• search
For Quick Alerts
ALLOW NOTIFICATIONS  
For Daily Alerts

কালীঘাট ও তারাপীঠের কালীপুজোর ভিন্ন বৈশিষ্ট!

  • By Shuvro Bhattacharya
  • |

কালীঘাটে কালীপুজোয় লক্ষ্মীপুজো:

তিলোত্তমা কল্লোলিনী তিনি ভারতের পূর্বতন রাজধানী । শুরুর দিন থেকে তার পায়ে পায়ে জড়িয়ে হাজার ইতিহাস। স্মৃতি আর সময় সেখানে পথ হাঁটে হাত ধরাধরি করে।।

হাসি, কান্না, ভালবাসার এক অপঠিত জার্নাল । সেই নিয়েই 'কলি-কথা'...
এবার ফিরে দেখা বিখ্যাত 'কালীঘাট' মন্দিরের সুপ্রাচীন ইতিহাস, যা কলকাতা শহরের চেয়েও প্রাচীন।...

কালীঘাট ও তারাপীঠের কালীপুজোর ভিন্ন বৈশিষ্ট!

ইংরেজরা আসার আগে সুতানুটি তো বটেই তার আশেপাশের বিস্তীর্ণ অঞ্চলই ছিল জঙ্গলে পরিপূর্ণ। হুগলি নদীর তীর ঘেঁষে কিছু কিছু গ্রাম থাকলেও সেগুলি ছিল মূলত হাটুরে লোকজন, কিছু দেশি বণিক আর কিছু অন্তজ বর্ণের মানুষের বাস। আর ছিল নদীর তীর বরাবর দীর্ঘ এক রাস্তা। সেই হালিশহর থেকে শুরু হয়ে একেবারে কালীঘাট অব্দি।

কালীঘাট কলকাতা শহরের থেকে অনেক প্রাচীন হলেও এর ঐতিহাসিকতা নিয়ে অনেক পরস্পর বিরোধী তত্ত্ব রয়েছে। যদিও কিংবদন্তী অনুসারে বলা হয়, কালীঘাট একান্ন সতীপীঠের অন্যতম, তথাপি প্রাচীন কোনও পুরাণে বা তন্ত্রে কালিঘাটের উল্লেখ নেই। 'ভবিষ্য উপপুরাণ'-এ লেখা আছে, "তাম্রলিপ্তে প্রদেশে চ বর্গভীমা বিরাজতে। গোবিন্দপুর প্রান্তে চ কালী সুরধুনীতটে"।

কালীঘাটের কালী মন্দির সুরধুনী অর্থাৎ, গঙ্গার তীরে হলেও তা গোবিন্দপুরের প্রান্তে কেন বলা হল তা নিয়ে প্রশ্ন থেকে যায়! কালীঘাট সম্পর্কে বিভিন্ন কাহিনি ছড়িয়ে আছে, কিছু তার প্রাচীনত্ব নিয়ে, কিছু অবস্থান নিয়ে আবার কিছু কাহিনি তার অলৌকিকতা নিয়েও । তবে শুধু কালীঘাট নয়, যে কোনও প্রাচীন মন্দির সম্পর্কেই বিভিন্ন রকমের কল্প-কাহিনি তৈরি হয়, কালীঘাট সেগুলিরই অংশ মাত্র।

যেমন ভারতের বিশেষ করে উত্তর ও পূর্ব ভারতের বহু শিব মন্দিরের উদ্ভব সম্পর্কে বলা হয়, যে রাখালেরা মাঠে গরু চরাতে চরাতে লক্ষ্য করল যে কোনও না কোনও গাভী মাঠ ছেড়ে রোজ গভীর জঙ্গলে চলে যায় আবার ফিরে আসে ।

