কীভাবে ‘ধনতেরাস’ নামের প্রচলন হল, কেনই বা এই দিনে সকলে সোনা, রুপো, বাসন কেনেন?
কীভাবে ‘ধনতেরাস’ নামের প্রচলন হল, কেনই বা এই দিনে সকলে সোনা, রুপো, বাসন কেনেন?
চলতি বছরে ধনতেরাস আসতে আর বেশি বাকি দিন বাকি নেই, দীপাবলি পালিত হবে ২৪ অক্টোবর আর ধনতেরাস ২২ এবং ২৩ তারিখ। এই দিনটি বিশেষ শুভ। এই দিনে অনেকেই সোনা, রুপো থেকে নানান বাসোরপত্র কেনেন। কিন্তু এর পেছনে রয়েছে একটি বড় কারণ। যা হয়তো আমরা অনেকেই জানিনা। নরকা চতুর্দশী দিয়ে শুরু হয় এই উৎসব। এটি দিয়েই হয় ধনতেরাসের সূচনা। ক্যালেন্ডার অনুযায়ী, এই সময়ে ১৩ তম দিনকেই 'ধনত্রয়োদশী’ বা 'ধন্বন্তরী ত্রয়োদশী’ নামে পরিচিত।

জেনে নিন ধনতেরাসের তাৎপর্য
এই ধনতেরাসের দিন ভগবান ধন্বন্তরীর পুজো করা হয়। কথিত আছে, ভগবান ধন্বন্তরী দুঃখ-কষ্ট দূর করতে এই পৃথিবীতে এসেছিলেন। সভ্যতাকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য তার আবির্ভাব হয়েছিল। তাছাড়া আয়ুর্বেদ যোগ, প্রাকৃতিক চিকিৎসা, হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা জন্য এই আয়ুর্বেদ দিবস এই দিন পালন করা হয়। আর এটি এই বছর পরেছে ২৩ অক্টোবর।

মা লক্ষ্মীর আরাধনা করা হয়
প্রতিবছর ধনতেরাসের সময় মানুষ নতুন বাসনপত্র কেনেন। অনেকেই সোনা ও রুপোর গহনা, কয়েন কেনেন। অনেকে দেবতার মূর্তি কেনেন। কিন্তু এর পেছনে রয়েছে কিন্তু একটি বড় কারণ। তাছাড়া অনেকে নতুন পোশাক পরেন মা লক্ষীর আরাধনা করেন। তারপর তারা দীপাবলির জন্য প্রস্তুতি নেন। বাড়ি পরিষ্কার রাখেন কিন্তু কেন জেনে নিন।

কীভাবে ‘ ধনতেরাস’ নাম হল
কথিত আছে রাজা হিমার ১৬ বছর বয়সে একটি পুত্র একবার একটি কঠিন সমস্যায় পড়তে হয়ে ছিল। কারণ তার জন্ম কুন্ডলী থেকে জানা গিয়েছিল বিয়ের চতুর্থ দিন তিনি সাপের কামড়ে মারা যাবেন। তাই তার বিয়ের পর চার দিনের মাথায় তার স্ত্রী তাকে ওই দিন ঘুমোতে বারণ করেছিলেন। তার স্ত্রী তার দরজার কাছে সোনা, রুপোর সমস্ত গহনা রেখে দিয়েছিলেন এবং সারা ঘরে প্রদীপ জ্বালিয়ে রেখেছিলেন। তার স্বামী যাতে রাতে ঘুমিয়ে না পড়েন তার জন্য তার স্ত্রী তাকে নানান গল্প বলে শোনাচ্ছিলেন, গান গাইছিলেন। কিন্তু রাতে যম অর্থাৎ মৃত্যুর দেবতা রাজকুমারের দরজায় এসে সাপ রূপে এসে ধরা দেন। কিন্তু যম সেই প্রদীপ আর গয়না দেখে সাময়িকভাবে খানিকটা অবাক হয়ে গিয়েছিলেন এবং সেই গয়না এবং প্রদীপের মোহ যেন ছেড়েই বের হতে পারছিলেন না তিনি। আর এদিকে রাজকুমার তার কক্ষে তার স্ত্রীর গান, গল্প শুনতে শুনতে সারারাত কাটিয়ে দিলেন। আর তারপর ভোর হতেই সেখান থেকে চলে গেলেন। এভাবে রাজকুমারকে তার স্ত্রী মৃত্যুর হাত থেকে বাঁচাল। তারপর থেকেই এই দিনটি ধনতেরাস নামে পরিচিত হল।

এই দিনে এই জিনিস গুলি কেনা শুভ
পরের দিনটিকে অবশ্য নরক চতুর্দশী বলা হয়। তবে তার পরের দিনটি, দীপাবলির আগের রাতকে ছোটি দিওয়ালি বলা হয়। তারপরে দিনটি দীপাবলি নামে পরিচিত। তাই এই ধনতেরাসের বিশেষ দিনে অনেকেই সোনা থেকে রুপো এবং নানান বাসনপত্র কিনে আনেন বাড়িতে। এই দিনে এই জিনিসগুলি কেনা খুব শুভ। এতে আর্থিক দিকে উন্নতি হয়। জীবনে সাফল্য আসে।












Click it and Unblock the Notifications