তিন অস্ত্রোপচারে বোল্ড ক্যানসার-শঙ্কা, মাঠে ফেরার অপেক্ষায় নিউজিল্যান্ডের সমকামী পেসার লিয়া তাহুহু
মাঠে ফেরার অপেক্ষায় প্রহর গুনছেন নিউজিল্যান্ড মহিলা দলের পেসার লিয়া তাহুহু। একটু দেরি হলেই তাঁর ক্রিকেট জীবন তো বটেই, জীবনই শেষ হয়ে যেত। লিয়া তাহুহ নিউজিল্যান্ডের সমকামী ক্রিকেটার। তাঁর স্ত্রী এমি স্য়াটার্থওয়েটও নিউজিল্যান্ড মহিলা দলের পেসার তথা সহ অধিনায়ক। এমিকে পাশে নিয়েই লিয়া জয় করেছেন ক্যানসার-শঙ্কা। এপ্রিলে দেশের হয়ে শেষবার খেলেছিলেন। তারপরই জীবনে বয়ে গিয়েছে উৎকণ্ঠার ঝড়। মাঠে ফিরে দেশের হয়ে নিজেদের সেরাটা মেলে ধরতে মুখিয়ে লিয়া ও এমি।

'তিল থেকে তাল'
বাঁ পায়ে সামান্য এক মোল বা আঁচিল। বছর দেড়েক ধরে ছিল। লিয়া তাহুহু অনেকের মতোই এটিকে তেমন গুরুত্ব দেননি বা উদ্বিগ্ন হননি। কিন্তু সেটিই হঠাৎ করে চরিত্র বদল করায় ঝড়ের মুখে পড়েন লিয়া তাহুহু। নিউজিল্যান্ড মহিলা দলের পেসার স্বাভাবিকভাবেই উদ্বিগ্ন ও শঙ্কিত হয়ে পড়েন যখন দেখেন, এই ছোট্ট মোলটি আকারে বাড়তে শুরু করেছে এবং এর রং বদলাচ্ছে। নিউজরুমকে দেওয়া এক সাক্ষাতকারে তাহুহু জানিয়েছেন, প্রথমে এটিকে ছোট অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে তুলে ফেলি। তেমন কিছু সমস্যাও হচ্ছিল না। কিন্তু এর ফলে পায়ের পাতায় ক্ষতস্থান তৈরি হয়েছিল। এটি যেখানে ছিল তোলার পর সেখানে চামড়াও স্বাভাবিকভাবে ছিল না।
ক্যান্সার-শঙ্কা
কিন্তু এরপরেই বড় ধাক্কা অপেক্ষা করছিল লিয়ার জন্য। লিয়াকে জানানো হয়, বায়োপসি রিপোর্ট অনুযায়ী ঠিক ক্যান্সারের পূর্ববর্তী ধাপেই এই মোলটিকে সরানো গিয়েছে। একটু দেরি হলেই বড় বিপদ হতে পারত। সে সময় লিয়া তাহুহুর পাশেই ছিলেন তাঁর টিমমেট স্ত্রী এমি। দুজনেই এই কথা শোনার জন্য প্রস্তুত ছিলেন না। মেলানোমা, স্কিন ক্যান্সার, এ সব কথা শুনেই কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে হাসপাতালেই হতচকিত হয়ে বসে পড়েন লিয়া। যদিও পরে পরীক্ষা-নিরীক্ষায় জানা যায়, সছিক সময়েই চিকিৎসকদের কাছে আসায় ক্যান্সার থাবা বসাতে পারেনি। তবে ওই ক্ষতস্থানে স্কিন গ্রাফট করাতে হবে।

দুরন্ত টাইমিং
উরুর থেকে চামড়া নিয়ে স্কিন গ্রাফট সম্পন্ন হয়। একটা সামান্য মোল বা আঁচিল যে এত বড় সমস্যা তৈরি করতে পারে ভাবেননি লিয়া। তাঁর কথায়, স্থানীয় একটি অপারেশন আর দুই সপ্তাহের মধ্যেই যেখানে সুস্থ হয়ে যাওয়ার কথা ছিল, সেখানে লাগল তিন-তিনটি অপারেশন এবং সুস্থ হতে আরও আট সপ্তাহ। এই গোটা সময়কালে মানসিকভাবেও কিছুটা ভেঙে পড়েছিলেন লিয়া। তিনি ভাবতেন, কীভাবে পায়ের উপর ভর দিয়ে ফের বোলিং করতে পারব? কিন্তু তখনই নিজের মনকে শক্তও করেন নিউজিল্যান্ডের এই পেসার। নিজের জন্য লক্ষ্য স্থির করেন ইংল্যান্ড সফরের বিমানে উঠতেই হবে, যে কোনও মূল্যে ফিট হতেই হবে। স্বাভাবিকভাবেই ইংল্যান্ড সফরের দলে জায়গা পেয়ে ব্রিটিশ-ভূমে পৌঁছে নিজের লক্ষ্যপূরণে তৃপ্ত তাহুহু। ১ সেপ্টেম্বর থেকে টি ২০ সিরিজ শুরু। তিনটি টি ২০-র পর পাঁচটি একদিনের সিরিজেও পরস্পরের মুখোমুখি হবে নিউজিল্যান্ড ও ইংল্যান্ডের মহিলা ক্রিকেট দল।

মাঠে ফেরার প্রত্যয়
ইংল্যান্ড মহিলা দল যখন নিউজিল্যান্ড গিয়েছিল চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে তখন হ্যামস্ট্রিংয়ে চোট পেয়েছিলেন লিয়া তাহুহু। যদিও দেশের মাটিতেই অস্ট্রেলিয়া সিরিজের আগে সুস্থ হয়ে সেই সিরিজ খেলেন। সেই সিরিজের পর ফের ইংল্যান্ডে তাহুহু-সহ নিউজিল্যান্ড দল খেলতে নামবে। তার মাঝেই নিউজিল্যান্ডের সমকামী এই ক্রিকেটারের জীবন কাটল ঝড়ের কিছু মুহূর্তের মধ্যে। ২০১৭ সালের মার্চে লিয়া বিয়ে করেছিলেন টিমমেট এমিকে। ২০১৯ সালের অগাস্টে এমি স্য়াটার্থওয়েট জানিয়েছিলেন তিনি সন্তানসম্ভবা। ক্রিকেট থেকে সরে দাঁড়ানোয় গত বছর মহিলাদের টি ২০ বিশ্বকাপে তিনি খেলতে পারেননি। আগে দলের অধিনায়ক ছিলেন, এখন তিনি দলের সহ অধিনায়ক। গত বছরের ১৩ জানুয়ারি নিউজিল্যান্ড মহিলা দলের সমকামী দম্পতির ঘর আলো করে আসে সন্তান গ্রেস মেরি স্যাটার্থওয়েট। আপাতত লিয়ার ক্যানসার-শঙ্কা কেটে যাওয়ায় নিশ্চিতে এই দুই পেসার বল হাতে আগুন ঝরানোর অপেক্ষায়। আগামী বছর নিজেদের দেশে ৫০ ওভারের বিশ্বকাপের দলে থাকাও দুজনের লক্ষ্য।
ছবি- লিয়া তাহুহ-র ইনস্টাগ্রাম












Click it and Unblock the Notifications