মঙ্গল গ্রহে মানুষ পাঠাতে নাসা নিল নয়া পন্থা, চাঁদের অভিযানেও মিলবে সহায়তা
মঙ্গল গ্রহে মানুষ পাঠানোর পরিকল্পনা নিয়েছে নাসা। তার আগে নাসা নভশ্চরদের পাঠাবে চাঁদেও। সেই কাজ সাফল্যের সঙ্গে সম্পূর্ণ করতে নাসা নিল নয়া পন্থা। নতুন অফিস গড়ে মঙ্গল ও চাঁদে মানব অভিযানের পরিকল্পনা বাস্তবায়নে নামলেন নাসার জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা।
নাসা এই অফিস স্থাপন করেছে চাঁদ থেকে মঙ্গল অভিযানের জন্য। এই অফিসের নামকরণ করা হয়েছে নাসার মুন টু মঙ্গল প্রোগ্রামে অফিস। এই অফিস চাঁদ ও মঙ্গল গ্রহে এজেন্সির মানব মহাকাশযান পরিচালনায় সহায়তা করবে। নাসা চাঁদে ও মঙ্গলে বিভিন্ন অভিযান চালানোর জন্য এই পৃথক অফিস স্থাপন করল।

নাসার এই অফিস থেকে মূলত মানব মহাকাশযান মিশন চালানো হবে। ওয়াশিংটনে সদর দফতরে নাসা একটি নতুন চাঁদ থেকে মঙ্গল প্রোগ্রাম অফিস স্থাপন করেছে। নাসার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই অফিসটি চাঁদে প্রথম মানব অবতরণ-সহ বিভিন্ন সাহসী মিশন পরিচালনা করতে সহায়তা করবে। নতুন এই অফিসকে চাঁদে দীর্ঘমেয়াদী উপস্থিতি স্থাপনে সহায়তা করার দায়িত্বও দেওয়া হয়েছে।
জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা বলছেন, মুন টু মার্স প্রোগ্রাম অফিস হার্ডওয়্যার ডেভেলপমেন্ট মিশন ইন্টিগ্রেশন নাসার মহাকাশ অন্বেষণ পদ্ধতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ। এই মুন টু মার্স প্রোগ্রাম চাঁদ ও মঙ্গলে মানব অভিযানের ঝুঁকি কমানোর উপর ফোকাস করবে। তবে আরও অনেক কিছু কাজ করবে এই মিশন।
নাসার নয়া উদ্যোগ স্পেস লঞ্চ সিস্টেম রকেট, ওরিয়ন মহাকাশযান এবং আর্টেমিস প্রোগ্রামের গ্রাউন্ড সাপোর্ট সিস্টেম, মানুষের অবতরণ সিস্টেম, স্পেসসুট-সহ অনেক কাজ করবে। এটি মানব মঙ্গল অভিযানকে সমর্থন করার পাশাপাশি উন্নয়নের পরিকল্পনা এবং বিশ্লেষণের নেতৃত্ব দেবে।
নাসার নতুন অফিসের প্রথম প্রধান হিসেবে কাজ করবেন কমন এক্সপ্লোরেশন ডেভেলপমেন্টের ভারপ্রাপ্ত ডেপুটি অ্যাসোসিয়েট অ্যাডমিনিস্ট্রেটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করা অমিত ক্ষত্রিয়। ২০২২ সালে নাসা ৩০ দিনের জন্য মঙ্গল গ্রহে নভোচারী পাঠানোর প্রাথমিক পরিকল্পনা ভাগ করেছিল।
মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার লক্ষ্য ২০৩০-এর দশকের শেষের দিকে বা ২০৪০-এর দশকের প্রথম দিকে লাল গ্রহে মহাকাশচারীদের পাঠানো। এই মিশন নাসার কাছে চ্যালেঞ্জিং। যদি পর্যাপ্ত তহবিল পায় নাসা এবং প্রযুক্তি যথেষ্ট অগ্রসর হয়, তবেই পৃথিবী থেকে মঙ্গল গ্রহে মানব পাঠাতে সফল হবে তারা।
পৃথিবী থেকে মঙ্গল গ্রহে অবতরণের পর ফিরে আসতে ৫০০ দিনের বেশি সময় লাগবে। নাসা একটি হাইব্রিড রকেট স্টেজ ব্যবহার করে একটি বড় মহাকাশযান ব্যবহার করার কল্পনা করেছে এই অভিযানে। মঙ্গল অভিযানের জন্য ব্যবহৃত বৃহৎ মহাকাশযানটিকে একটি বাসস্থানের মতো হতে হবে, যাতে মহাকাশচারীরা পৃথিবী ছেড়ে যাওয়ার মুহূর্ত থেকে নীচের দিকে স্পর্শ করার সময় পর্যন্ত নিরাপদ থাকে।
প্রকৃত মিশন শুরু হওয়ার আগে নাসা একটি পৃথক রোবোটিক মিশন পাঠাবে, যা অনেক প্রয়োজনীয় সরবরাহ করবে। সরবহার করা হবে হার্ডওয়্যারও। তারা মঙ্গল গ্রহে নভোচারীদের অবতরণ না করা পর্যন্ত তাদের জন্য অপেক্ষা করবে ওই রোবোটিক মহাকাশযান। নভোচারীদের মঙ্গল গ্রহের পৃষ্ঠ থেকে নামতে এবং গ্রহের চারপাশে একটি কক্ষপথে যেতে সাহায্য করার জন্য এই উদ্যোগ।












Click it and Unblock the Notifications