একদিন এক রাখাল তার গাভীর পিছন পিছন জঙ্গলের গভীরে গিয়ে দেখল যে গাভীটি একটি শিলাখণ্ডের উপর দাঁড়িয়ে আছে এবং তার বাঁট থেকে আপনা আপনি দুধ ঝরে পড়ছে ওই শিলাখণ্ডের উপরে । তারপর সেই রাখাল অন্যদের ডাকে, গ্রামের লোকজন আসে । গড়ে ওঠে মন্দির । এই গল্পটি রূপক । বৌদ্ধ যুগের পর হিন্দু পুনরুত্থান পর্বে অনার্য দেবতা শিবের আর্যত্ব প্রাপ্তির ক্ষেত্রে উত্তর ভারতীয় যাদব জাতিগোষ্ঠী বড় ভূমিকা গ্রহণ করেছিল, সেকথা স্মরণ রাখতেই শিবমন্দির প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে ওই গল্পটি প্রচার করা হয় ।

কালীঘাট প্রসঙ্গেও তার ব্যতিক্রম নেই। এক কাহিনিতে বলা হয়, বর্তমান পোস্তা সংলগ্ন অঞ্চলেই নাকি কালীঘাট অবস্থিত ছিল। জায়গাটি জঙ্গলময়। মানুষজন যেত না সেখানে। কেবল হাটুরেরা মাঝে মাঝে ওই মন্দিরে পুজো দিত । পরে ওই মন্দির ভেঙে পড়ে। বহুকাল পরে নদীপথে ওই দিক দিয়ে যাবার সময় এক দল কাপালিক জঙ্গলের মধ্যে থেকে ওই মূর্তি খুঁজে বর্তমান কালীঘাট অঞ্চলে নিয়ে গিয়ে প্রতিষ্ঠা করে।

দ্বিতীয় এক কাহিনিতে বলা হয়, ওই কালীমূর্তির নাকি আদতে ছিল গোবিন্দপুরে (বর্তমান ফোর্ট উইলিয়ম, হেস্টিংস অঞ্চল), পরে কোনও এক সময়ে তা এখনকার কালীঘাটে স্থানান্তরিত হয়। ওই সমস্ত কিংবদন্তি থেকে মূল তথ্য যা পাওয়া যায় তা হল - কালীঘাটের কালী কোনও তৈরি করা মনুষ্য আকৃতির বিগ্রহ নয় । একটি বড় পাথরখণ্ড বিশেষ। হয়ত অতি প্রাচীনকালে এখানকার কোনও লৌকিক দেবদেবী হিসেবে পূজিত হওয়া বিগ্রহ। পরে সেই অঞ্চল জনবিরল হয়ে জঙ্গলে পরিণত হয়ে গেলে ওই পাথরখণ্ড সেখানেই পড়ে থাকে।

ইতিহাসগতভাবে কালীঘাটের কথা জানা যায় ষোড়শ শতাব্দীর শেষভাগ থেকে । কথিত আছে, আত্মারাম ব্রহ্মচারী নমে এক দলছুট সন্ন্যাসী বিভিন্ন জায়গা ঘুরে কালীঘাট অঞ্চলে এসে নির্জন বনের মধ্যে পর্ণকুটির তৈরি করে বসবাস আরম্ভ করেন । তিনি একটি বড় পাথরখণ্ডকে কালীরূপে পুজো করতেন! পরে ব্রহ্মানন্দ গিরি নমে আর এক সন্ন্যাসীও সেখানে আসেন । ওই দুই সন্ন্যাসী মিলে সংলগ্ন কুণ্ড থেকে একটি ছোট পাথরখণ্ড খুঁজে পান, যেটিকে তাঁরা পুরাণকথার সতীর দক্ষিণ পদের কনিষ্ঠ অঙ্গুলি বলে দাবি করেন এবং সেটিকে কালী রূপে পুজো করা বড় পাথরটির নিচে স্থাপন করে দেন।

