বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনা! ঘুরে দাঁড়াতে পদক্ষেপ গ্রহণ আদানি গোষ্ঠীর
আদানি গোষ্ঠীকে নিয়ে হিন্ডেনহার্গ রিসার্চের বিস্ফোরক রিপোর্টের পরে দুই মাস অতিক্রান্ত। প্রকাশিত খবর অনুযায়ী, বর্তমান পরিস্থিতিতে ভারতীয় এই ধনকুবের তাঁর ভবিষ্যত প্রকল্পগুলির পুনর্মূল্যায়ন করছেন। আদানি গোষ্ঠী অবশ্য হিন্ডেনবার্গের সব অভিযোগ অস্বীকার করে বিষয়টিকে ভারতের ওপর আক্রমণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে।

গত জানুয়ারির শেষের দিকে হিন্ডেনবার্গ রিপোর্টে আদানি গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে ব্যাপক কর্পোরেট জালিয়াতির অভিযোগ তোলা হয়। তারপরেই বাজার থেকে আদানি গোষ্ঠীর ১২৫ বিলিয়ন ডলারের বাজার মূল্য মুছে যায়। এক সর্বভারতীয় সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত খবর অনুযায়ী নতুন নতুন সেক্টরে ব্যবস্থা বৃদ্ধির যে পরিকল্পনা করেছিলেন গৌতম আদানি, তা থেকে তিনি সরে আসতে চাইছেন।
বর্তমানে ভারতে যেসব ব্যবসায়ী গোষ্ঠীর ঋণের পরিমাণ সব থেকে বেশি কার মধ্যে আদানি গোষ্ঠী অন্যতম। সূত্রের খবর অনুযায়ী আদানি গোষ্ঠী পেট্রোকেমিক্যাল থেকে পিছিয়ে আসতে চাইছে। এছাড়াো পশ্চিম ভারতের মুন্দ্রায় একটি পরিকল্পিত গ্রিনফিল্ড কয়লা থেকে পলিভিনাইল ক্লোরাইড প্রকল্পও তারা আর এগিয়ে নিয়ে যেতে চায় না বলে জানা গিয়েছে। ফেব্রুয়ারিতে আদানি গোষ্ঠী মধ্য ভারতের একটি কয়লা খনি কেনার পরিকল্পনাও বাতিল করেছে।
অন্যদিকে অ্যালুমিনিয়াম, ইস্পাত এবং সড়ক প্রকল্পগুলির দিকে নজর দেওয়া উচিত বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞদের একাংশ। তারা মনে করছেন, আদানি গোষ্ঠীর উচিত মূল প্রকল্পগুলির দিকে নজর দেওয়া। এর মধ্যে রয়েছে বিদ্যুৎ উৎপাদন, বন্দর, গ্রিন এনার্জির মতো উদ্যোগ। উল্লেখ করা প্রয়োজন আদানি গোষ্ঠী ভারতের বন্দরগুলির কার্গোর একচতুর্থাংশ তারাই পরিচালনা করে। এছাড়াও ইজরায়েল থেকে শ্রীলঙ্কা পর্যন্ত তারা বিস্তৃত রয়েছে।
পরিস্থিতি সামাল দিতে ইতিমধ্যেই বেশ কিছু পারিবারিক শেয়ার বিক্রি করেছে আদানি গোষ্ঠী। এই পদ্ধতি পরবর্তী সময়েও জারি থাকতে পারে বলেই মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল। হিরে ব্যবসায়ী থেকে এশিয়ার সব থেকে ধনী ব্যক্তি। এমন কী ২০২২-এ বিশ্বের ধনী ব্যক্তিদের প্রথম দশেও পৌঁছে গিয়েছিলেন গৌতম আদানি। সেই সময় নির্দিষ্ট সীমার বাইরে গিয়ে মিডিয়া, মহিলা ক্রিকেট এবং ডেটা সেন্টারে বিনিয়োগ করেছিল গোষ্ঠী। এনডিটিভির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নিয়েছিলেন তিনি। তবে এই মুহূর্তে আর সেরকম কোনও সম্ভাবনা নেই বলেই মনে করছে বিশেষজ্ঞরা।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ক্ষতি নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি শেয়ারহোল্ডার এবং বৃহত্তর বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগের দিকে মন দিতে আগেকার সব পদক্ষেপ থেকে বর্তমানে পিছিয়ে আসাটা জরুরি বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা। অন্যদিকে কোম্পানির আধিকারিকরা নিয়মিত ভাবে দুবাই, লন্ডন,নিউইয়র্কের বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে বোঝানোর চেষ্টা করছেন।












Click it and Unblock the Notifications