এজবাস্টনে ইংল্যান্ড বধ! গিলের নেতৃত্বে ওয়ানডে সিরিজে ছন্দে ভারত, জয়ের নায়ক অক্ষর প্যাটেল
এজবাস্টনের মাঠে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে সিরিজের প্রথম একদিনের আন্তর্জাতিক ম্যাচে বড় জয় তুলে নিল টিম ইন্ডিয়া। অধিনায়ক শুভমান গিলের নেতৃত্বাধীন ভারতীয় দল ইংল্যান্ডকে ৪.৪ ওভার বাকি থাকতেই ৬ উইকেটে হারাল। বল হাতে চার উইকেট ও পরে ব্যাট হাতে ম্যাচ জিতিয়ে জয়ের অনন্য কারিগর হয়ে উঠলেন বাঁহাতি অলরাউন্ডার অক্ষর প্যাটেল।
বার্মিংহামে অনুষ্ঠিত এই উত্তেজনার ম্যাচে টসে জিতে প্রথমে ব্যাটিং করার সিদ্ধান্তের সদ্ব্যবহার করতে পারেনি ইংরেজ শিবির। তবে লিয়াম ডসন ও জো রুটের জোড়া হাফ সেঞ্চুরির সৌজন্যে তাঁরা কোনওমতে ২৫৮ রানের লড়াকু স্কোর গড়তে সক্ষম হয়। জবাবে রান তাড়া করতে নেমে ভারতীয় দল মাত্র চার উইকেট হারিয়ে ৪৫.২ ওভারে প্রয়োজনীয় ২৬২ রান তুলে ম্যাচ জিতে নিয়েছে। এর ফলে সিরিজে টিম ইন্ডিয়া ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল।

ম্যাচের প্রথম থেকেই ভারতীয় বোলারদের পরিকল্পনা অনুযায়ী বোলিং প্রতিপক্ষের ব্যাটারদের চাপে ফেলে দিয়েছিল। ম্যাচের প্রথম ২০ ওভারের মধ্যেই জয়ের রূপরেখা তৈরি করে ফেলেছিল শুভমান গিলের দল। পেস ও স্পিনের অনবদ্য যুগলবন্দি ইংল্যান্ডের টপ ও মিডল অর্ডারকে ধ্বংস করতে বিশেষ সহায়ক ভূমিকা পালন করেছিল ওয়ান ডে সিরিজের এই প্রথম ম্যাচে।
এজবাস্টনের উইকেটে টস জিতে প্রথমে ব্যাটিং করার সিদ্ধান্ত নেয় ইংল্যান্ড। তবে ভারতীয় ক্রিকেট দলের নিয়ন্ত্রিত সুইং এবং টাইট লাইনের সামনে তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ে তাঁদের প্রথম সারির ব্যাটিং লাইনআপ। মাত্র ১০৭ রানে ৬ উইকেট খুইয়ে এক সময় ঘোর বিপদে পড়েছিল ইংরেজ শিবির। ভারতের পেসারদের পাশাপাশি স্পিনের দাপটে একসময় কার্যত অসহায় আত্মসমর্পণ করতে শুরু করেছিল প্রতিপক্ষ দল।
ভারতের এই মারাত্মক বোলিং আক্রমণের নেতৃত্ব দেন বাঁহাতি স্পিনার অক্ষর প্যাটেল। তিনি ৬২ রান দিয়ে একাই ৪ উইকেট তুলে নিয়ে ইংরেজ মিডল অর্ডারের কোমর ভেঙে দেন। অন্যদিকে পেসার প্রসিদ্ধ কৃষ্ণ ৫০ রানে ২টি উইকেট নেন। তরুণ প্রতিভাবান গুরনুর ব্রারও দলের প্রতি পূর্ণ সুবিচার করে নিজের স্পেলে গুরুত্বপূর্ণ দুটি উইকেট লাভ করেন, যার ফলেই শুরুর দিকে বেশ কোণঠাসা হয়ে গিয়েছিল ইংল্যান্ড দল।
