রাজস্থান ডাগআউটে মোবাইল ফোন ব্যবহার নিয়ে তদন্তে বিসিসিআই
রাজস্থান রয়্যালসের ম্যানেজার রোমি ভিন্দরের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করতে চলেছে বিসিসিআইয়ের দুর্নীতি দমন শাখা (এসিইউ)। রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর বিপক্ষে ম্যাচের সময় তিনি দলের ডাগআউটের ভেতরে মোবাইল ফোন ব্যবহার করায় এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এই ঘটনার জেরে রোমি ভিন্দরকে কড়া নজরে রাখা হয়েছে।
আইপিএল চেয়ারম্যান অরুণ ধুমল জানিয়েছেন যে, তারা এসিইউ-কে যত দ্রুত সম্ভব বিষয়টি তদন্ত করে একটি রিপোর্ট জমা দিতে নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেন, প্লেয়ার্স অ্যান্ড ম্যাচ অফিশিয়ালস এরিয়া (পিএমওএ)-তে কয়েকজন আধিকারিককে ফোন ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হয়।

ধুমল আরও বলেন, ভিন্দর সেই কর্মকর্তাদের একজন কিনা, যাদের ডাগআউটে ফোন আনার অনুমতি আছে, তা তারা খতিয়ে দেখছেন। এসিইউ তাকে ডেকে বিষয়টির তদন্ত করবে এবং সেই অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেবে।
গুয়াহাটিতে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর বিপক্ষে আইপিএল ২০২৬-এর গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে ডাগআউটে রোমি ভিন্দরকে মোবাইল ফোন ব্যবহার করতে দেখা যায় টিভির ক্যামেরায়। এই ফুটেজটি প্রথমে একজন সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার শেয়ার করলে বিতর্কের সূত্রপাত হয়।
ভিডিওতে দেখা গেছে, রয়্যালসের ছয় উইকেটের জয়ের সময় ভিন্দরের পাশে তরুণ খেলোয়াড় বৈভব সূর্যবংশী বসে আছেন। এক বিসিসিআই কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছেন যে, ভিন্দর 'প্লেয়ার্স অ্যান্ড ম্যাচ অফিশিয়ালস এরিয়া' (পিএমওএ) প্রোটোকল লঙ্ঘন করেছেন, যা ডাগআউটে মোবাইল ফোন ব্যবহার নিষিদ্ধ করে।
একটি বিসিসিআই সূত্র জানায়, "হ্যাঁ, ভিন্দর প্লেয়ার্স অ্যান্ড ম্যাচ অফিশিয়ালস এরিয়ার (পিএমওএ) প্রোটোকল লঙ্ঘন করেছেন, কারণ ম্যাচের সময় ডাগআউটে সেল ফোন নিষিদ্ধ।"
ঐ সূত্রটি আরও যোগ করে, "এটি অনিচ্ছাকৃত হতে পারে, তবে যেহেতু এটি প্রোটোকল লঙ্ঘন, তাই কিছু ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সতর্কীকরণ নাকি ম্যাচ নিষেধাজ্ঞা হবে তা ম্যাচ রেফারি এবং এসিইউ রিপোর্টের উপর নির্ভর করবে। এর ভিত্তিতে আইপিএল গভর্নিং কাউন্সিল সিদ্ধান্ত নিতে পারবে।"
রাজস্থান রয়্যালস যখন ২০২ রানের লক্ষ্য তাড়া করছিল, ঠিক সেই সময় সূর্যবংশীর আউটের ঠিক পরেই ক্যামেরায় ভিন্দরকে ফোন ব্যবহার করতে দেখা যায়। ডাগআউট আইপিএল নিয়ম অনুযায়ী একটি সংরক্ষিত এলাকা, যেখানে ইলেকট্রনিক যোগাযোগের ওপর কঠোর বিধিনিষেধ রয়েছে। যদিও ফোনটি কী উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হয়েছিল তা স্পষ্ট নয়, তবে এই কাজের তাৎপর্য নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
এই ভিডিও দ্রুত সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়ে পড়ে এবং ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দেয়। এমনকি প্রাক্তন আইপিএল কমিশনার ললিত মোদীও দুর্নীতি দমন কর্মকর্তাদের তদারকি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।
আইপিএলের ২০২৬ সালের পিএমওএ প্রোটোকলে সুস্পষ্টভাবে বলা হয়েছে যে, ডাগআউটে মোবাইল ফোন নিষিদ্ধ। টিম ম্যানেজার শুধুমাত্র ড্রেসিংরুমে ফোন ব্যবহার করতে পারেন, ডাগআউটে নয়।
সব খেলোয়াড় এবং সাপোর্ট স্টাফদের ম্যাচের আগমনের পর মোবাইল ফোন এবং স্মার্টওয়াচ বন্ধ করে টিম সিকিউরিটি লায়াজোন অফিসারের কাছে সংরক্ষণের জন্য জমা দিতে হয়। শুধুমাত্র টিম অ্যানালিস্টকে নির্ধারিত বিশ্লেষক টেবিলে কম্পিউটার ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হয়।
বিসিসিআইয়ের অ্যান্টি-করাপশন অ্যান্ড সিকিউরিটি ইউনিট (এসিএসইউ) ডাগআউটে যোগাযোগ ডিভাইস ব্যবহারের ক্ষেত্রে কঠোর নীতি বজায় রাখে এবং যেকোনো লঙ্ঘনকেই তারা গুরুতর অপরাধ হিসেবে দেখে।
ম্যাচে নিযুক্ত দুই বিসিসিআই দুর্নীতি দমন ম্যানেজার এসিএসইউ প্রধানের কাছে তাদের প্রতিবেদন জমা দেবেন। ভিন্দরের জন্য সম্ভাব্য শাস্তির মধ্যে রয়েছে জরিমানা অথবা পিএমওএ থেকে সাময়িক নিষেধাজ্ঞা। রাজস্থান রয়্যালস সোমবার সানরাইজার্স হায়দরাবাদের বিরুদ্ধে তাদের পরবর্তী ম্যাচের প্রস্তুতি নেওয়ার সময় এই ধরনের অযাচিত ঝামেলা এড়াতে চাইবে।












Click it and Unblock the Notifications