সতীপীঠ হিসেবে কালীঘাটের পরিচিতির সূচনা তখন থেকেই । আত্মারাম ও ব্রহ্মানন্দের পর থেকে দীর্ঘকাল কালীঘাটের কালীমূর্তির সেবা ও পুজোর ভার ছিল মূলত সন্ন্যাসীদের হাতেই । তাঁরা শৈব গোষ্ঠীর উপাসক কিন্তু তন্ত্রমতে শক্তির উপাসনাও করতেন । ইতিমধ্যে শক্তিপীঠ হিসেবে কালীঘাট যথেষ্ট পরিচিত হয়ে উঠেছে ভারতের মধ্যে ।

অনুমান করা হয় প্রথম মন্দির তৈরি হয়েছিল তান্ত্রিক সন্ন্যাসীদের উদ্যোগেই । ষোড়শ শতাব্দীতে যশোরের রাজা বসন্ত রায় একটি ছোটো মন্দির নির্মাণ করিয়ে দেন । বর্তমান মন্দিরটি নির্মিত হয়েছে সাবর্ণ রায়চৌধুরী বংশের সন্তোষ রায়চৌধুরীর উদ্যোগে, হাটখোলা দত্ত পরিবারের কালীপ্রসাদ দত্তের মাতৃশ্রাদ্ধের ব্রাহ্মণ বিদায়ের টাকায় । এ নিয়ে একটি কাহিনি রয়েছে ।

হাটখোলা দত্ত পরিবারের সন্তান কালীপ্রসাদ দত্ত ছিলেন সেকালের একজন 'বাবু' । গানবাজনা, মাছধরা, উপপত্নী-গমন, মদ্যপান-সহ বাবুগিরির সব গুণাবলীই ছিল তাঁর মধ্যে । দোষের মধ্যে তাঁর এক উপপত্নী বিবি 'আনার' ছিলেন ধর্মে মুসলিম । তিনি ওই উপপত্নীর বাড়িতে থাকতেন ।

সে যুগের নিরিখে মুসলিম উপপত্নীর বাড়ি থাকা-খাওয়ার কারণে স্বাভাবিকভাবেই রক্ষণশীল হিন্দু সমাজ তাঁকে জাতিচ্যুত ঘোষণা করে । সমস্যা তৈরি হল কালীপ্রসাদের মায়ের মৃত্যুর পর । সেই সময়ে কলকাতার কায়স্থ সমাজের এক পক্ষের প্ররোচনায়, যবন নারীগমনের অভিযোগে এক দল ব্রাহ্মণ তাঁর মায়ের শ্রাদ্ধে উপস্থিত থাকতে অস্বীকার করে । কালীপ্রসাদ তখন কলকাতার কায়স্থ সমাজের অন্য এক পক্ষের নেতা রামদুলাল সরকারের সাহায্য প্রার্থনা করলে তিনি বড়িশার সাবর্ণ রায়চৌধুরী বংশের তৎকালীন জমিদার সন্তোষ রায়চৌধুরীকে অনুরোধ করেন শ্রদ্ধানুষ্ঠানের জন্য ব্রাহ্মণ জোগাড় করে দেবার জন্য ।

সন্তোষ রায়চৌধুরী নিজের প্রভাব খাটিয়ে স্বদলভুক্ত এক দল ব্রাহ্মণ নিয়ে শ্রাদ্ধবাসরে উপস্থিত হয়ে কালীপ্রসাদকে মাতৃদায় থেকে মুক্ত করেন । কৃতজ্ঞতা স্বরূপ কালীপ্রসাদ ব্রাহ্মণ বিদায় বাবদ পঁচিশ হাজার টাকা দেন সন্তোষ রায়চৌধুরীকে । কিন্তু বদনামের ভয়ে বা অন্য কোনও কারণে ব্রাহ্মণেরা ওই টাকা নিজেরা গ্রহণ না করে সিদ্ধান্ত নেন যে কালীঘাটের নতুন মন্দির নির্মাণে ওই টাকা ব্যয় করা হবে । সেই সিদ্ধান্ত অনুসারে কালীপ্রসাদ দত্তের মাতৃশ্রাদ্ধের ব্রাহ্মণ বিদায় বাবদ পঁচিশ হাজার টাকা দিয়ে কালীঘাটের বর্তমান মন্দিরটি তৈরি আরম্ভ হয়, কাজ শেষ হয় ১৮০৯ খ্রিস্টাব্দে । তারপর থেকে ভারতের বহু ধনাঢ্য রাজা-জমিদার কালীঘাট মন্দিরের উন্নতিসাধনে অর্থব্যয় করেন । তাঁদের মধ্যে গোরক্ষপুরের টীকা রায়, শ্রীপুরের জমিদার তারকচন্দ্র চৌধুরী, জোড়াসাঁকোর রামচন্দ্র পাল, তেলেনিপাড়ার জমিদার কাশীনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়, হুজুরিমল্ল, গোবর্দ্ধনদাস আগরওয়াল প্রমুখ উল্লেখযোগ্য ।

