে পারছে না সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের বিসিসিআইও? বিরাট কোহলি, চেতেশ্বর পূজারা, অজিঙ্ক রাহানেরা টানা ব্যর্থ। ব্যাটিং কোচ বা বোলিং কোচের ভূমিকাই বা কী? কোচ রবি শাস্ত্রীর ভূমিকাও প্রশ্নের মুখে। ভারতের এমন পারফরম্যান্সে স্পষ্ট একেবারেই হোমওয়ার্ক নেই গোটা দলের।

মনোবল ধাক্কা খায়নি
ভারতীয় শিবির যে লিডস টেস্টকে হাতের বাইরে বলে মনে করছে তা উঠে এসেছে দ্বিতীয় দিন খেলার শেষে মহম্মদ শামির বক্তব্যেই। ক্রিকেট বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভারতের উচিত ছিল প্রথম ইনিংসের ব্যর্থতা মাথা থেকে সরিয়ে প্রত্যাঘাতের লক্ষ্যে যাওয়া। যদিও মহম্মদ শামির দাবি, লিডসের ব্যর্থতা দলের মনোবলে একেবারেই প্রভাব ফেলতে পারেনি। তিনি বলেন, আমরা নিজেরাও টেস্ট তিনদিন বা দুই দিনে জিতেছি। কিন্তু যখন খারাপ সময় গিয়েছে বা প্রথম ইনিংসে তাড়াতাড়ি অল আউট হয়ে গিয়েছি তখন দীর্ঘ সময় ফিল্ডিং করতে হয়েছে। এটা হয়েই থাকে। কিন্তু এতে আমরা কেউ ভেঙে পড়িনি বা নিজেদের দুর্বল মনে হচ্ছে না। কেন না, এখনও দুটি টেস্ট সিরিজে বাকি আছে। আমরা সিরিজে এখনও ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে। তাই নেগেটিভ কিছু ভাবার অবকাশ নেই। নিজেদের দক্ষতার প্রতি আস্থা রেখে খেলাই আমাদের লক্ষ্য। ২৬ ওভার হাত ঘুরিয়ে সাতটি মেডেন নিয়েছেন শামি, ৮৭ রানের বিনিময়ে তিনটি উইকেট পেয়েছেন। নিজের বোলিং নিয়ে শামি বলেন, যখন প্রতিপক্ষের লম্বা পার্টনারশিপ হয় তখন তা ভাঙা বোলারদেরই দায়িত্ব। উইকেট তুলে নেওয়া বোলারেরই কাজ। কীভাবে ব্যাটসম্যানদের আউট করা যায় সব সময় সেই ভাবনা মাথায় ঘুরপাক খায়।

উইকেটের চরিত্র বদল
ইডেনে রাহুল দ্রাবিড় ও ভিভিএস লক্ষ্মণের জুটির মতো কিছুই লিডসে ভারতকে বাঁচাতে পারে! পিচ আপাতত ব্যাটিং সহায়ক। কিন্তু টেস্টের তিন দিন বাকি রয়েছে এটাও বড় বিষয়। উইকেট ফ্ল্যাট না হলেও বোলাররা যে আপাতত কোনও সাহায্য উইকেট থেকে পাচ্ছেন না সেটা উপলব্ধি করছেন ডেভিড মালান। ১২৮ বলে ৭০ রানের ইনিংস খেলে দলকে ভরসা দিয়েছেন। অধিনায়ক জো রুটের সঙ্গে জুটিতে যোগ করেছেন ১৩৯। মালান বলেন, ভারতীয় বোলাররা সাধ্যমতো চেষ্টা করেছেন। কিন্তু প্রথম দিনে প্রথম ঘণ্টার পর উইকেটের চরিত্র সম্পূর্ণ বদলে গিয়েছে। যার ফলে উইকেট থেকে ফায়দা তুলতে পারেননি ভারতের বোলাররা।












Click it and Unblock the Notifications