Travel: শীতে পশ্চিমে হাওয়া বদলে যেতে চান, ঘুরে আসুন কলকাতার কাছেই এই টাইগার রিজার্ভ ফরেস্টে
পশ্চিমে হাওয়া বদল করতে যাওয়ার রীতি অনেক কাল আগে থেকেই বাঙালির রয়েছে। বিভূতিভূষণ, শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায় এমন অনেক লেখক রয়েছেন যাঁদের লেখায় বারবার ঘুরে ফিরে এসেছে পশ্চিমের কথা।
পশ্চিম বলতে সেসময় বলা হতো বিহারের কথা। এখন অবশ্য সেসব জায়গা ঝাড়খণ্ডের মধ্যে পড়ে। সেখােন অনেক বাঙালি বড়লোকদের বাংলো বাড়িও রয়েছে। শীতে এমনই পশ্চিমের কোনও জায়গায় বেড়াতে যেতে হলে ঘুরে আসুন পালামৌ। পালামৌয়ের সঙ্গে বাঙালির পরিচিতি করিয়ে দিয়েছিলেন বিভূতি ভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়।

পালামৌয়ের সেই জঙ্গল হয়ে উঠতে পারে আপনার সপ্তাহান্তে বেড়ানোর জায়গা। পালামৌয়ে আবার টাইগার রিজার্ভ ফরেস্টও রয়েছে। কাজেই এবার সুন্দরবন না গিয়ে পালামৌ টাইগার রিজার্ভের প্ল্যানিং করে ফেলুন। ঝাড়খণ্ড সরকারের বনবিভাগের ওয়েবসাইটে অনলাইনে করা যায় বুকিং।
ব্রিটিশ সায়েবদের বাংলো রয়েছে এই টাইগার রিজার্ভের ভেতরে। সেখানেই পর্যটকদের থাকার জায়গা। টাইগার রিজার্ভের গেট পর্যন্ত আসলে সেখান থেকে বনদফতরের গাডি নিয়ে যাবে বাংলো পর্যন্ত। রয়েছে ট্রি হাউসও। এখানে কিন্তু বিদ্যুতের কোনও সংযোগ নেই। রাত আটটা পর্যন্ত জ্বলে সোলার লাইট। তারপরে মোমবাতির আলোই ভরসা এই পালামৌ টাইগার রিজার্ভের মারামোর বনবাংলোয়।
এই বাংলোতে নাকি সাহিত্যিক বুদ্ধদেব গুহ বেশ কয়েকবার থেকে গিয়েছেন। বাংলোর বারান্দায় তাঁর ছবিও দেখতে পাবেন। চারিদিকে ঝকঝকে রোদ। লাল মাটির উঠোন। চারিপাশে পাঁিচল দিয়ে ঘেরা। দিনের বেলাতে বেশ গা ছমছম করে। একেবারে প্রকৃতির মাঝে নিভৃতে সময় কাটানোর আদর্শ জায়গা।
সন্ধে বেলা থেকে বন্ড ফায়ারে মুরগির ঝলসানো মাংস তার সঙ্গে জঙ্গলের রোমহর্ষক সব গল্প শোনা যায় এখানকার কেয়ারটেকার এবং দারোয়ানদের কাছে। সোলার ল্যাম্পের আলোয় ডিনার। সেএক অদ্ভুত রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা হবেই। দিনের বেলায় ঘুরে নিতে পারেন জঙ্গলের ভেতরের বেশ কিছুটা জায়গা। মাঝে মাঝেই পড়বে আদিবাসীদের গ্রাম।












Click it and Unblock the Notifications