কালীপ্রসাদ দত্তের টাকায় সাবর্ণ রায়চৌধুরীদের আনুকুল্যে মন্দির তৈরি হলেও সেই সময়ে অন্যান্য শৈব ও শক্তি পীঠগুলির অনুসরণে কালীঘাটেও মন্দিরের সেবা, পুজো ও রক্ষণাবেক্ষণের ভার ছিল সংসারত্যাগী সন্ন্যসীদের হাতে । কিন্তু সন্ন্যসীদেরও সংসার হয়, হয় সন্তানাদিও । ভুবনেশ্বর গিরি নামে তেমনই এক তান্ত্রিক সেবায়েতের ঔরসে তাঁর ভৈরবী যোগমায়ার গর্ভে উমা নামে এক কন্যা জন্মায়! ওই উমাকে কেন্দ্র করেই পাল্টে যায় কালীঘাটের সেবাপুজোর ইতিহাস ।

যশোহরের জনৈক পৃথ্বীধর চক্রবর্তীর ছেলে ভবানীদাস তাঁর হারিয়ে যাওয়া বাবার খোঁজে ঘুরতে ঘুর্তে কালীঘাটে এসে উপস্থিত হন । ভবানীদাস আসলে ছিলেন কৃষ্ণের উপাসক, কিন্তু কিংবদন্তি বলে, তিনি নাকি সাক্ষাৎ কালীর দর্শন পেয়েছিলেন এবং সেই কারণে তিনি কালীঘাটেই থেকে যান এবং নিজের ইষ্ট দেবতা বিষ্ণুর পাশাপাশি কালীরও উপাসক হয়ে ওঠেন।

বৈষ্ণব ভবানীদাসের কালীর পুজোয় নিষ্ঠা দেখে ভবানীদাস বিবাহিত হওয়া সত্ত্বেও ভুবনেশ্বর গিরি তাঁর সঙ্গে নিজের মেয়ে উমার বিয়ে দিলেন এবং তাঁকেই করে গলেন কালীঘাট মন্দিরের ভবিষ্যত উত্তরাধিকারী । সেই থেকে সন্ন্যাসীদের যুগের অবসান হয়ে, কালীঘাটের দেবী দক্ষিণাকালীর সেবাপুজোর ভার অর্পিত হল গৃহস্থ-সেবাদাস ভবানীদাস চক্রবর্ত্তীর হাতে । সেই শুরু । কালীঘটের আজকের সেবায়েত হালদার পরিবার ওই ভবানীদাসেরই উত্তরপুরুষ ।

ভবানীদাস ছিলেন বিষ্ণুর উপাসক! যশোহর জেলার খনিয়ান গ্রামে ছিল তাঁর কুলদেবতা বাসুদেবের বিগ্রহ। তাঁর অনুপস্থিতিতে গ্রামের বাড়িতে তাঁর প্রথম পক্ষের স্ত্রী-পুত্রেরাই দেখাশোনা করতেন সেই কুলদেবতার । ভুবনেশ্বর গিরির কাছ থেকে কালীঘাটের মন্দিরের সব দায়িত্ব পাওয়ার পরে তিনি গ্রামে গিয়ে প্রথম পক্ষের স্ত্রী ও দুই ছেলেকে নিয়ে এলেন কালীঘাটে ।

