আর দিচ্ছে না শরীর, দাদা সৌরভ আর সিএবিকে ধন্যবাদ জানিয়ে অবসরে অশোক দিন্দা
আর দিচ্ছে না শরীর, দাদা সৌরভ আর সিএবিকে ধন্যবাদ জানিয়ে অবসরে অশোক দিন্দা
আজ দুপুরেই সিএবি জানিয়েছিল সন্ধ্যা ৬টায় সাংবাদিক বৈঠক করবেন অশোক দিন্দা (Ashok Dinda)। তখন থেকেই শুরু হয় জল্পনা। তবে কি অবসর? সেই জল্পনাই সত্যি করে সব ধরনের ক্রিকেট থেকে অবসর নেওয়ার কথা ঘোষণা করলেন বাংলার অন্যতম সেরা স্পিডস্টার। অশোক দিন্দার এই ঘোষণার সময় সিএবি (CAB) মিডিয়া সেন্টারে একদিকে বসে তাঁর স্ত্রী, অন্য পাশে সভাপতি অভিষেক ডালমিয়া (Avishek Dalmiya), সচিব স্নেহাশিস গঙ্গোপাধ্যায়, যুগ্ম সচিব দেবব্রত দাস। সিএবি-র তরফে দিন্দার হাতে তুলে দেওয়া হলো রুপোর স্মারক ফুলের তোড়া। তবে খানিকটা অনাড়ম্বরভাবেই শেষ হল ২১ বছরের বর্ণময় কেরিয়ার।

কী কারণে অবসর?
আর কিছুদিন পরেই ৩৭ বছর পূর্ণ করবেন দিন্দা। তিনি এদিন বলেন, সৈয়দ মুস্তাক আলিতে গোয়ার হয়ে বোলিংয়ের সময় উপলব্ধি করি শরীর দিচ্ছে না। সে কারণেই এই সিদ্ধান্ত। বিসিসিআই (BCCI) ও গোয়া ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন (GCA)-কে সে কথা জানিয়ে দিয়েছেন। সিএবি, বিসিসিআই, বিভিন্ন ক্লাব, সতীর্থদের ধন্যবাদ জানানোর পাশাপাশি তাঁর কেরিয়ারে বাবা-মা-দাদা-স্ত্রীর অবদানের কথা উল্লেখ করলেন দিন্দা। বিশেষভাবে উল্লেখ করলেন প্রথম কোচ অটলদেব বর্মনের কথা। বললেন, উনি বাড়িতে রেখে আমাকে ক্রিকেট শিখিয়েছেন। উনি না থাকলে আজ এই জায়গায় আসতে পারতাম না।

সৌরভের প্রতি বিশেষ কৃতজ্ঞতা
অবসর ঘোষণার সময় দিন্দা ফিরে গেলেন তাঁর প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে অভিষেকের কথায়। তখনই উল্লেখ করলেন তাঁর কেরিয়ারে সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের (Sourav Ganguly) অবদানের কথা। বললেন, ১৫ জনের দলে ছিলাম না। দাদি আমাকে ১৬তম সদস্য হিসেবে নিয়ে যান। মহারাষ্ট্রের বিরুদ্ধে অভিষেক হয়, তারপর বরাবর উৎসাহ দিয়ে গিয়েছেন। দাদার টিপস মেনেই দলীপ, রঞ্জি-সহ ঘরোয়া ক্রিকেট খেলেছি। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট বা আইপিএলে দাদার পরামর্শ মেনে চলেছি। আমার কেরিয়ারে তাঁর বিরাট অবদান। সিএবি সভাপতি অভিষেক ডালমিয়া বলেন, বাংলার সর্বকালের সেরা পেসারদের মধ্যে দিন্দা অন্যতম। বহু ম্যাচ জিতিয়েছেন। লম্বা স্পেলে টানা বোলিং করেছেন অবলীলায়। দিন্দাকে সিএবি-র সঙ্গে যুক্ত হতেও অনুরোধ করেন অভিষেক।

