জানেন কোন ঘাটে এসে ভিঁড়েছিল বেহুলা-লখিন্দরের ভেলা? কলকাতার কাছেই রয়েছে প্রাচীন বাংলার কাশী
কলকাতার কাছেই এইখানে গেলে চোখের সামনে ভেসে উঠবে মনসা মঙ্গলের সব কাহিনী
মনসা মঙ্গলের কাহিনি বেশিরভাগ বাঙালিরই জানা। তা আলাদা করে বলার প্রয়োজন নেই। কিন্তু জানেন কি লখিন্দরকে নিয়ে বেহুলার ভেলা কোন ঘাটে এসে ভিড়েছিল? সেই ঘাট কিন্তু রয়েছে কলকাতার একেবারে কাছেই। অনেকেই জানেন না সেখানকার কথা। একদিনের মধ্যেই বেড়িয়ে আসা যায় সেখান থেকে। সেখানে যমুনা আর সরস্বতী নদী এসেও মিশেছে।

কোথায় ভিঁড়েছিল বেহুলার ভেলা
সাপের দংশনের পর স্বামী লক্ষ্মীন্দরকে নিয়ে কলার ভ্যালায় ভেসেছিলেন বেহুলা। চাঁদ সদাগরের মত ধনীর পুত্রবধূ ছিলেন তিনি। সেই বেহুলার ভেলা ভিঁড়েছিল কলকাতার কাছেই এই ত্রিবেনী সঙ্গমে। যেখানে এক হয়ে গিয়েছে যমুনা এবং সরস্বতী নদী। এই ত্রিবেণীর ঘাটেই নাকি ছিল নেতাই ধোপানির ঘর। আগে বলা হত গঙ্গা-যমুনা-সরস্বতীর মিলন স্থল বলা হত এই ত্রিবেনীকে। সোজা নাকি এলাহাবাদ থেকে প্রবাহিত হয়ে আসত এই নদী।

এই নদীর ঘাটেই দেখা হয়েছিল নেতাই ধোপানির
মনসা মঙ্গল কাব্যে বলা হয়ে থাকে এই ত্রিবেনীর ঘাটেই নেতাই ধোপানির সঙ্গে দেখা হয়েছিল বেহুলার। নেতাই ধোপানি নাকি আশ্চর্য শ্রমতার অধিকারী ছিলেন। তিনি নাকি ভেলায় ভাসতে ভাসতে দেখেছিলেন ধোপানি তার শিশুর দুরন্তপনায় অতিষ্ট হয়ে তাকে মেরে ফেলে। তারপর কাপড় কেচে বাড়ি ফিের যাওয়ার সময় আবার সেই শিশুটিকে বাঁচিয়ে নিেয় ফিরে যায়। তিনিই পরামর্শ দিয়েছিলেন স্বর্গে গিয়ে তাঁর স্বামীর প্রাণ বাঁচিয়ে আনতে।

ত্রিবেনীর ঘাটেই রয়েছে সেই ধোপানির ঘর
এখনও ত্রিবেনী ঘাটে গেলে দেখা যাবে নেতাই ধোপানির ঘর। গাটের পাশে একটা ছোট্ট ঘরে রাখা থাকে একটি পাথর। সেই পাথরেই নাকি নেতাই ধোপানি কাপড় কাচতেন। এখানকার বাসিন্দারা এখনও সেই পাথরটিকে পুজো করেন। পর্যটকরা গেলেই দেখতে পাবেন নেতাই ধোপানির সেই ঘাট। এবং নেতাই ধোপানির কাপড় কাচার সেই পাথর।

প্রাচীন বাংলার কাশি
ত্রিবেনীকে প্রাচীন বাংলার কাশীও বলা হয়ে থাকে। কারণ এখানেই সাধর রাম প্রসাদ গান বাঁধতেন। তিন নদীর সঙ্গমস্থল ছিল এই ত্রিবেনী। এই ত্রিবেনীর ঘাটে স্নান করলে নাকি সাধকের মুক্তি প্রাপ্তি হয়। শুধু পৌরানিক যোগ নয় এই ত্রিবেনীর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে ব্রিটিশ আমলের ইতিহাসও। এখানে পর্তুগিজরাও জাহাজ নিয়ে এসেছিলেন। শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুও নাকি এই ত্রিবেনীতে এসেছিলেন। শিয়ালদহ থেকে কাটোয়া লোকালে করে আসতে হবে এই ত্রিবেনীতে। গাড়িতেও আসা যায়। খুব বেশি দূরে নয় কলকাতা থেকে। অনায়াসেই একদিনে ঘুরে যাওয়া যায়।












Click it and Unblock the Notifications