তবে বিপর্যয় কাটিয়ে ম্যাচে ফেরার জন্য লড়াই শুরু করেন ইংল্যান্ডের অভিজ্ঞ ব্যাটার জো রুট এবং লিয়াম ডসন। এই জুটি দলগত প্রচেষ্টার মাধ্যমে সপ্তম উইকেটে ১২১ রানের একটি দুর্দান্ত ও লড়াকু পার্টনারশিপ গড়ে তোলেন। ডসন ৬৮ রান করে আউট হলেও জো রুট শেষ পর্যন্ত এক প্রান্ত আগলে রেখে ৭৬ রানে অপরাজিত থাকেন। ইংল্যান্ড শেষ পর্যন্ত ৪৭.৫ ওভারে ২৫৮ রান অলআউট হয়।
২৫৯ রানের জয়ের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ভারতের হয়ে ইনিংসের সূচনাটা হয়েছিল বেশ গোছানো ও দৃষ্টিনন্দন। অধিনায়ক শুভমান গিল নিজের স্বাভাবিক আক্রমণাত্মক ঘরানা বজায় রেখে খেলতে থাকেন। নিজের ইনিংস সাজান ১১টি চার ও ১টি বিশাল ছক্কার সাহায্যে। গিল ব্যক্তিগত ৮০ রান করার পর দুর্ভাগ্যজনকভাবে পেশিতে চোট পেয়ে যান এবং রিটায়ার্ড হার্ট হয়ে ক্রিজ ছেড়ে মাঠ থেকে চলে যেতে বাধ্য হন।
মিডল অর্ডারে নামা শ্রেয়স আইয়ার বেশ পরিপক্ব লড়াই করে দলের স্কোরবোর্ডে মূল্যবান ৩৫ রান যোগ করে আউট হন। গিলের হঠাৎ মাঠ ছাড়ার কারণে ভারতের ইনিংসে কিছু উইকেট দ্রুত পতনের ফলে সাময়িক চাপ তৈরি হয়েছিল। কিন্তু দলের হাল ধরেন অলরাউন্ডার অক্ষর প্যাটেল ও ওয়াশিংটন সুন্দর। ভারতীয় শিবিরের ব্যাটিং গভীরতা প্রমাণ করে অভিজ্ঞ ও শান্ত মস্তিষ্কে দলকে অপরাজিত থেকে জয়ের দোরগোড়ায় নিয়ে যান তাঁরা।
বল হাতে চার উইকেট লাভ করার পর রান তাড়ার কঠিন মুহূর্তেও ব্যাট হাতে অবিচল ছিলেন অক্ষর প্যাটেল। তিনি অপরাজিত ৫৭ রান করেন এবং ৫২ রানে অপরাজিত থাকেন ওয়াশিংটন সুন্দরও। এই দুই ক্রিকেটারের মধ্যে গড়ে ওঠা অপরাজিত ৮৫ রানের জুটি ভারতের জয় নিশ্চিত করে।
অধিনায়ক শুভমান গিল নিজের চোট কাটিয়ে পরবর্তী ম্যাচগুলিতে ভালো পারফর্ম করবেন বলে ক্রিকেটপ্রেমীরা আশা করছেন। ভারতীয় দল চমৎকার অলরাউন্ড গভীরতা দেখিয়েছে বার্মিংহাম ওয়ান ডে-তে। ভারতের রিজার্ভ বেঞ্চ কতটা শক্তিশালী এবং চাপের মুখে তরুণ ক্রিকেটাররা কীভাবে নিজেদের মেলে ধরতে পারে তা এই ম্যাচ থেকে স্পষ্ট। দ্বিতীয় একদিনের ম্যাচেও ভারতীয় দলের থেকে এমন অলরাউন্ড আক্রমণাত্মক পারফরম্যান্সই দেখতে চায় সাধারণ দর্শকরা।
ঘরের মাঠে সমতায় ফিরতে পরের ম্যাচে সর্বশক্তি দিয়ে লড়াই করবে ইংল্যান্ড। তবে আপাতত ওয়ান ডে সিরিজে এগিয়ে থাকায় সুবিধাজনক জায়গায় থেকে আত্মবিশ্বাসী শুভমান গিলের দল পরের ম্যাচে নামবে।












Click it and Unblock the Notifications