আদিত্য এল১ও কি বিপদে পড়বে? ভয়াবহ সৌর ঝড়ে নাসার মহাকাশযানও সাংঘাতিক ক্ষতিগ্রস্থ
ভারতের প্রথম সৌরযান হিসেবে আদিত্য এল১ পাড়ি দিয়েছে সৌর-পথে। ইতিমধ্যে আদিত্য এল১ পৃথিবীর মায়া কাটিয়ে সূর্যের দিকে প্রসারিত হয়েছে। গতরাতেই রৃথিবীর পঞ্চম কক্ষপথ উত্থান সফলভাবে সম্পাদন হয়। কিন্তু এখ আশঙ্কার যে, ভয়াবহ সৌর ঝড়ের ফলে নাসার মহাকাশযান পার্কার সোলার প্রোব সাংঘাতিক ক্ষতির মুখে পড়েছে।
তবে কি নাসার মহাকাশযানের মতো মতো ইসরোর সূর্যযান আদিত্য এল১-ও বিপদের মুখে পড়তে পারে! সৌর ঝড়ের আঘাত লাগতে পারে আদিত্য এল১-এর উপর? তা যদি হয় ইসরোর সূর্য মিশনকে প্রভাবিত হতে পারে। নাসা বলেছে, বর্তমানে সোলার অ্যাক্টিভিটি অনেক বেড়েছে। তার ফলেই ক্ষতির আশঙ্কা থাকছে।

নাসা জানিয়েছে, সৌর ঝড় উচ্চ ফ্রিকোয়েন্সি-সহ চারদিক থেকে পৃথিবীতে আঘাত করছে। এটা শুধু পৃথিবী নয়, অন্য গ্রহও এই ধরনের প্রভাবের সাথে লড়াই করছে। তাই সূর্য অধ্যয়নের জন্য ইসরোর পাঠানো ভারতের আদিত্য এল-১ সমস্যায় পড়তে পারে।
গত বছরের পার্কার সোলার প্রোবের একটি সৌর ঝড়কে আঘাত করার যন্ত্রণাদায়ক ফুটেজ শেয়ার করেছে নাসা। মেঘের মধ্য দিয়ে ওড়ার সময় যখন একটি তীব্র করোনাল ভর ইজেকশন আঘাত করে, তখনকার ছবি শেয়ার করেছে নাসা। মার্কিন মহাকাশ সংস্থা সূর্যের বাইরের করোনা অধ্যয়নের জন্য ২-১৮ সালে পার্কার সোলার প্রোব পাঠিয়েছিল।
আমেরিকার পার্কার সোলার প্রোব এই সৌর ঝড় এড়াতে একরকম সফল হয়েছিল। তবে খানিক ক্ষতিও হয়েছিল নাসার যানের। ইসরোরর আদিত্য-ওল১ মিশনও কি একই কাজ করতে পারবে নাকি বিপদে পড়বে, তার উত্তর দেবে ভবিষ্যৎ।
পার্কার সোলার প্রোব মূলত দুটি কারণে নাসার দ্বারা চালু করা হয়েছিল। প্রথম কারণ, সিএমই গুলি আমাদের নক্ষত্রের চারপাশে কক্ষপথে থাকা গ্রহের ধূলিকণার সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারে এবং এটিকে বের করে নিতে পারে কিনা তা বোঝার জন্য। আর দ্বিতীয় কারণ হল-মহাকাশের আবহাওয়ার আরও ভাল পূর্বাভাস দেওয়ার জন্য৷
নাসার মহাকাশযান এমন একটি অগ্নিপরীক্ষার মুখোমুখি হয়েছিল এবং ঘটনা থেকে বেরিয়ে আসতে সক্ষম হয়েছিল৷ নিরাপদে এই পুরো প্রক্রিয়া চলাকালীন, এটি কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংগ্রহ করেছে। এই ধরনের সৌর ঝড় এর আগেও উপগ্রহ এবং মহাকাশযানকে প্রভাবিত করেছে।
এমন পরিস্থিতিতে ভবিষ্যতে ভারতের সৌর মিশন আদিত্য এল-১-এর ওপর এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যায় না। দুটি জিনিস ইসরোর মহাকাশযানকে এই ধরনের ঘটনা এড়াতে সাহায্য করতে পারে। নাসার পার্কার সোলার প্রোব সূর্যের খুব কাছাকাছি যাওয়ার জন্য ডিজাইন করা হয়েছিল। আর আদিত্য এল১-কে অনেক দূরে রাখা হয়েছে।
এটি পৃথিবী থেকে মাত্র ১৫ লক্ষ কিলোমিটার দূরে। আর দ্বিতীয় কারণটি হল ভারতীয় মহাকাশযানগুলিকে বিশেষ ধাতু এবং উপকরণ দিয়ে শক্তিশালী করা হয়েছে, যাতে তাদের অত্যধিক বিকিরণ, সিএমই মেঘ এবং অন্য যেকোন মহাকাশ-ভিত্তিক বিপদ থেকে রক্ষা করা যায়।












Click it and Unblock the Notifications