সেই সঙ্গে নিয়ে এলেন বাসুদেবের বিগ্রহকেও। এবং শুধু তাই নয়, সেই বিগ্রহকে তিনি প্রতিষ্ঠা করলেন দক্ষিণাকালীর মূর্তির ঘরেই! একই সঙ্গে কালী ও কৃষ্ণের পুজো চলতে লাগল । আর ওই বিষ্ণুভক্ত কালীসেবক ভবানীদাসই প্রথম কালীর নাসিকাগ্রে এঁকে দেন বৈষ্ণবীয় তিলক । সেই প্রথা বজায় আছে আজও । এছাড়া কালীপুজোর দিন কালীঘাটে লক্ষ্মীপুজোর প্রবর্তনও তিনিই করেন । তখন থেকে দীপান্বিতার সন্ধ্যায় এই পুজো হয় ।

কালীপুজোয় তারাপীঠে মা তারা 'তারা অঙ্গে কালী'রূপে পূজিত হন:

যে দিকে তাকানো যায়, শুধুই পুণ্যার্থীদের ভিড়। কচিকাঁচা থেকে বয়স্ক, কে নেই সেই ভিড়ে! সকাল থেকে পুজো দেওয়ার জন্য ঠায় দাঁড়িয়ে লোকজন। বেলা গড়াতেই বাড়ছে ভক্তদের ভিড়। কিন্তু কারও মুখে বিরক্তির লেশমাত্র নেই।

তারাপীঠের এমনই মহিমা। ফি-বছর কালীপুজোয় বীরভূমের এই পুণ্যতীর্থে কালীপুজোর সময় যে ছবিটা চোখে পড়ে, সকাল থেকেই মন্দির চত্বর গমগম করে উঠেছে আগত পুণ্যার্থীদের উৎসাহ-উন্মাদনায়।

কালীঘাট ও তারাপীঠের কালীপুজোর ভিন্ন বৈশিষ্ট!

স্বয়ং মা তারার অবস্থান যেহেতু তারাপীঠে, তাই মন্দির সংলগ্ন এলাকায় কেউই মূর্তি গড়ে দুর্গা বা কালীর আরাধনা করেন না। বারোয়ারি প্রচলনও নেই। কালীপুজোয় মা তারা 'তারা অঙ্গে কালী'রূপে পূজিত হন। হাজার হাজার ভক্ত ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সমাগমে তারাপীঠ মন্দির ভরে ওঠে। সকলে আলোর উৎসবে মেতে ওঠেন। মহাশ্মশান থেকে শুরু করে মন্দির লাগোয়া লজ বা হোটেলসবই সেজে ওঠে আলোকমালায়।

প্রতিদিনের মতোই এ দিনও ভোর ৪টে সময় মা তারার স্নানপর্ব সমাপ্ত হয়। স্নানের পরে মা তারাকে রাজবেশ পরিয়ে রাজেশ্বরী রূপে সাজানো হয়।

স্থানীয় খরুন গ্রামের শোলা শিল্পীদের তৈরি ডাকের সাজে সন্ধ্যারতির পরে মা তারাকে সাজানো হয়।

কালীপুজোর দিন মাকে দেওয়া হয় 'রাজকীয় ভোগ।' সকালে দেবীকে তিন রকম অন্নভোগ দেওয়া হয়- পোলাও, খিচুড়ি এবং সাদা অন্ন। সঙ্গে থাকে পাঁচ রকম ভাজা, তিন রকম তরকারি। চারাপোনা, কাতলা, রুই-সহ বিভিন্ন মাছের ভোগ থাকে। তান্ত্রিক মতে নিবেদিত বলির পাঁঠার মাংস, কারণ বারি সহযোগে নিবেদিত হয়। আর থাকে পায়েস, চাটনি, দই, আর পাঁচ রকম মিষ্টি। রাতে খিচুড়িই প্রাধান্য পায়।

