শেখ শাহজাহানের রাশ আলগা হয়েছে সন্দেশখালিতে? সুজনের দাবি মানুষ প্রতিরোধ শুরু করেছে
এলাকার বেতাজ বাদশা হিসেবে পরিচিত শেখ শাহজাহান। ইডির উপর আক্রমণের ঘটনার পর থেকে তিনি আন্ডারগ্রাউন্ড। এক মাসের বেশি সময় হয়ে গিয়েছে তিনি প্রকাশ্যে আসেননি। এদিকে বুধবার বিকেলের পর থেকে শুরু হয়ে গিয়েছে এলাকায় জনরোষ। শাসক দলের বিরুদ্ধেই মানুষ এবার রুখে দাঁড়াচ্ছে।
শেখ শাহজাহান নামে না কী বাঘে গোরুতে এক ঘাটে জল খায়। সন্দেশখালিতে তার কথাতেই সূর্য ওঠে, নামে। গাছের পাতাও তার কথা ছাড়া নড়তে পারে না। সরবেরিয়া অঞ্চলে এখন মানুষ বেরিয়ে এসেছে। বুধবারের পর বৃহস্পতিবারও উত্তেজিত সন্দেশখালির ওই এলাকা।

বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই এলাকার মহিলারা প্রতিবাদে রাস্তায় নেমেছেন। লাঠি ঝাঁটা আরও অন্যান্য উপকরণ নিয়ে তারা তৈরি। শাহজাহানের বাহিনী গতকাল এলাকায় এসেছিল। মানুষের তাড়া খেয়ে পালিয়েছে। ফের যাতে এলাকায় আসতে না পারে। তাই শুরু হয়ে গিয়েছে প্রতিরোধ আন্দোলন।
প্রশ্ন উঠছে তাহলে কি এবার মানুষ জেগে উঠছে? বছরের পর বছর ধরে মুখ বুজে অত্যাচার সহ্য করেছেন বলে খবর। এলাকায় জমি দখল হয়েছে। চাষের জমি বদলে গিয়েছে মাছের ভেড়িতে। জমিতে নোনা জল ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছে। এমন বহু অভিযোগ রয়েছে শেখ শাহজাহানের ও তার দলবলের বিরুদ্ধে। এবার কি সব কিছুর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ শুরু হয়েছে?
আড়ালে আবডালে শোনা গিয়েছে শেখ শাহজাহান কোথাও পালাননি। তিনি সন্দেশখালি এলাকাতেই রয়েছেন। কিন্তু এবার পরিষ্কার বক্তব্য রাখছেন এলাকার মহিলারা। তারা প্রকাশ্যে জানাচ্ছেন, শেখ শাহজাহান এলাকাতে ঘুরছে। সাধারণ মানুষ দেখতে পাচ্ছে। কিন্তু পুলিশ দেখতে পাচ্ছে না! তাকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না!
তাহলে কি শেখ শাহজাহানের বিরুদ্ধেই এবার প্রতিরোধ গড়ে উঠছে? যে রাজ্যপাঠ ধমকে চমকে ভয় দেখিয়ে তৈরি হয়েছিল। তাই কি হাতের বাইরে বেরোতে শুরু করেছে? এক মাসের বেশি সময় ধরে প্রকাশ্যে রাজ্যপাট দেখতে পারেননি শেখ শাহজাহান। মানুষ কি কোথাও বুঝতে পারছে, এবার তার দিন শেষ?
শেখ শাহজাহানের বিরুদ্ধেই রাস্তায় নেমে পড়েছে তৃণমূল কংগ্রেসের একটা অংশ। তাহলে কি এবার নতুন সমীকরণ তৈরি হচ্ছে সন্দেশখালি এলাকায়? শুধু শেখ শাহজাহান নয়, ব্লক সভাপতি শিবপ্রসাদ হাজরা ও সঙ্গী উত্তম সর্দারের বিরুদ্ধেও জনরোষ তৈরি হয়েছে।
তিনজনকে অবিলম্বে গ্রেফতার করতে হবে। এই দাবি উঠেছে মানুষের থেকে। উত্তমের বাড়ি ও আশপাশের এলাকা গতকাল ভাঙচুর হয়েছে। পুলিশি পাহারায় রয়েছেন এই তৃণমূল নেতা। তাহলে কি এবার তাদের শেষের দিনের শুরু?
শেখ শাহজাহান গ্রেফতারি এড়াতে গা ঢাকা দিয়ে রয়েছেন। সেখানেই বাড়তি অক্সিজেন পেয়েছে সাধারণ মানুষ। না হলে প্রকাশ্যে শেখ শাহজাহানের বিরুদ্ধে কবে এভাবে মানুষ সোচ্চার হয়েছে? সেই প্রশ্ন উঠছে।
সিপিএম নেতা সুজন চক্রবর্তী দাবি করছেন, মানুষ জাগছে। সন্দেশখালি ঘটনা দেখে বোঝা উচিত জনরোষ কতটা ভয়াবহ। শুধু সন্দেশখালি নয়, রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় এই ঘটনা সামনে আসছে। আদিবাসীদের জমি লুট হয়েছে। পঞ্চায়েতের টাকা লুট হয়েছে। সাধারণ মানুষের জমি গিয়েছে। ক্ষমতায় তৃণমূল, তার সঙ্গে পুলিশ। তার পিছনে রয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। এবার মানুষ প্রতিরোধ শুরু করেছেন।












Click it and Unblock the Notifications