অভিনেতা রাহুলের মৃত্যু নিয়ে অবশেষে বড় পদক্ষেপ, তদন্তভার তুলে দেওয়া হল সিআইডির হাতে
অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনার তদন্তভার এবার রাজ্য গোয়েন্দা সংস্থা সিআইডির হাতে তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ঘটনার প্রায় আড়াই মাস কেটে গেলেও এই মৃত্যু রহস্যের আসল জট খোলেনি। অবশেষে জট কাটাতে এবং সত্য সামনে আনতে এই বড় পদক্ষেপের কথা আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হল।
ভোটের প্রচার মধ্যগগনে থাকার সময়ই গত ২৯ মার্চ ওড়িশার তালসারিতে 'ভোলে বাবা পার করেগা’ নামের একটি জনপ্রিয় বাংলা ধারাবাহিকের আউটডোর শুটিং চলাকালীন সমুদ্রের জলে শট নেওয়ার সময় আচমকাই জলে ডুবে মর্মান্তিক মৃত্যু হয় অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের। এই অনাকাঙ্ক্ষিত ও আকস্মিক দুর্ঘটনার পর থেকেই বাংলার অভিনয় ও বিনোদন জগতে এক গভীর শোকের ছায়া নেমে আসে।

অভিনেতার অকাল প্রয়াণের পর বেশ দীর্ঘ সময় কেটে গিয়েছে। কিন্তু এখনও পর্যন্ত এই ঘটনার আসল কারণ বা কার গাফিলতি ছিল, সেই সব প্রশ্নের কোনও সন্তোষজনক উত্তর মেলেনি। পরিস্থিতি খতিয়ে দেখে সম্প্রতি এই স্পর্শকাতর মামলায় স্বতঃপ্রণোদিতভাবে হস্তক্ষেপ করে দেশের প্রধানমন্ত্রীর দফতর বা পিএমও। ঘটনার গুরুত্ব বিচার করে দিল্লি থেকে অতি দ্রুত পদক্ষেপ করার জন্য কড়া নির্দেশও দেওয়া হয়েছিল।
প্রধানমন্ত্রীর দফতরের সেই কড়া বার্তার কয়েক দিনের ব্যবধানেই এবার তদন্ত প্রক্রিয়াকে আরও গতিশীল এবং নিখুঁত করার জন্য বড় সিদ্ধান্ত গৃহীত হল। পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য সরকারের তরফ থেকে এই তদন্ত ওড়িশা পুলিশের পাশাপাশি নিজেদের হাতে নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এদিন রবিবার পর্যালোচনা বৈঠকের পর গোটা ঘটনা নিয়ে মন্তব্য করেছেন।
এদিন রবিবার দিঘা-শংকরপুর উন্নয়ন পর্ষদের একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যালোচনা ও প্রশাসনিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছিল সৈকত শহরে। সেই বৈঠকের পরেই সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে এই বড় সিদ্ধান্তের কথা জানান তিনি। অভিনেতার রহস্যমৃত্যুর নিরপেক্ষ ও অত্যন্ত গভীর তদন্ত অর্জনের স্বার্থেই পুরো বিষয়টি এখন ওড়িশা পুলিশের হাত থেকে অপরাধ দমন শাখা অর্থাৎ সিআইডির অধীনে নিয়ে যাওয়ার জন্য প্রক্রিয়া শুরু করার কড়া নির্দেশ দিয়েছেন।
বৈঠক শেষে শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট জানান, "সম্প্রতি ওড়িশায় বাংলার অভিনেতার মৃত্যু ঘটেছে। পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ দায়ের হয়েছে। ওড়িশা পুলিশ সিট গঠন করেছে। আমি পুলিশ সুপারকে বলব বিষয়টি মুখ্যসচিবের কাছে কাছে পাঠিয়ে সিআইডিকে তদন্ত ভার দেওয়ার জন্য।"
পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের প্রাথমিক অনুমান ও তদন্তে ইতিমধ্যেই বেশ কিছু অস্বস্তিকর তথ্য সামনে এসেছে। শুটিং ইউনিটের বিভিন্ন সদস্যরা ঘটনার ঠিক পর পর যে সমস্ত লিখিত ও মৌখিক বয়ান দিয়েছিলেন, তার সাথে পুলিশের সংগ্রহ করা সিসিটিভি ফুটেজের কোনো মিল পাওয়া যায়নি। এই বড় ধরনের অসঙ্গতি প্রকাশ্যে আসতেই পুরো মৃত্যুর ঘটনাটি একটি পূর্বপরিকল্পিত ষড়যন্ত্র নাকি চরম গাফিলতি, তা নিয়েও নানা প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। যা সিআইডি তদন্ত হলেই জলের মতো পরিষ্কার হবে বলে মত অনেকের।












Click it and Unblock the Notifications