ছাঁটাইয়ের পর নতুন কর্মী নিয়োগের ইঙ্গিত ইলন মাস্কের, ভারতে তৈরি হতে পারে প্রযুক্তিবিদদের দল
টুইটারে কর্মী ছাঁটাইয়ের পর নতুন নিয়োগের ইঙ্গিত ইলন মাস্কের
ইলন মাস্ক টুইটার কেনার পর থেকেই সংবাদের শিরোনামে ইলন মাস্ক। টুইটার কেনার পর তিনি কর্মীদের দুই তৃতীয়াংশ ছাঁটাই করেছিলেন। বিশ্বের সব থেকে ধনী ব্যক্তি দাবি করেছিলে, টুইটারকে পুনরুদ্ধার করতে এই ছাঁটাই করতে তিনি বাধ্য হয়েছেন। এপ্রিলে টুইটার কেনার চুক্তি হয়। সেই সময় থেকেই কর্মী ছাঁটাইয়ের কথা বলছিলেন। কিন্তু সম্প্রতি টুইটারে তিনি বিপণন বিভাগ ও প্রযুক্তি বিভাগে নিয়োগ করবেন বলে জানিয়েছেন। টুইটার ভারত, জাপান, ব্রাজিল ও ইন্দোনেশিয়ার প্রযুক্তিবিদদের দল গঠন করতে চলেছে।

নতুন করে কর্মী নিয়োগ টুইটারে
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের একটি প্রতিবেদন অনুসারে ইলন মাস্ক ২২ নভেম্বর টুইটারের কর্মীদের সঙ্গে বৈঠক করেন। সেই সময় ইলন মাস্ক কর্মীদের বলেন, ছাঁটাইয়ের কাজ সম্পন্ন। নতুন করে তিনি আর কাউকে বরখাস্ত করবেন না। পাশাপাশি তিনি জানান, প্রযুক্তি বিভাগ ও বিক্রয় বিভাগের ওপর জোর দিতে নতুন করে নিয়োগ করা হবে। পাশাপাশি তিনি টুইটারের বর্তমান কর্মীদের এই বিষয়ে সাহায্য করেন। সম্প্রতি কিছুদিন আগেই টুইটার প্রধান ইলন মাস্ক কর্মীদের ইমেল পাঠান। সেখানে তিনি জানতে চান, সংস্থার কোনও কর্মী কোডিং জানেন কি না।

১,২০০ প্রযুক্তিবিদের পদত্যাগে চাপে মাস্ক
টুইটারের বিশ্বব্যাপী প্রায় ৭,৫০০ কর্মী রয়েছে। তারমধ্যে দুই তৃতীয়াংশ কর্মীকে বরখাস্ত করা হয়েছে। এরপরেই টুইটারের নতুন প্রধান ইলন মাস্ক কর্মীদের ইমেল করে আল্টিমেটাম দেন। সেখানে তিনি বলেন, সপ্তাহে ৮০ ঘণ্টা করে কাজ করতে হবে। টুইটারকে পুনরুদ্ধার করতে কঠোর পরিশ্রমের প্রয়োজন। ইলন মাস্কের আল্টিমেটাম ইমেলের পরেই সংস্থার পরায় ১,২০০ জন ইঞ্জিনিয়াং পদত্যাগ করে। এই পদত্যাগের জেরেই ইলন মাস্ক চাপের মুখে পড়েছেন বলে মনে করছেন।

দৈনিক ৪০ মিলিয়ন ডলার ক্ষতির মুখে মাস্ক
টুইটার কেনার আগে থেকেই ইলন মাস্ক সতর্ক করেছেন। টুইটার কেনার পর তিনি বলেছিলেন, সংস্থাটি দৈনিক ৪০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার খতির মুখে পড়ছে। এই পরিস্থিতিতে টুইটারের কর্মী ছাঁটাই ছাড়া আর কোনও উপায় নেই। তিনি টুইটারের কর্মীদের বরখাস্তের পরে তিন মাসের মাইনে দিয়েছেন। যা মার্কিন আইনে ক্ষতিপূরণের ৫০ শতাংশ বেশি।

বিশ্বজুড়ে আর্থিক মন্দা
বিশ্বজুড়ে আর্থিক মন্দা দেখা দিয়েছে। টুইটার ছাড়া সোশ্যাল মিডিয়া জায়েন্ট মেটা ১১,০০০ কর্মী বরখাস্ত করেন। মার্কিন দৈনিক অনুসারে অ্যামাজন বিশ্বব্যাপী ১০,০০০ কর্মীকে বরখাস্ত করে। কোভিড পরিস্থিতিতে ইন্টারনেটের চাহিদা বেড়ে যায়। সোশ্যাল মিডিয়ার পাশাপাশি ই কমার্স সংস্থাগুলোর চাহিদা বেড়ে যায়। যার ফলে ব্যাপক কর্মী নিয়োগ হয়। কিন্তু কোভিড পরবর্তী যুগে সাধারণ মানুষ আবার ছন্দে ফিরতে শুরু করে। এরফলে ইন্টারনেটের ব্যবহার অনেক কমে যায়। সংস্থাগুলো ক্ষতির মুখে পড়ে। এছাড়াও রাশিয়া ইউক্রেন যুদ্ধ ও বিশ্বজুড়ে মুদ্রাস্ফীতি আর্থিক সঙ্কটের অন্যতম প্রধান কারণ।












Click it and Unblock the Notifications