জাতীয় দলে দিন্দার পারফরম্যান্স
২০০৯ সালে নাগপুরে শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে টি ২০ অভিষেক হয় অশোক দিন্দার। ভারতের হয়ে শেষ টি ২০ খেলেছেন ২০১২-র ডিসেম্বরে আমেদাবাদে, পাকিস্তানের বিরুদ্ধে। ৯টি ম্যাচে পেয়েছেন ১৭টি উইকেট, সেরা বোলিং ১৯ রানে ৪ উইকেট। একদিনের আন্তর্জাতিকে দিন্দার অভিষেক হয় জিম্বাবোয়ে সফরে। ২০১৩ সালের জানুয়ারিতে শেষবার জাতীয় দলের হয়ে ওয়ান ডে ইন্টারন্যাশনাল খেলেছেন তিনি। ১৩টি ম্যাচে তাঁর ঝুলিতে রয়েছে ১২টি উইকেট।

বাংলার সাফল্যের অন্যতম কাণ্ডারী
ভারতীয় দলের (Indian Cricket Team) হয়ে সেভাবে জ্বলে উঠতে না পারলেও ঘরোয়া ক্রিকেটে তাঁর পারফরম্যান্স কিন্তু চমকপ্রদ। বাংলার জার্সিতে দিন্দার অভিষেক হয় ২০০৫ সালে। খেলেছেন ২০১৯ সাল অবধি। ১১৬টি প্রথম শ্রেণির ম্যাচে ৪২০টি উইকেট রয়েছে অশোক দিন্দার, ইনিংসে ১২৩ রানের বিনিময়ে ৮ উইকেট তাঁর সেরা পারফরম্যান্স, কোনও ম্যাচে সেরা পারফরম্যান্স ১৪২ রানের বিনিময়ে ১২ উইকেট। ঘরোয়া সীমিত ওভারের ক্রিকেট বা লিস্ট এ ম্যাচ তিনি খেলেছেন ৯৮টি, রয়েছে ১৫১টি উইকেট। সেরা বোলিং ২৯ রানের বিনিময়ে ৫ উইকেট, তিনবার তিনি পাঁচ উইকেট দখল করেছেন। ১৪৭টি টি ২০ ম্যাচে তঁর ১৫১টি উইকেট রয়েছে, সেরা বোলিং ১৩ রানে ৪ উইকেট। চলতি মরশুমে গোয়ার হয়ে সৈয়দ মুস্তাক আলি ট্রফিতে তিনটি ম্যাচ খেলেছেন, নিয়েছেন পাঁচ উইকেট।

বিতর্কিত চরিত্র
মাঠে, মাঠের বাইরে বিতর্ক ছিল দিন্দার নিত্যসঙ্গী। বাংলা দলে থেকেও রঞ্জিতে প্রথম একাদশে সুযোগ না পাওয়া মেনে নিতে পারেননি। কোচ, বোলিং কোচ-সহ টিম ম্যানেজমেন্টের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে কটু মন্তব্য করতেও পিছপা হননি। বাদ পড়েন। দিন্দার ক্ষোভের আঁচ থেকে বাদ যাননি পূর্বাঞ্চলের জাতীয় নির্বাচকও। ক্ষোভ প্রশমনে সিএবি উদ্যাগী হলেও কাজের কাজ হয়নি। শেষে বাংলা তথা জাতীয় দলের দরজা খুলছে না দেখে কার্যত হতাশ হয়েই সিদ্ধান্ত নেন গোয়ার হয়ে খেলবেন। তবে বাংলাকে বহু ম্যাচ জিতিয়েছেন নৈছনপুর এক্সপ্রেস। সঠিক সময়ে ব্রেক থ্রু দিয়ে দলের জয়ে বড় ভূমিকা নেন। আইপিএল খেলেছেন দিল্লি ডেয়ারডেভিলস, পুণে ওয়ারিয়র্স, রাইজিং পুণে সুপারজায়ান্টস, কলকাতা নাইট রাইডার্স, রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালোরের হয়ে। ক্রিকেট দিন্দাকে মনে রাখবে আগ্রাসী লড়াকু সৈনিক হিসেবেই। দিন্দা জানিয়েছেন, আপাতত পরিবারকে সময় দেবো। পরে সিএবি-র সঙ্গে যুক্ত হতে পারলে খুশিই হবো।












Click it and Unblock the Notifications