চাল-ডাল মিলিয়ে প্রায় দেড় কুইন্টাল, ১০টি বড় হাঁড়িতে রান্না হয়। করলা, বেগুন, আলু, এমন পাঁচ রকম সব্জির ভাজা, তরকারি, শোল মাছ পোড়া, ও বলি-দেওয়া পাঁঠার মাংস। সঙ্গে পাত্রে থাকে কারণবারি। মন্দির কর্তৃপক্ষ যেমন ভোগ নিবেদন করেন, তেমনই ভক্তেরাও তাঁদের ইচ্ছেমতো সব্জি, মাছ, মাংসের ভোগ নিবেদন করেন তারা মাকে।

তারাপীঠ মন্দিরের ভোগ রান্না করছেন বংশপরম্পরায় ময়ূরেশ্বর থানার দক্ষিণগ্রামের কয়েকটি পরিবারের সদস্যরা। তাঁদের সঙ্গে থাকেন তারাপীঠের মন্দিরের সদস্যরা। কালীপুজোর ভোগের রান্না করেন এঁরা জনা পনেরো ব্যক্তি। ভোর থেকে দুপুরের ভোগ রান্না শুরু হয়, আর দুপুরের পরেই শুরু রাতের ভোগের রান্না। ভোগগৃহ, নাটমন্দিরে বসে প্রসাদ খান সহস্রাধিক ভক্ত। আরও অনেক প্রসাদ নিয়ে বাড়িতে গিয়ে খান।

তারাপীঠের খুব কাছেই উদয়পুর গ্রামে কালীপুজো উপলক্ষে তারাপীঠ মন্দিরের সেবায়েতদের বার্ষিক ও মানসিক পুজো নিবেদন করা হয়। এর জন্য উদয়পুরে কালীপুজোর পরের দিন অধিকাংশ সেবায়েত ভিড় করেন। উদয়পুরের কালীপুজো ঘিরে গ্রামীণ মেলাও বসে। সংলগ্ন দেখুড়িয়া গ্রামের কালীপুজোও অতি প্রাচীন।

নলহাটিতে নলাটেশ্বরী মন্দির ও আকালিপুর মন্দিরে কালীপুজো উপলক্ষে বিশেষ পুজোর প্রচলন আছে। নলাটেশ্বরী মন্দির কমিটির উদ্যোগে এ বার কালীপুজোর সন্ধ্যায় মন্দির প্রাঙ্গণে আলো ও ধ্বনির মাধ্যমে জীবন্ত কালী ও রামকৃষ্ণ দেখানো হয়েছে দর্শনার্থীদের। অন্য দিকে, মুরারইয়ের জাজিগ্রামে কালীপুজো ঘিরে প্রবন উৎসাহ-উন্মাদনা থাকে প্রতি বছর।

বস্তুত কালীপুজোই সেখানকার প্রধান উৎসব। বীরভূমের সীমান্তে ঝাড়খণ্ডের শিকারিপাড়া থানার মলুটি গ্রামের কালীপুজো ঘিরে রামপুরহাট-সহ জেলার মানুষের উন্মাদনা লক্ষ করা যায়।

More astrology NewsView All

English summary
Different way of Kali Puja in Kalighat and Tarapith
For Daily Alerts

Oneindia - এর ব্রেকিং নিউজের জন্য
সারাদিন ব্যাপী চটজলদি নিউজ আপডেট পান.

Notification Settings X
Time Settings
Done
Clear Notification X
Do you want to clear all the notifications from your inbox?
Settings X
We use cookies to ensure that we give you the best experience on our website. This includes cookies from third party social media websites and ad networks. Such third party cookies may track your use on Oneindia sites for better rendering. Our partners use cookies to ensure we show you advertising that is relevant to you. If you continue without changing your settings, we'll assume that you are happy to receive all cookies on Oneindia website. However, you can change your cookie settings at any time. Learn more