টি ২০ বিশ্বকাপ ফাইনাল জিততে মুখিয়ে অস্ট্রেলিয়ার ওয়েড, অদম্য মনোভাবে কামব্যাকের উদাহরণ চমকপ্রদ

টি ২০ বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল দুবাইয়ে। চেনা পরিবেশে দাপট দেখাচ্ছে পাকিস্তান। একটা সময় ছিল যখন অস্ট্রেলিয়ার জয়ের জন্য দরকার ছিল ৩০ বলে ৬২ রান। সেখান থেকে শাহিন শাহ আফ্রিদির শেষ ওভারের শেষ তিন বলে স্কুপ-সহ ছক্কা হাঁকিয়ে অজিদের পাঁচ উইকেটে জয় এনে দেন ম্যাথু ওয়েড। ১৭ বলে ৪১ রানের বিধ্বংসী ইনিংসটি নিঃসন্দেহে তাঁর কেরিয়ারের সেরা ইনিংস।

অদম্য মনোভাবে ওয়েডের কামব্যাকের উদাহরণ চমকপ্রদ

তবে টি ২০ ক্রিকেটে অন্যতম সেরা বোলার আফ্রিদিকে টার্গেট করার কোনও আগাম পরিকল্পনা ছিল না বলেই জানিয়েছেন অস্ট্রেলিয়ার ৩৩ বছর বয়সি উইকেটকিপার-ব্যাটার। তিনি বলেন, মার্কাস স্টইনিস অনবদ্য ইনিংস খেলছিলেন। তাতেই আমাদের আত্মবিশ্বাস বাড়ে যে, লক্ষ্যে ঠিক পৌঁছে যেতে পারব। আমি যেভাবে খেলেছি সেটা সম্ভব হয়েছে স্টইনিসের ইনিংসের জন্যই। আমরা পাকিস্তানের কোনও বোলারকে আলাদাভাবে টার্গেট করে ম্যাচ খেলতে নামিনি। আমাদের ভাগ্যও সহায় ছিল। ম্যাথু ওয়েড জানিয়েছেন, পাকিস্তানের বিরুদ্ধে সেমিফাইনালের আগে তিনি নার্ভাস ছিলেন এবং তাঁর মনে এই ভাবনাও এসেছিল এই ম্যাচই দেশের হয়ে তাঁর শেষ ম্যাচ হতে পারে। ওয়েডের কথায়, ভালো খেলে দলের জয়ে অবদান রাখাই আমার লক্ষ্য ছিল। ফাইনালটিও হতে পারে দেশের হয়ে আমার শেষ ম্যাচ। তবে আবারও বলছি, এই ধরনের পরিস্থিতির সঙ্গে আমি অভ্যস্ত হয়ে গিয়েছি। জাতীয় দলে কামব্যাকের পর আমি বিগত কয়েক বছরে যেভাবে খেলেছি তাতে গর্ব অনুভব করি।

অদম্য মনোভাবে ওয়েডের কামব্যাকের উদাহরণ চমকপ্রদ

২০১১ সালে টি ২০ আন্তর্জাতিকে অভিষেক। টেস্ট ও একদিনের আন্তর্জাতিকে অভিষেক ২০১২ সালে। তা সত্ত্বেও জাতীয় দলে জায়গা পাকা করতে পারছিলেন না কিপারদের মধ্যে প্রবল প্রতিযোগিতা থাকায়। ২০১৬ সালের পর থেকে অস্ট্রেলিয়া টি ২০ দলে দেখা গিয়েছে অ্যালেক্স ক্যারি, পিটার হ্যান্ডসকম্ব, টিম পেইনদের। কিন্তু তাঁদের পিছনে ফেলে টি ২০ বিশ্বকাপ দলে সুযোগ পেয়েছেন অভিজ্ঞ ওয়েড। ২০১৭-১৮ অ্যাশেজ থেকে বাদ পড়েছিলেন। তিন বছরে কোনও টি ২০ আন্তর্জাতিক খেলার সুযোগ পাননি। এই সময়কালে ভিক্টোরিয়া ছেড়ে তাসমানিয়ায় চলে যান ওয়েড। দুই মরশুম ঘরোয়া ক্রিকেটে দারুণ পারফরম্যান্সের জেরে বিশেষজ্ঞ ব্যাটার হিসেবে অস্ট্রেলিয়া দলে কামব্যাক করেন। ২০১৯ সালে অ্যাশেজে সফল হন, দুটি শতরানও হাঁকান। এরপর ফিরে তাকাতে হয়নি। জায়গা মেলে একদিনের আন্তর্জাতিক ও টি ২০ আন্তর্জাতিক দলেও।

অদম্য মনোভাবে ওয়েডের কামব্যাকের উদাহরণ চমকপ্রদ

সেই ওয়েড অস্ট্রেলিয়াকে পৌঁছে দিলেন টি ২০ বিশ্বকাপের ফাইনালে। ২০১০ সালে মাইক হাসি ঠিক যেভাবে অজিদের ফাইনালে নিয়ে গিয়েছিলেন, ঠিক সেই ইনিংসে মনে করিয়ে এবার ওয়েড অস্ট্রেলিয়াকে টি ২০ বিশ্বকাপের ফাইনালে নিয়ে গিয়েছেন দলকে। অস্ট্রেলিয়া কিংবা নিউজিল্যান্ড, ফাইনালে যে-ই জিতুক প্রথমবার টি ২০ বিশ্বকাপ জয়ের স্বাদ পাবে। উইকেটকিপার-ব্যাটার হিসেবে টি ২০ বিশ্বকাপে সাতে নেমে ফিনিশারের ভূমিকা পালন করছেন ওয়েড। চড়াই-উতরাই পেরিয়ে এই সফর উপভোগই করছেন এই ক্যান্সারজয়ী। ১৬ বছর বয়সে যৌনাঙ্গে ক্যান্সার ধরা পড়ার পর কেমোথেরাপির মাধ্যমে ক্যান্সারকে হারিয়েছিলেন। কেরিয়ারকে এগিয়ে নিয়ে যেতে তাঁর সময়োপযোগী সিদ্ধান্তগুলিও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। অস্ট্রেলিয়াকে নেতৃত্বও দিয়েছেন। তবে কখনও নিজের ব্যাটিং অর্ডার বা দলের হয়ে খেলায় ভূমিকার পরিবর্তন নিয়ে বিচলিত হননি। সুযোগকে কাজে লাগানোর জন্য বদ্ধপরিকর থেকেছেন সর্বদা। বিশ্বকাপ ফাইনালে নামার আগেও ওয়েড নিশ্চিত নন অস্ট্রেলিয়া দলের হয়ে কতদিন খেলবেন, দেশের মাটিতে টি ২০ বিশ্বকাপ দলে থাকতে পারবেন কিনা। কেন না, ইতিমধ্যেই কড়া নাড়ছেন অস্ট্রেলিয়া দলের সঙ্গে দ্বিতীয় কিপার, অভিষেকের অপেক্ষায় থাকা জশ ইনগ্লিস, যিনি বিগ ব্যাশেও নজর কেড়েছেন।

Notifications
Settings
Clear Notifications
Notifications
Use the toggle to switch on notifications
  • Block for 8 hours
  • Block for 12 hours
  • Block for 24 hours
  • Don't block
Gender
Select your Gender
  • Male
  • Female
  • Others
Age
Select your Age Range
  • Under 18
  • 18 to 25
  • 26 to 35
  • 36 to 45
  • 45 to 55
  • 55+