মায়ের ভোগের প্রসাদ খেয়ে যেত বাঘ, ঘুরে আসুন কলকাতার কাছেই নির্জন সেই জঙ্গল থেকে
বীরভমের মধ্যেই রয়েছে এক রহস্যে ঘেরা জঙ্গল। ১ দিনের ছুটিতে বেড়িয়ে আসুন দ্বারবাসিনী থেকে
দোল এগিয়ে আসছে। সেই ছুটিতে অনেকেই হয়তো শান্তিনিকেতনে পাড়ি দেবেন। কিন্তু জানেন কি এই শান্তিনিকেতনের কাছাকাছিই রয়েছে একটি অফবিট ট্যুরিস্ট ডেস্টিনেশন তার নাম দ্বারবাসিনী। কামাখ্যার পরেই তন্ত্রসাধনার পিঠস্থান বলতে একবাক্যে বীরভূমের নাম করে থাকেন সকলে। শুধু বীরভূমেই রয়েছে ৫টি সতীপিঠ। এই দ্বারবাসিনী সতীপিঠ না হলেও এখানকার মায়ের মন্দির কম জাগ্রত নয়। সব থেকে ভাল হল এর অবস্থান।

বীরভূমের সতীপিঠ
৫১ টি সতীপিেঠর মধ্যে কেবল বীরভূমেই রয়েছে ৫টি সতীপিঠ। কঙ্কালিতলা, বক্রেশ্বর, ফুল্লরা, নলাটেশ্বরী, নন্দীকেশরী। বীরভূমকে সেকারণে পঞ্চপিঠ স্বর বলা হয়ে থাকে। এছাড়াও রয়েছে একাধিক মন্দির। তারাপিঠের কথা তো অজানা নয়। আরও একটি মন্দির রয়েছে সেটি দেবী দ্বারবাসিনীর। দ্বারকেশ্বর নদীর তীরে রয়েছে দেবী দ্বারবাসিনীর মন্দির। গণপুর জঙ্গলের কাছেই মহম্মদ বাজারের কাছে রয়েছে এই মন্দির।

দ্বারবাসিনীর রোমাঞ্চ
দ্বারকেশ্বর নদের পাশেই জঙ্গলের মধ্যে রয়েছে দেবী দ্বারবাসিনীর মন্দির। গণপুরের পাশে হিংলোয় রয়েছে সেই মন্দির। বহু বছরের পুরনো এই মন্দির। দেবী দ্বারবাসিনীকে ঘিরে রয়েছে অনেক রহস্য। মন্দিরের কাছেই রয়েছে জাড়খণ্ড। নদী পেরোলই ঝাড়খণ্ড। সেখান থেকে অনেকেই আসেন এই মন্দিরে পুজো দিতে। সতীপিঠের সঙ্গে এই দ্বারবাসিনীর অনেক সামঞ্জস্য রয়েছে। এই মন্দিরে সরস্বতী এবং গণেশেরও অবস্থান রয়েছে। রয়েছে পাল ও সেন যুগের একটা মূর্তিও রয়েছে।

ঐতিহাসিক কাহিনী
মল্লরাজাদের আমলেই নাকি তৈরি হয়েছিল এই দ্বারবাসিনী এই মন্দির। যাদের নামেই মল্লারপুরের নামকরণ হয়। এই মন্দিরের কাছেই রয়েছে একটা শ্মশানও রয়েছে। এখানকার পুজারিরা বলে থাকেন এই মন্দিরের নাকি তান্ত্রিকের কাটা মুন্ডুর রক্ত দিয়েই নিত্য েসবা হবে। সেই সতই নাকি মন্দিরের পিছনে একটি ধারা প্রবাহিত হয়। সেই ধারার জলের রং এখনও লাল। অর্থাৎ জল রক্তাভ। সেই জল দিতেই নিত্যপুডো হয়ে থাকে।

কীভাবে আসবেন
এখানে আসতে হলে সকালের দিকেই আসতে হবে। বিকেল চারটের পর আর কেউ আসতে সাহস পাননা। সকাল থেকে মন্দিরে পুজো দিতে আসেন সকলে। প্রতিবছর মকর সংক্রান্তির দিনে এখানে মেলা হয়। দ্বারকা নদে মকরস্নান করা হয় মায়ের। এখানে কিন্তু কালীরূপে নয় দুর্গারূপে পুজিত হন। শান্তিনিকেতন বেড়াতে এসে অনায়াসে এখানে চলে আসতে পারেন সকলে।
ছবি সৌ:মানাস বাংলা/ইউটিউব












Click it and Unblock the Notifications