Bonedi Barir Durga Puja: সন্ধি পুজো হয় না তবে নবমীতে হয় 'সধবা পুজো', দেখে আসুন কলকাতার এই বনেদি বাড়ির পুজো
কলকাতার উৎপত্তির আগে থেকেই এখানে নাকি দুর্গাপুজো হতো। কলকাতা, সুতানুটি, গোবিন্দপুর এই তিনটি গ্রাম তখন ছিল। সেসময় বেহালায় এসে বসবাস শুরু করেছিলেন যশোরের জগৎরাম মুখোপাধ্যায়। তিনিই প্রথম ১৭৭০ সালে দুর্গাপুজো শুরু করেন।
তাঁর মেয়ের জেদেই প্রথম দুর্গাপুজো শুরু করেন তিনি। তাঁর মেয়ে জগৎত্তারাণী বায়না করেছিলেন পুজো করার তাঁর বায়নাতেই ঘটে দুর্গাপুজো শুরু করেন তিনি। প্রথম প্রথম ঘটে-পটেই পুজো শুরু হয়। তারপরেই জগৎরামের নাতি ঢাকার ঢাকেশ্বরীর মূর্তি দেখেই কলকাতার বাড়িতে সোনার দুর্গা তৈরির করার সিদ্ধান্ত নেন। তারপরে ১৮৮৯ সালে অষ্টধাতুর মূর্তিতে প্রাণ প্রতিষ্ঠা করে শুরু হয় পুজো। এই বাড়িতে তান্ত্রিক মতে পুজো হয়।

কিন্তু এই বাড়ির পুজোর একটি বিশেষত্ব হল এখানে সন্ধি পুজো হয় না। তার নেপথ্যে একটি কাহিনী রয়েছে। পরিবারের লোকেরা বলে থাকেন একবার দুর্গাপুজোর সময়ই সন্ধি পুজোর আগে একটি লাল শাড়ি পরা মেয়ে নাকি বাড়ির উঠোনে খেলা করছিল। সন্ধিপুজো শেষ হতেই তাঁর আর খোঁজ পাওয়া যায়নি। তবে মেয়েটির একটি শাড়ির টুকরো নাকি মূর্তির পাশে পাওয়া গিয়েছিল। সেই অলৌকিক ঘটনার পর আর এই বাড়িতে সন্ধিপুজো হয় না।
তবে নবমীর দিন এই বাড়িতে নাকি সধবা পুজোর রীতি রয়েছে। এদিন পরিবারের জ্যেষ্ঠা সধবা যিনি তাঁরই পুজো করা হয়। আর দশমীর সন্ধ্যায় পাঠ করা হয় বিশেষ স্তোত্র বটুক ভৈরব। তারপরে বাড়ির পুকুরেই ঘট বিসর্জন করে দুর্গাপুজোর সমাপ্তি হয়। এই বাড়িতে ভোগেও একটি বিশেষত্ব রয়েছে। মাকে নাকি পোড়া মাছের ভোগ দেওয়া হয়। সকালে খিচুড়ি আর দুপুরে ভাতের সঙ্গে পোড়া মাছ। বিজয়া দশমীর দিন পান্তা ভাত, কচুর ঘণ্ট, মাছপোড়া আর চালতার অম্বল ভোগ দেওয়া হয় মাকে। বিসর্জনের অনুষ্ঠানের আগে মাকে খাওয়ানো হয় থেঁতো পান।












Click it and Unblock the Notifications