Travel: টয়ট্রেনের কু ঝিক ঝিক শুনতে শুনতে বেড়িয়ে আসুন টুং- থেকে
প্যাচপ্যাচে ভ্যাপসা গরমে জেরবার দশা। তাপমাত্রা বলছে ৪০ ডিগ্রিতে চড়বে। এই পরিস্থিতিতে কলকাতা থেকে পালাতে পারলে ভাল হয়। একছুট্টে পাহাড়ে গেলে মন্দ হয় না। সপ্তাহান্তের ছুটিটা একটু বাড়িয়ে নিয়ে চলে আসুন একেবারে অপবিট নিরিবিলি একটা পাহাড়ি জায়গায়। যার নাম টুং।

পাহাড়ের কোলে অফবিট লোকেশন
উত্তরবঙ্গ মানেই হয় কাঞ্জনজঙ্ঘা না হল ডুয়ার্সের অরণ্য। এর বাইরে বড়বেশি কেউ ঘোরাফেরা করেন না। কিন্তু জানেন কি এই কাঞ্জনজঙ্ঘা েদখতে যাওয়ার পথেই পাহাড়ে কোলে লুকিয়ে রয়েছে মনোরম এক জায়গা। তার নাম টুং। সেই টুং দিয়ে কু ঝিক ঝিক টয় ট্রেন ছুটে চলে ঘুমের পথে। জঙ্গল ঝরনা, ঝোরা, আর সবুজ পাহাড়। তাতে অসংখ্য পাখ পাখালি। অদ্ভুত সুন্দর জায়গা এই টুং। এখানে গড়ে উঠেেছ এমন সব হোমস্টে দেখলে তাক লেগে যাবে।

টুংয়ের জঙ্গলের ইতিউতি
ছোট্ট নাম টুং। পাহাড়ি জঙ্গলে ঘেরা ছোট্ট গ্রাম। এই জঙ্গলের মধ্যে গড়ে উঠেছে এক অদ্ভুত সুন্দর হোম স্টে যার নাম টিয়েডি ফরেস্ট গার্ডেন। পাহাড়ের মাটির রাস্তা বেয়ে উঠে যেতে হয় একানকার ফরেস্ট হোমস্টের ছোট ছোট কটেজ। বাঁশ-কাছ দিয়ে তৈরি ছোট ছোট কটেজে যেন রঙের সমাহার। গাছের উপরে তৈরি কটেজ গুলি। এক কথায় ঝুলন্ত বাড়ি বললে ভুল হবে না। সারাদিন বই পড়ে আর পাখির ডাক শুনে কাটিয়ে দেওয়া যায় সারাটা দিন।

ইকো ফ্রেন্ডলি হোমস্টে
এই হোমস্টের প্রতিটি কটেজ তৈরি হয়েছে প্রাকৃতিক উপাদানে। বাঁশ, কাঠ, মাদুর, চাটাই দিয়ে। শীতে ঘর গরম রাখার জন্য প্রতিটি কটেজে রয়েছে পুখারি। প্রাচীন পাহাড়ি পদ্ধতির রুম হিটার বলা হয়। এই পুখারি সচরাচর এখন আর তেমন দেখা যায় না। কটেজের পিলারগুলি তৈরি হয়েছে বাঁশ দিয়ে। তার সঙ্গে ধাপে ধাপে পাথর দিয়ে গেঁথে তৈরি করা হয়েছে ভিত। রয়েছে ঝোলা বারান্দা। যেখানে দাঁড়ালে মনে হয় জঙ্গল চুঁয়ে দেখা যায়।

ডরমিটারিও রয়েথে এখানে
এই হোমস্টেতে আবার ডরমিটারির ব্যবস্থাও রয়েছে। বাঁশের তৈরি বাঙ্ক বেড বেশ অভিনব। একসঙ্গে অনেক জন এলে এই ডরমেটারিতে থাকতে পারেন। খুব বেশি ভাড়া লাগে না। সিঁড়ি দিয়ে ধাপে ধাপে নেমে গেলে জঙ্গল আরও গভীর হয়। এখানে মিটিং করার জন্য ব্যাঙ্কোয়েট হলও রয়েছে। যেখানে অনেকে একসঙ্গে বসে বৈঠক করতে পারেন। এই গ্রামের চাষিদের চাষ করা অরগ্যানিক ফসল বিক্রি করা হয়।

কুটির শিল্পের জিনিস
এখানে গ্রামের শিল্পীদের তৈরি কুটির শিল্পের জিনিসও এই সংস্থা বিক্রি করে। এখানে গ্রামের অনেকেই কাজ করতে আসেন। দার্জিলিংয়ের পথে থেকে একাধিক দোকান রয়েছে এই সংস্থার। সবকটিই মুগ্ধ করবে। টুং থেকে চার কিলোমিটার দূরেই রয়েছে মার্গারেট ডেক। চাবাগানের উপরে ভাসমান রেস্তরাঁ। অদ্ভুত সুন্দর এই জায়গা। একবার গেলে ভোলা কঠিন।
ছবি সৌ:ফেসবুক












Click it and Unblock the Notifications